ঢাকা সাফ
আরেক বর্মণেই ঘুঁচবে ২৩ বছরের আক্ষেপ?

রজনীকান্ত বর্মণ (বাঁমে), তপু বর্মণ (ডানে)
টুর্নামেন্টের আগের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে কোচ থমাস ডুলির সঙ্গে এলেন তপু বর্মণ। একটু বাদেই কোচ জানালেন, সাফে দলের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ এই সেন্টারব্যাক। আর্মব্যান্ড আগেও পড়েছেন, তবে সাফে এই প্রথম। তবে কি আরেক বর্মণের নেতৃত্বে ঘুঁচবে বাংলাদেশের ২৩ বছরের শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ?
ঢাকা স্টেডিয়ামে ২০০৩ সালে বসেছিল সাফের পঞ্চম আসর। ঘরের মাঠে প্রথম সাফে দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রজনীকান্ত বর্মণ। একের পর এক বাধা টপকে সেবার সোনার হাসি হেসেছিল বাংলাদেশ। এরপর থেকেই শুরু হয় অপেক্ষা। একে একে ৯ আসরে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।
শেষ চারটি সাফ খেলেছেন তপু নিজেও। ২০১৫ সালে কেরালায় সাফে অভিষেক হওয়া তপুকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে দলের রক্ষণভাগের অন্যতম আস্থায় পরিণত হয়েছেন তিনি। তপুর কার্যকারিতা কেবল রক্ষণ সামলানোর ভূমিকা দিয়েই বিচার করা যাবে না; বর্তমান জাতীয় দলের সর্বোচ্চ গোলদাতাও তিনি। সেটপিচের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের জার্সিতে করেছেন আট গোল। চোটের কারণে ফিফা আসিয়ান কাপ খেলেননি, তবে তার আগে সান মারিনোকে হারানোর নায়ক হয়েছিলেন জোড়া গোল করে।
গোল করার এই প্রবণতাই বাংলাদেশ দলে তপুর গুরুত্ব বাড়িয়েছে বহু গুণে। এর সঙ্গে আছে পেছন থেকে দলকে অনুপ্রাণিত করার সহজাত বৈশিষ্ট্য। সব মিলিয়ে তপু হয়ে উঠেছেন দলের আস্থার প্রতীক। সেই তপু এবার দেবেন দলের নেতৃত্ব। ২৩ বছর আগের আরেক বর্মণের মতো তিনিও চান ঘরের মাঠে অধরা সাফ শিরোপা উঁচুতে তুলে ধরতে— ‘রজনীকান্ত বর্মণ দাদা তো ২০০৩ সালে সাফ জয় করেছেন। আমি হয়ত এখনই অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে বলব না, আমিও পারব। তবে আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব, ম্যাচ বাই ম্যাচ পারফর্ম করে সাফ চ্যাম্পিয়ন হতে চেষ্টা করব। আমি মনে করি, এই দলটা বিগত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। আমাদের এটা অর্জনের সামর্থ্য আছে।’
লাল-সবুজ জার্সিতে তপু গোলের খাতা খুলেছিলেন ভুটানের বিপক্ষে। ২০১৫ সালে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেছিলেন তিনি। তিন বছর পর ঢাকায় সাফের আসরেও ভুটানের বিপক্ষে গোল করেন তপু। সেই ভুটানের বিপক্ষেই ম্যাচ দিয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হবে বাংলাদেশের সাফ মিশন। এই ম্যাচে জিতলে সবকিছুই দলের জন্য অনেক সহজ হবে বলে মনে করেন তপু। আর ভালো শুরু পেতে দলের ফুটবলারদেরই নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব, ‘বাড়তি দায়িত্ব, বাড়তি প্রচেষ্টাই কিন্তু একটা দলকে এগিয়ে নেয়। কোচ অবশ্যই তাঁর কাজ করবেন। তবে ম্যাচে কিন্তু যা করার আমাদেরই করতে হবে। কোচ কিন্তু এসে গোল বাঁচাবেন না বা গোল করবেন না। তাই শুরু থেকেই আমাদের সিরিয়াস থাকতে হবে। বিশেষ করে প্রথম ম্যাচে ভুটানকে আমাদের হারাতেই হবে। তবেই দেখবেন পুরো দলের মানসিকতা ইতিবাচক হয়ে উঠবে।’
গোলের প্রসঙ্গ আসতেই একটু হেসে গোল করার তৃষ্ণার কথা আরেকবার বললেন তপু, ‘সত্যি বললে, গোলের দায়িত্বে না থেকে গোল করাটা সহজ। এই যে আমি নিচ থেকে গিয়ে সেটপিচে সবসময় চেষ্টা করি—এটা যতটা সহজ, স্ট্রাইকারের জায়গায় থেকে গোল করাটা অত সহজ নয়। এই টুর্নামেন্টে ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা থাকবে নিজের মূল দায়িত্ব সামলে গোল করার।’
অধিনায়কের দায়িত্ব অনেক। তবে অতীত অভিজ্ঞতা আছে বলেই এটা তপুর জন্য বাড়তি কোনো চাপ নয়; বরং আর্মব্যান্ড তাঁকে আরও বেশি উজ্জীবিত করবে। আর নিজের এই আত্মবিশ্বাসটা পুরো দলে ছড়িয়ে দিতে পারলে, হয়তো রজনীকান্ত বর্মণের মতো ইতিহাসে নাম উঠবে তপু বর্মণেরও, হয়ে উঠবেন সাফল্যের মহানায়ক।



