হলান্ডের গোল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ, ভুল স্বীকার রেফারির

ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে নাটকীয় ও বিতর্কিত এক হারে পুড়ল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটিতে আর্লিং হল্যান্ডের করা জয়সূচক গোলটি নিয়ে সৃষ্ট তীব্র সমালোচনার মুখে অবশেষে নিজেদের ভুল স্বীকার করেছে প্রিমিয়ার লিগের রেফারিং বডি ‘প্রো রেফ’। ম্যাচ চলাকালীন এনজো ফার্নান্দেজের অফসাইড পজিশন ও প্রভাব সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করাকে বড় ধরনের ‘বিচারিক ভুল’ হিসেবে অভিহিত করেছে তারা।
ম্যাচের ৬০ মিনিটে জোসকো গভার্দিওলের ক্রস থেকে ব্যাকপোস্টে বল জালে জড়িয়ে সিটিকে উল্লাসে মাতান আর্লিং হল্যান্ড। প্রথমে সহকারী রেফারি অফসাইডের পতাকা তুললেও ভিএআরের হস্তক্ষেপে গোলটি বহাল করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, প্যাট্রিক ডরগুর বুটের কারণে অনসাইড ছিলেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হল্যান্ড। তবে গোলপোস্টের ঠিক সামনে থাকা এনজো ফার্নান্দেজ অফসাইড পজিশনে থেকে বলের দিকে ডাইভ দেওয়ায় ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের ওপর তার প্রভাব নিয়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
ম্যাচ শেষে এক বিবৃতিতে ‘প্রো রেফ’ জানায়, “এটি নিশ্চিত করা গেছে যে এনজো ফার্নান্দেজ বলে স্পর্শ করেননি এবং সে কারণে অফসাইডের বিষয়টি একটি বিচার্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে এই ঘটনায় ভিএআর তার অবস্থানের সম্ভাব্য প্রভাব অনুধাবন করতে পারেনি এবং রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউ দেখার পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল।” সংস্থাটি আরও জানায়, ভুল স্বীকার করে ইতিমধ্যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি পর্যালোচনার আওতায় আনা হবে।
এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইউনাইটেড কোচ মাইকেল ক্যারিক ও ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। ক্যারিক হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “এটি খুবই উদ্বেগের বিষয় যে ফুটবলের বর্তমান ব্যাখ্যা এমন দাঁড়িয়েছে। যদি এটিকে খেলায় বাধা না দেওয়া বলে গণ্য করা হয়, তবে তা ফুটবলের জন্য সত্যিই চিন্তার বিষয়।” অন্যদিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজ একে ‘অবিচার’ উল্লেখ করে বলেন, প্রিমিয়ার লিগের মতো বড় আসরে বারবার এমন ভুল কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ওয়েন রুনি ও গ্যারি নেভিলের মতো সাবেক তারকারাও ভিএআর ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘হাস্যকর ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
এর আগে প্রথমার্ধেই ফিল ফোডেন সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ম্যানচেস্টার সিটি। ব্রুনো ফার্নান্দেসের সঙ্গে দ্বৈরথের জেরে ফোডেন লাল কার্ড দেখলে ম্যাচটি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তবে শেষ পর্যন্ত হল্যান্ডের ওই বিতর্কিত গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়, যা নিয়ে আগামী দিনগুলোতেও আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।



