ফুটবলারদের মধ্যে কেন বাড়ছে চেহারা বদলের প্রবণতা?

মাঠের পারফরম্যান্স, চুলের কাটিং ও ট্যাটু—এতদিন ফুটবলারদের পরিচিতি এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে বর্তমান যুগে ফুটবলারদের এই রূপচর্চা পৌঁছে গেছে চিকিৎসকের চেম্বারেও। খেলোয়াড়দের মাঝে এখন ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ফেসিয়াল হারমোনাইজেশন’ বা মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য ও সামঞ্জস্য বিধানের অস্ত্রোপচারহীন নান্দনিক থেরাপি।
এক সময় শুধু শোবিজ তারকা, মডেল বা ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন ফুটবলাররাও তাদের ব্যক্তিগত ব্র্যান্ড ও কেরিয়ারের স্বার্থে বেছে নিচ্ছেন এই রূপান্তর। সাম্প্রতিক সময়ে ভিনিসিউস জুনিয়র থেকে শুরু করে ফ্ল্যামেঙ্গোর ডিফেন্ডার লিও পেরেইরা, করিন্থিয়ান্সের ফরোয়ার্ড পেদ্রো রাউল কিংবা বার্সেলোনার রাফিনিয়ার মতো তারকারাও এই রূপচর্চায় যুক্ত হয়েছেন। আধুনিক যুগে ফুটবলাররা কেবল ৯০ মিনিটের মাঠের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ নন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি কোটি ফলোয়ার, বিজ্ঞাপন প্রচার, স্পন্সরশিপ চুক্তি মিলিয়ে প্রায় চব্বিশ ঘণ্টাই গণমাধ্যমের আলোয় থাকতে হয় তাদের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই যুগে ফুটবলারদের বাহ্যিক রূপ কেবল আত্মবিশ্বাসের বিষয় নয়, এটি তাদের অর্থনৈতিক মূল্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
ডার্মাটোলজিস্ট ডা. ভিভিয়ান সিমোস পাইরেস বলেন, ‘সৌন্দর্য ও নান্দনিকতার পাশাপাশি তারা মূলত পেশাগত পারফরম্যান্স এবং উন্নত আত্মবিশ্বাস অর্জনের জন্যই এটি করেন। মুখের বিভিন্ন পয়েন্ট রিপ্রোসিজনিং ও হাইধ্রোলিক অ্যাসিড ফিলার ব্যবহারের মাধ্যমে এই পরিবর্তন আনা হয়।’ ব্র্যান্ডিং বিশেষজ্ঞ জুলিয়ানা ত্রাঙ্কিলিনির মতে, ‘আগে পেলের মতো কিংবদন্তিরা শুধু মাঠে পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে একজন খেলোয়াড় কেবল অ্যাথলেট নন, তিনি একাধারে একজন উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও কমিউনিকেটর। তাই ব্যক্তিগত ব্র্যান্ডের মান বাড়াতে রূপচর্চায় বিনিয়োগ করা এখন সময়ের দাবি।’
সৌন্দর্য সচেতনতা বাড়লেও ফুটবল বিশ্বে এখনো এ নিয়ে এক ধরণের ট্যাবু বা সামাজিক গোঁড়ামি রয়ে গেছে। অনেক খেলোয়াড়ই মাঠে খারাপ খেললে এই রূপচর্চাকে ট্রলের খোরাক বানানোর ভয়ে বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন। ডা. ভিভিয়ান জানান, অনেক খেলোয়াড় গোপনীয়তা বজায় রাখতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভিআইপি রুমে এসে এই চিকিৎসা নেন। লুকাস লিমার মতো হাতে গোনা কয়েকজন খোলামেলা কথা বললেও বেশিরভাগ ফুটবলারই ছুটির সময়ে বা একেবারে গোপনে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।






