৫ গোল খেল সালাহর দল, কোচের তাৎক্ষণিক পদত্যাগ

লিভারপুল ছেড়ে তুরস্কে পাড়ি জমানোর পর থেকেই দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন মোহামেদ সালাহ। বিব্রতকর পরাজয়ে উয়েফা ইউরোপা লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে তার ক্লাব ট্রাবজোনস্পুর। হাঙ্গেরিয়ান ক্লাব ফেরেন্সভারোসের কাছে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে তারা। এই চরম ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে লাইভ চলাকালীন টিভি ক্যামেরার সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন কোচ ফাতিহ তেক্কে।
হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে শুরু থেকেই কোণঠাসা ছিল ট্রাবজোনস্পুর। প্রথম লেগের ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা তুর্কি দলটির ঘুরে দাঁড়ানোর সব আশার আলো নিভে যায় ম্যাচের শুরুতেই। আয়ারল্যান্ডের উইঙ্গার ক্যালাম ও'ডাউডার দুর্দান্ত হেডে ফেরেন্সভারোসকে এগিয়ে দেন। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে ট্রাবজোনস্পুরের রক্ষণভাগ।
পাঁচ মিনিটের এক ঝড়ে জোড়া গোল হজমের পাশাপাশি একটি লাল কার্ডও দেখে ট্রাবজোনস্পুর। ফ্রি ট্রান্সফারে ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর এটি ছিল সালাহর তৃতীয় ম্যাচ। তবে দলের এমন বিপর্যয় আটকাতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী মিসরীয় ফরোয়ার্ড। ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে তাকে তুলে নেন কোচ। শেষ পর্যন্ত হাঙ্গেরিয়ান প্রতিপক্ষের কাছে ৪-০ গোলের বড় জয় হজম করে মাঠ ছাড়তে হয় তাদের।
এই বিশাল পরাজয় মেনে নিতে পারেননি ট্রাবজোনস্পুরের কোচ ফাতিহ তেক্কে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। গত ১৮ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করা ৪৮ বছর বয়সী এই কোচ জানান, এই হার কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। লাইভ ক্যামেরার সামনে তেক্কে বলেন, ‘আমি অত্যন্ত সম্মানজনক একটি পদ থেকে পদত্যাগ করছি। আজকের এই পরাজয় সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দুর্ভাগ্য হতেই পারে, কিন্তু আমি এটি মেনে নিতে পারছি না। এই অনুভূতি নিয়ে আমি ঘুমাতে পারব না। সবাই আমাকে ক্ষমা করবেন।’
দলের লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনাকে বড় টার্নিং পয়েন্ট উল্লেখ করে তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটি আমাদের দেশের এবং ক্লাবের জন্য একটি দুঃখজনক রাত। লাল কার্ডের আগ পর্যন্ত ম্যাচটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। গত ১৮ মাস ধরে দিনরাত শুধু ভেবেছি, কীভাবে দলটিকে আরও ভালো করা যায়। এখন নিজেকে এই শাস্তি দেওয়ার অধিকার আমার আছে।’
ইউরোপার মঞ্চে ভালো করার লক্ষ্যেই বেশ বড় বিনিয়োগ করেছিল ট্রাবজোনস্পুর। মহাদেশীয় টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা দিতেই সালাহকে দলে ভেড়ানো হয়েছিল। এ ছাড়া দলটির শুরুর একাদশে ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে ধারে আসা গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা, সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার স্টেফান সাভিচ এবং সাবেক সাউদাম্পটন ফরোয়ার্ড পল ওনুয়াচুর মতো প্রিমিয়ার লিগের পরিচিত মুখেরা। কিন্তু এত তারকার সমাহার ঘটিয়েও হাঙ্গেরিয়ান প্রতিপক্ষের সামনে তারা উড়ে গেল।









