ব্রাজিলিয়ান ম্যাজিকে পিএসজিকে স্তব্ধ করে দিল লিওঁ

গোলের পর ব্রাজিল তারকা এনদ্রিকের উদযাপন।
জাতীয় দলে সেভাবে না হলেও বিশ্বের বিভিন্ন লিগে পায়ের জাদু দেখিয়ে যাচ্ছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। এবার তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিকের জাদুতে পিএসজিকে ২-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে লিওঁ। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে হারিয়ে দিয়ে উড়ছিল পিএসজি। কিন্তু লিগ ওয়ানে ঘরের মাঠে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারল না লুইস এনরিকের দল।
পার্ক দে প্রিন্সেসে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলে পিএসজিকে চেপে ধরে লিওঁ। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো গ্যালারি। আফনসো মোরৈরার পাস থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন এনদ্রিক। পিএসজি গোলরক্ষক সাফোনোভের কিছুই করার ছিল না।
গোল খেয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও উল্টো ১৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে প্যারিসের জায়ান্টরা। এবার এনদ্রিক আবির্ভূত হন সহায়ক ভূমিকায়। তার দুর্দান্ত এক থ্রু বল ধরে ব্যবধান ২-০ করেন মোরৈরা। ম্যাচের ৩০ মিনিটে ম্যাচে ফেরার দারুণ এক সুযোগ পায় পিএসজি। লুকাস হার্নান্দেজ বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু স্পট কিক থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন গনসালো রামোস। তার দুর্বল শট অনায়াসেই রুখে দেন লিওঁ গোলরক্ষক ডমিনিক গ্রিফ।
বিরতির ঠিক আগে বড় ধাক্কা খায় পিএসজি। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার ভিতিনহা। প্রথমার্ধের শেষদিকে আবনের ভিনিসিয়াসের অ্যাক্রোবেটিক ভলি সাফোনোভ না ঠেকিয়ে দিলে বিরতির আগেই ব্যবধান ৩-০ হতে পারত।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান কমাতে মরিয়া লুইস এনরিকে বেঞ্চ থেকে মাঠে নামান খভিচা কাভারাটস্খেলিয়া, উসমান দেম্বেলে এবং লি কাং-ইনকে। কিন্তু লিওঁর জমাট রক্ষণভাগের সামনে বারবার খেই হারিয়েছে পিএসজির আক্রমণভাগ। ৫৫ মিনিটে মোরৈরার একটি জোরালো শট সাফোনোভ দারুণভাবে প্রতিহত না করলে হারের ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।
এই জয়ের ফলে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার দৌড়ে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল লিওঁ। অন্যদিকে, শীর্ষস্থানে থাকলেও দ্বিতীয় স্থানে থাকা লঁসের সঙ্গে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করল পিএসজি। ম্যাচের পর লিওঁ কোচ পাওলো ফনসেকা বলেন, ‘আমরা জানতাম এখানে জয় পাওয়া কঠিন, কিন্তু এনদ্রিক আজ যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। সে প্রমাণ করেছে কেন তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা প্রতিভা বলা হয়।’

