জাতীয় দলে আমের খানকে লাগবেই
ম্যানেজার সমন্বয়ক এবার মিডিয়া ম্যানেজার!

রবিবার টিম হোটেলে ফুটবলারদের সঙ্গে আমের খান (বাঁমে)
রায় দু’বার ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকার পর আমের খানকে ইন্দোনেশিয়ায় ফিফা আসিয়ান কাপে জাতীয় দলের সঙ্গী করা হয়েছিল ‘সমন্বয়ক’ নামক পদ তৈরি করে। এবার ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তাকে দেওয়া হয়েছে নতুন পরিচয়। বাফুফের মিডিয়া বিভাগের কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে এবার আমের খানকে বানানো হয়েছে মিডিয়া ম্যানেজার! এছাড়া দলের নিরাপত্তার দিকটাও দেখভাল করবেন ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের এই কর্মকর্তা। অর্থাৎ যে কোনো পরিচয়ে হোক, আমের খানকে জাতীয় দলে লাগবেই! এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পেশাদারিত্ব আরেকবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
বাফুফের মিডিয়া ম্যানেজার সাদমানি সাকিব। প্রথা অনুযায়ী তারই হওয়ার কথা জাতীয় দলের মিডিয়া ম্যানেজার। অথচ তাকে বাদ দিয়ে আমের খানকে করা হয়েছে মিডিয়া ম্যানেজার, যার মিডিয়া সামলানোর অতীত কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। মিডিয়া বিভাগের আরেক কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদ নওমী। অবশ্য গত কয়েক বছর তাকে মিডিয়ার চেয়ে নারী জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্বেই বেশি দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, মিডিয়া বিভাগ আলাদা থাকা সত্ত্বেও বর্তমান বিভিন্ন জাতীয় দলের সঙ্গে মিডিয়া অফিসার হিসেবে বিদেশ ভ্রমণে গেছেন অন্য বিভাগের দুই কর্মকর্তা। তবে বাফুফের প্রশাসনের বাইরে কাউকে মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব দেওয়ার নতুন নজির গড়েছে বাফুফে আমের খানকে এই দায়িত্ব দিয়ে। বারবার পদ-পরিচয় বদলে খুব বেশি আপত্তি নেই আমের খানের। তবে নতুন দায়িত্বের বিষয় নিয়ে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিতে চান তিনি, ‘আমি ঠিক জানি না কেন আমাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে বাফুফে সভাপতির সঙ্গে কথা বলেই আমি সিদ্ধান্ত নেবো।’
ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার আগে ম্যানেজারের পদ থেকে আমের খানকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমিরুল ইসলাম বাবুকে। বাফুফে নির্বাহী কমিটির এই সদস্য সাফেও আছেন ম্যানেজারের দায়িত্বে। আসিয়ান কাপে আমের খান শুরুতে ছিলেন প্রধান সমন্বয়ক। তবে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার পর তাকে বানানো হয় দলের প্রশাসনিক প্রধান (হেড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন)। এবার সমন্বয়কের পাশাপাশি মিডিয়া ও নিরাপত্তার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাকে। আমের খান এতে খানিকটা বিভ্রান্ত, ‘সাধারণত আমরা এর আগে যে দায়িত্বেই থেকেছি, তার জন্য কখনো কোনো অর্থ নিতাম না। এটা ছিল স্বেচ্ছাসেবী ও সম্মানসূচক দায়িত্ব। জাতীয় দলের ম্যানেজারের পদটাও অবৈতনিক। এখন যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটা বৈতনিক নাকি অবৈতনিক সেটাও বুঝতে পারছি না।’ আসিয়ান কাপে জাতীয় দলের দলনেতার দায়িত্বে থাকা ইকবাল হোসেন আছেন অপেক্ষায়। তাকে এখনো সাফের দলের কোনো দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
এদিকে আসিয়ান কাপ চলাকালে দলের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছিল। তিনজন দায়িত্বে থাকার পরও একাধিক খেলোয়াড়ের রাতে টিম হোটেল থেকে বের হওয়া এবং নাইটক্লাবের নারীদের সঙ্গে সময় কাটানোর বিষয়টি ভাইরাল হয়। এবার অবশ্য শৃঙ্খলার ব্যাপারে কঠোর থাকার কথা জানিয়েছেন ম্যানেজার আমিরুল ইসলাম বাবু।




