বার্সার হৃদয় ভেঙে সেমিফাইনালে আতলেতিকো

৭৯ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন বার্সার এরিক গার্সিয়া। ছবি : সংগৃহীত
আক্রমণ, রক্ষণ, শিল্প, শক্তি, রক্ত, ঘাম, লাল কার্ড, উত্তেজনা, নাটক-সব মিলেমিশে একাকার মেত্রোপলিতানোয়। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে প্রথম ২৫ মিনিটে আক্রমণের ঢেউ তুলে ২ গোল আদায় করে বার্সেলোনা। ভেঙে না পরে আতলেতিকো ফেরায় ১ গোল।
ফল
আতলেতিকো ১ : ২ বার্সেলোনা
দুই লেগ মিলিয়ে আতলেতিকো এগিয়ে ৩-২ গোলে
সেই গোলটাই গড়ে দিল ব্যবধান। বার্সেলোনা চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগটা ২-১ গোলে জিতেছে ঠিকই। তবে গোল ব্যবধানে ৩-২’এ এগিয়ে থাকায় সেমিফাইনালের টিকিট পেলে আতলেতিকো। ২০১৪ ও ২০১৬ সালের পর আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সার হৃদয় ভাঙল মাদ্রিদের ক্লাবটি।
চতুর্থ মিনিটে লামিনে ইয়ামাল ও ২৪ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোল এগিয়ে গিয়েছিল বার্সা। ৩১তম মিনিটে আতলেতিকোর আদেমোলা লুকমানের গোল গড়ে দেয় ম্যাচের ব্যবধান। ৭৯ মিনিটে এরিক গার্সিয়া লাল কার্ড দেখলে বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় কাতালানদের।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে হারা ম্যাচে বার্সার পাউ কুবার্সির লাল কার্ড দেখেছিলেন প্রথমার্ধেই। দুই ম্যাচই ১০ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে কাতালানদের।
ম্যাচে বার্সার বলের দখল ছিল ৭০.৯ শতাংশ। পোস্টে ১৫টি শট নিয়ে তারা লক্ষ্যে রাখে ৮টি। আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো সেভ করেছেন ৭টি! তিনিই বাঁধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন বার্সেলোনার জন্য। আতলেতিকো ২৯.১ শতাংশ বলের দখল নিয়ে খেললেও পোস্টে শট নিয়েছিল ১৫টি, লক্ষ্যে ছিল ৫টি।
বার্সেলোনা নামিয়েছিল চ্যাম্পিয়নস লিগ নকআউটে ক্লাব ইতিহাসের সবচেয়ে কমবয়সি একাদশ। দলটির গড় বয়স ২৪ বছর ৩৪৭ দিন, যা চ্যাম্পিয়নস লিগে নকআউটে বার্সার সবচেয়ে তরুণ দল।
প্রথম মিনিটেই বক্সের বাইরে থেকে ইয়ামালের নিচু শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। চতুর্থ মিনিটে আতলেতিকোর ক্লেমোঁ লংলের ব্যাকপাস ইয়ামালের পায়ে লেগে পান তরেস। তার বাড়ানো বল বক্সে ঢুকে নিচু শটে গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে জড়ান ইয়ামাল।
নবম মিনিটে ইয়ামালের থ্রু বলে ছুটে গিয়ে গোলরক্ষকের ওপর দিয়ে চিপ করতে চেয়েছিলেন দানি ওলমো, কিন্তু হাত বাড়িয়ে বার্সাকে হতাশ করেন মুসো। ২৪তম মিনিটে ওলমোর পাস বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের দারুণ শটে জালে পাঠান তরেস। দুই লেগ মিলিয়ে তখন ২-২ সমতা। শ্মশানের নীরবতা নেমে আসে স্টেডিয়ামে।
পরের মিনিটেই ইয়ামালের ক্রসে ফের্মিন লোপেসের হেড কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান মুসো। তবে গোলরক্ষকের বুটের আঘাতে রক্ত ঝরতে থাকে মার্টিনের মুখ থেকে। মাঠেই চিকিৎসা নিয়ে অবশ্য খেলা চালিয়ে যান তিনি।
৩১তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ডান দিক থেকে মার্কোস লরেন্তোর পাস বক্সে পেয়ে জালে পাঠান জানুয়ারিতে ক্লাবে যোগ দেওয়া নাইজেরিয়ান লুকমান। এই গোলের পর উৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়ে গ্যালারিতে। ৫৫তম দারুণ ভলিতে তরেস বল জালে পাঠালেও ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
৭৭তম মিনিটে আলেকজান্দার সরলথকে পেছন থেকে টেনে ধরে শুরুতে হলুদ কার্ড দেখেন এরিক গার্সিয়া। পরে মনিটরে রিপ্লে দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেন রেফারি।
যোগ করা সময়ে লেভানদোস্কি আর রোনাল্দ আরাউহো দুটি বড় সুযোগ নষ্ট করে হতাশা বাড়ান বার্সা সমর্থকদের। আর ২০১৭ সালের পর প্রথমবার শেষ চারে পৌঁছানোর আনন্দে মেতে উঠেন আতলেতিকোর খেলোয়াড়রা।

