হামজার সঙ্গে খেলতে মুখিয়ে মাহি

সিনিয়র দলে অভিষেক হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য প্রবাসী মাহি খানের
ইংলিশ নন-লিগ ফুটবলে দারুণ ছন্দে থাকা ১৮ বছর বয়সী তরুণ ফরোয়ার্ড মাহি খানকে ঘিরে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অন্দরে প্রত্যাশার পারদ চড়তে শুরু করেছে। কোচ থমাস ডুলির নজরে আসা এই তরুণকে নিয়ে জাতীয় দলের প্রাথমিক স্কোয়াডে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল। অনেকেই মাহির সম্পর্কে জানতে চাইছেন। অন্যদিকে নিজেকে প্রমাণ করে মূল দলে জায়গা করে নেওয়ার চ্যালেঞ্জটাও নিতে চান মাহি, যাতে ছোটোবেলার আদর্শ হামজা চৌধুরীর সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগটা পান।
মোল্টন এফসি-র হয়ে চলতি মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৯ গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন মাহি। ৬ ফুট উচ্চতার (১.৮৩ মিটার) এই ডান পায়ের ফরোয়ার্ড মূলত সেন্টার-ফরোয়ার্ড হিসেবে খেললেও দুই উইংয়েও সমান পারদর্শী। আন্তর্জাতিক ফুটবলের গতি ও শারীরিক লড়াইয়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে তিনি জাতীয় দলের দীর্ঘদিনের গোলখরা কাটাতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে কোচ থমাস ডুলির স্কোয়াডে মাহি খানের অন্তর্ভুক্তি আক্রমণভাগে নতুন বিকল্প ও গতি এনে দেবে বলেই বিশ্বাস ফুটবল বিশ্লেষকদের।
ইংল্যান্ডের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং বেড়ে ওঠা ১৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ মাহি খানের ফুটবলীয় যাত্রার সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে ব্রিটিশ ফুটবলের তৃণমূল স্তর। বর্তমানে তিনি খেলছেন ইংলিশ ফুটবল লিগ সিস্টেমের নবম স্তর তথা ইউনাইটেড কাউন্টিজ লিগ প্রিমিয়ার ডিভিশন সাউথের ক্লাব মোল্টন এফসি-র হয়ে। দু’মাস আগে এশিয়ান কাপ অনূর্ধ্ব-২০ বাছাইয়ের দলে মাহির সুযোগ হয়েছিল। তবে সে যাত্রায় ভালো করতে পারেননি। তবে দলের আক্রমণভাগের সংকট কাটাতে কোচ থমাস ডুলি কয়েকজন ফুটবলারকে সামনে থেকে পরখ করতে চাইছেন, তাদেরই একজন মাহি খান।
মাহি এখন দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলের মঞ্চ মাতাতে পুরোপুরি প্রস্তুত, ‘আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি নিজে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি আমার পরিবারের সবাইও ভীষণ খুশি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সাফ শিরোপাও জিতব।’
গোল করে দলকে সমর্থন দেওয়ার ব্যাপারেও বেশ সিরিয়াস মাহি, ‘আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। এখানে ক্যাম্পে আসার আগেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই ইনশাআল্লাহ আমি গোল করতে পারব। কোচ আমার কাছে কী প্রত্যাশা করছেন তা আমি স্পষ্ট জানি। মাঠে কোচের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব এবং আশা করি গোল পাব।’
নাম্বার নাইন পজিশনে খেলা একটু হলেও চাপের। তবে মাহি সেই চাপ সামলে সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিতে বেশ প্রত্যয়ী, ‘কিছুটা চাপ তো থাকবেই। তবে আমার একমাত্র লক্ষ্য মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দেওয়া। নিজের ওপর এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর আমার পুরো আস্থা আছে, তাই খুব একটা নার্ভাস নই। একাদশে সুযোগ পেলে সেরা পারফরম্যান্সটাই উপহার দিতে চাই।’
হামজা চৌধুরীর সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সুযোগটা কাজে লাগাতে চান মাহি, ‘আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। ছোটবেলা থেকেই লেস্টার সিটিতে হামজার খেলা দেখে আসছি, কারণ লেস্টার আমাদের বাসার কাছেই। সেই ছোটবেলা থেকে যাঁকে দেখে বড় হয়েছি, এখন তাঁর সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ এসেছে, এটি আমার জন্য বিশাল সম্মানের ব্যাপার। তিনি শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলেছেন এবং তাঁর প্রচুর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাব, তাই আবারও বলছি আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।’
এদিকে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়ে গুঞ্জন ও প্রত্যাশার ডানা মেলার এই যাত্রায় সাফের মূল দলে শেষ পর্যন্ত জিদান ইউসুফের জায়গা হবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।




