স্বপ্ন দেখার বয়স ফুরিয়েছে রোনালদোর!

সংগৃহীত ছবি
পর্তুগালের ইতিহাসে ‘সর্বকালের সেরা’ ফুটবলার তিনি, এ নিয়ে বোধহয় তেমন একটা বিতর্ক নেই। পর্তুগালকে এনে দিয়েছেন স্বপ্নের ইউরো, সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি, আছে ৬ বিশ্বকাপে খেলা ও প্রত্যেক আসরে গোল করার অনন্য রেকর্ডও। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আর পর্তুগাল যেন একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু সেই রোনালদোই যেন এখন জাতীয় দলের ‘বোঝা’! উয়েফা নেশনস লিগের নতুন আসর শুরুর পর আবার উঠেছে সেই প্রশ্নটা। রোনালদোর কি এবার জাতীয় দলকে বিদায় বলা উচিত?
বয়স তার ৪১। সমবয়সীদের সবাই অবসরে চলে গেছেন অনেক আগেই। রোনালদো অবশ্য এখনো মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। লক্ষ্য এখন হাজারতম গোলের অবিশ্বাস্য মাইলফলক। এই ইতিহাস গড়তে বাকি আর মাত্র ২১ গোল। ৯৭৯ গোল নিয়ে রোনালদো দাঁড়িয়ে আছেন রেকর্ডের দ্বারপ্রান্তে।
আল নাসরের হয়ে তো গোল করছেন কিছুদিন পরপরই। কিন্তু সমস্যাটা দাঁড়িয়েছে জাতীয় দলে। বিশ্বকাপের আগে থেকেই তার ফর্মটা পড়তির দিকে। আগের মতো সেই ক্ষুরধার রোনালদো তো একেবারেই নেই, উল্টো মাঠে তাকে প্রায়ই মনে হয় ‘অসহায়’।
বিশ্বকাপে ছিলেন ফ্লপ, করেছেন ৩ গোল। অনেকে ভেবেছিলেন, পর্তুগালের জার্সিতে আর দেখা যাবে না তাকে। সিআর সেভেন জানালেন, এখনই জাতীয় দলকে বিদায় বলছেন না তিনি। যথারীতি নেশনস লিগের প্রথম ম্যাচও খেলেছেন তিনি।
ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর সামনে এসেছে বহু সুযোগ। সহজ সেই সুযোগগুলো অবিশ্বাস্যভাবে মিস করে রোনালদো যেন নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না! একটা সময় হতাশ হয়ে তাকে মাঠ থেকেই তুলে নেন পর্তুগাল কোচ।
ওই ম্যাচের পারফরম্যান্সের পর রোনালদোর অবসর নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন ফুটবল বোদ্ধারা। তার খেলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অনেকে থাকলেও সরে যাওয়ার পক্ষেই সংখ্যাটা যেন বেশি।
পর্তুগালের বোঝা রোনালদো!
অনেকদিন ধরেই রোনালদো মূলত খেলছেন নাম্বার নাইন হিসেবে। প্রতিপক্ষের গোলপোস্টের আশেপাশেই তাকে বেশি দেখা যায়। পর্তুগালের বর্তমান দলটা একঝাঁক তরুণে ভরপুর। রোনালদোর মতো ফুটবলারকে কেন্দ্র করে কৌশল সাজিয়ে বারবারই হতাশ হচ্ছে তরুণ পর্তুগাল।
গত বিশ্বকাপেও দেখা গেছে, এক সময়ের ‘গোল মেশিন’ আগের মতো সচল নয়। এরপরও তাকে প্রতি ম্যাচে খেলিয়েছেন কোচ। এই ইস্যুতে অস্বস্তি আছে দলের ভেতরও, সতীর্থদের কেউ কেউ তাকে পাস দেননি বলে অভিযোগ উঠেছিল।
বিশেষজ্ঞদের ধারনা, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তিনি শ্লথ গতির হয়ে গেছেন। দলের হাই প্রেসিং ফুটবলের সঙ্গে নিজেকে এখন মানিয়ে নিতে পারছেন না রোনালদো। রক্ষণে সহায়তা বা প্রেস করার ক্ষমতা, দুয়েই পিছিয়ে তিনি। মাঝমাঠ ও অন্যান্য খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়, যা পুরো দলের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করে।
দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়
গত কয়েক বছর ধরেই অভিযোগের তীরটা তার দিকে। দল নয়, রোনালদো এখন ভাবেন শুধুই নিজেকে নিয়ে। রোনালদো ‘স্বার্থপর’, এমন অভিযোগ এসেছে খোদ পর্তুগিজ সমর্থকদের থেকেই। বদলি হিসেবে উঠে যাওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া, একাদশে থাকা না-থাকা নিয়ে গণমাধ্যমের ক্রমাগত আলোচনা দলের ভেতরে এক ধরনের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। অনেকেই তাই বলছেন, রোনালদো সরে গেলে আরও দলগত হয়ে খেলতে পারবে পর্তুগাল।
রোনালদোর মতো এমন ‘বুড়ো’ খেলোয়াড়ের ওপর টানা নির্ভরতা দলের উদীয়মান তরুণ স্ট্রাইকারদের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের পথকে ব্যাহত করছে। রোনালদো পরবর্তী যুগে প্রবেশ করতে পর্তুগালের যদি নতুন এক কৌশলগত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হয়, তবে তা এখনই শুরু করা প্রয়োজন, যাতে দলটি দীর্ঘমেয়াদে বড় টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। বিশেষ করে ২০২৮ সালের ইউরো ও ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য রোনালদোকে বাদ দিয়ে এগিয়ে গেলেই সাফল্য পাবে পর্তুগাল, ধারণা করা হচ্ছে এমনটাই।



