হেরেও ‘মরক্কোর’ মতো জিততে চায় লিটল ফ্রেন্ডস!

গোল বাতিলের প্রতিবাদ করে খেলতে অস্বীকৃতি জানান খেলাঘরের ফুটবলাররা। ছবি: মংগৃহীত
মরক্কোর মতো টেবিলে ম্যাচ জয়ের কৌশল নিয়েছে লিটল ফ্রেন্ডস। বাংলাদেশ চ্যাম্পিায়নশিপ লিগে তারা ম্যাচ হেরেছে ৫-১ গোলে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির কাছে।
এরপর টেনে এনেছে এফকন কাপের ফাইনাল, যেখানে মরক্কোকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেনেগাল শিরোপা জেতার পর হয়েছে অবিশ্বাস্য নাটক। ফাইনালে এক সময় সেনেগাল মাঠ ছেড়ে গিয়েছিল রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে। সেই অজুহাত তুলে মরক্কো আপিল করে এবং দুই মাস পর ফাইনালের ফল বদলে মরক্কোকে ৩-০ গোলে বিজয়ী ঘোষণা করে আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশন। এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা চলছে বিশ্বফুটবলে।
জলসিঁড়ি ফর্টিস গ্রাউন্ডে বৃহস্পতিবার খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতির বিপক্ষে ২৩ মিনিটে আলমগীরের গোলে এগিয়ে যায় লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব। তবে সেই গোল নিয়ে আপত্তি তোলেন খেলাঘরের ফুটবলাররা। গোল বাতিলের দাবি তুলে তারা মাঠ ছেড়ে যান। পরে রেফারির সিদ্ধান্ত মেনে খেলাঘর মাঠে ফেরত আসে ১৪ মিনিট পর এবং শেষমেষ বড় জয় পায়।
এগিয়ে গিয়েও বড় ব্যবধানে ম্যাচ হেরে লিটল ফ্রেন্ডস পড়েছে অবনমনের ঝুকিতে। ১০ দলের লিগে ১৩ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান নবম। তলানির চট্টগ্রাম আবাহনীর চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট বেশি।
ম্যাচ হারের পর লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমের খান আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন বাফুফের কাছে।
সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেওয়া অভিযোগ পত্রে লিখেছেন, ‘খেলায় লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব একটি গোল করলে ম্যাচ রেফারি সেটিকে বৈধ গোল হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। কিন্তু গোলটি দেওয়ার পর খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি প্রায় ১৪ মিনিট খেলা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। যা সম্পূর্ণভাবে খেলার নিয়মবহির্ভূত। পরবর্তীতে ওই দল পুনরায় খেলা শুরু করে এবং খেলার ফলাফল তাদের অনুকূলে নিয়ে যায়। ফুটবলের আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল খেলা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা অথবা সংশ্লিষ্ট দলের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিধান রয়েছে। দোষীদের শাস্তির পাশাপাশি ম্যাচের ফলাফল পুনর্বিবেচনা করার জন্যও বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক আমির বক্স মন্ডল ফিফা ও বাফুফের বাইলজ মেনে খেলাঘরের জয় বাতিল করে মরক্কোর মতো জিততে চাইছেন, 'আন্তর্জাতিক ফুটবলের আইন অনুযায়ী, কোনো দল রেফারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে সেই দলকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। প্রতিপক্ষকে ৩-০ গোলে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।’

