আগামীর সময়

নারী এশিয়ান কাপ

বাটলারের চোখে ‘ভাগ্যের জোরেই’ এখানে বাংলাদেশ!

বাটলারের চোখে ‘ভাগ্যের জোরেই’ এখানে বাংলাদেশ!

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের শেষটা ভালো হয়নি ঋতুপর্ণা চাকমাদের। ছবি: বাফুফে

টুর্নামেন্টের সময় যত গড়িয়েছে, মেয়েদের পারফরম্যান্স ততোই খারাপ হয়েছে। চীন, উত্তর কোরিয়ার পর উজবেকিস্তানের সঙ্গে যেখানে দুর্দান্ত লড়াই ও ইতিবাচক ফলের প্রতিশ্রুতি ছিল সেখানেই বরং বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ নারী দল।

এশিয়ান কাপে বি গ্রুপে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম‍্যাচটি টার্গেট করেছিল বাংলাদেশ। এ ম‍্যাচ জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখার সুযোগ খুঁজছিল তারা। পার্থে ৪-০ গোলে হেরে জলাঞ্জলি দিয়েছে সব প্রত্যাশা।

ম‍্যাচ হারের পর স্বাভাবিকভাবেই পিটার বাটলার হতাশ। এমন বড় হার প্রত্যাশিত ছিল না। ম‍্যাচ শেষে তাই বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ বাস্তবাদী হয়ে বলে ফেলেছেন এক কঠিন সত্যি, “আমরা এখানে এসেছি শুধুমাত্র ভাগ্যের জোরে। আমাদের অবশ্যই নিজেদের সঙ্গে সৎ থাকতে হবে --- আমরা আসলে একটা বড় ধাক্কা খেয়েছি এবং লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে পড়েছি। আমরা এই পর্যায়ে লড়াই করার মতো অবস্থায় ছিলাম না। এটাই রূঢ় বাস্তবতা।”

কোচ বোঝাতে চাইলেন বাংলাদেশ এখনো সাফের গন্ডি থেকে বের হওয়ার মতো শক্তি হয়ে ওঠেনি, “সবার আগে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে মেয়েদের ফুটবলে। ভিডিও ইকুইপমেন্ট এবং ক্যামেরা দিয়ে শুরু করতে হবে। নেপাল যথেষ্ট ভালো দল, ভারতও তাই। কিন্তু সত্যি বলতে। আপনি যদি বড় দলগুলোর সাথে পাল্লা দিতে চাইলে বুঝতে হবে যে সাফ-এর লেভেল থেকে এশিয়ান লেভেলটা অনেক উঁচুতে। সাফে আসলে আপনার সেভাবে পরীক্ষা হয় না।”

বাটলার বাংলাদেশের ফুটবলের অবকাঠামো। প্রস্তুতির সুযোগ সব কিছুর দিকেই আঙুল তুলেছেন। এমন অপ্রতুল সুবিধা নিয়ে কোন দল বিশাল স্বপ্ন দেখতে পারে না বলেও তিনি মনে করেন।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কোচের ব্যাখ্যা, “আমি ইংলিশ ফুটবলের প্রতিটি স্তরে কাজ করেছি, আমি বাস্তববাদী। আমি রূপকথার জগতে বাস করি না। আপনি যখন অন্য দেশগুলোর মতো সুযোগ-সুবিধা, ম‍্যাচ এবং প্র্যাকটিস ক্যাম্পের সুবিধা পাবেন না, তখন আপনি তাদের সাথে পাল্লা দিতে পারবেন না। ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম বা ভারত এই পর্যায়ে এমনি এমনি আসেনি। তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং ভালো খেলোয়াড় আছে।”তিনি পরোক্ষভাবে কাঠগড়ায় তুলেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে, যারা মেয়েদের ফুটবল এগিয়ে নেওয়ার কথা বলে খামতি রেখেছে অনেক।

নারী দলের সঙ্গে কাজ করা এই ইংলিশ কোচ বরাবরই ঠোঁটকাটা। সাদাকে তিনি সাদাই বলেন, আবার কালো দেখলে তুমুল সমালোচনায় ভাসিয়ে দেন। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নারী দলকে এশিয়ান কাপে তুলে এনে উপহার দিয়েছেন বড় সাফল্য। সেখানে টানা তিন ম্যাচ হারের পর পিটার বাটলারের পোস্টমর্টমে উঠে আসে দেশের নারী ফুটবলের রূঢ় বাস্তবতা।

    শেয়ার করুন: