জিদানকে তারকা বানানো ক্লাব এখন ষষ্ঠ বিভাগে

সংগৃহীত ছবি
ফ্রান্সের শীর্ষ ফুটবল লিগের ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বোর্দো এবার দেশটির ষষ্ঠ বিভাগের ফুটবলে নেমে গেছে। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত ক্লাবটির এই পতন ফরাসি ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ধাক্কা। ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় এক কোটি ইউরো জোগাড় করতে না পারা এবং ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান পার্ক বেঞ্চের কাছে মাত্র এক ইউরোর প্রতীকী মূল্যে বিক্রি করা হয় ক্লাবটিকে। বিনিময়ে বাকি ঋণের দায় নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নতুন মালিকপক্ষ। পার্ক বেঞ্চের মনোনীত নতুন সভাপতি দোমিনিক দেলপোর এএফপিকে বলেন, ‘এখন পুনর্গঠনের কাজ শুরু করা যাবে।’
ক্লাবটির ঋণ ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরো থেকে কমে ১ কোটি ৩০ লাখ ইউরোয় দাঁড়িয়েছে। নতুন মালিকপক্ষ আগামী ২০ অক্টোবর বাণিজ্যিক আদালতে হাজির হয়ে পুনর্গঠনের নতুন পরিকল্পনা অনুমোদন করানোর কথা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, দলটি সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড়কে পেশাদার চুক্তিতে রাখতে পারবে। বাকিদের খেলতে হবে অপেশাদার হিসেবে।
বোর্দো থেকে উঠে এসেছেন ফরাসি ফুটবলের অনেক তারকা। তাদের মধ্যে আছেন বিক্সঁত লিজারাজু ও ক্রিস্তফ দুগারি। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানও ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বোর্দোর হয়ে খেলেই নিজের পরিচিতি গড়ে তোলেন।
১৮৮১ সালের অক্টোবরে জিমন্যাস্টিকস ও শুটিং ক্লাব হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি ১৯২০ সালে ফুটবল ক্লাবে রূপ নেয়। ১৯৪৯-৫০ মৌসুমে প্রথমবার ফ্রান্সের শীর্ষ লিগের শিরোপা জেতে বোর্দো। এরপর আশির দশকে দাপট দেখায় দলটি। ১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে শিরোপা জয়ের পর পরের মৌসুমেও তা ধরে রাখে তারা। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমে আসে চতুর্থ লিগ শিরোপা। এরপর ১৯৯৮-৯৯ এবং সর্বশেষ ২০০৮-০৯ মৌসুমে ফরাসি লিগের শিরোপা জেতে ক্লাবটি।
আশির দশকে ফরাসি ফুটবলের সাফল্যের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বোর্দোর নাম। ১৯৮৪ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপজয়ী ফ্রান্স দলের মাঝমাঠে ছিলেন ক্লাবটির দুই তারকা অ্যালাঁ জিরেস ও জ্যাঁ তিগানা।
বোর্দোর আর্থিক সংকট অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে প্রথমবার ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিভাগ লিগ আঁ-তে অবনমিত হয় ক্লাবটি। এরপর ২০২৪ সালে আদালতের তত্ত্বাবধানে পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় যাওয়ায় পেশাদার ক্লাবের মর্যাদা ও নিজেদের খ্যাতনামা একাডেমি হারাতে হয় তাদের।
একসময় ফরাসি ফুটবলে শিরোপার জন্য লড়াই করা ক্লাবটির সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং ধাপে ধাপে হারানো অবস্থান পুনরুদ্ধার করা।



