ম্যান ইউ কোচ
মাঝেমধ্যে ভিএআর ভুল হতেই পারে

ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি তথা ভিএআর-এর বিতর্কিত ভুলের কারণে পরাজয়ের স্বাদ পেলেও প্রযুক্তিটির ওপর এখনো নিজের আস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রধান কোচ মাইকেল কারিক। তবে রেফারিজ বডি ‘প্রো রেফ’র পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়াকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছিল রেড ডেভিলরা। সেই ম্যাচে সিটির জয়সূচক গোলটির আগে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ পরিষ্কার অফসাইড পজিশনে থেকে খেলায় বাধা সৃষ্টি করলেও তা ধরতে ব্যর্থ হয় ভিএআর। ম্যাচ শেষ হওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়েছিল ম্যাচ অফিশিয়ালদের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘প্রো রেফ’। এছাড়া ওই ম্যাচে দায়িত্ব পালনকারী ভিএআর রেফারি ম্যাট ডোনহিউ এবং তার সহকারী ব্লেক অ্যানথ্রুবাসকে আসন্ন সপ্তাহের কোনো ম্যাচেই দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
ম্যাচ শেষে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ক্যারিক। তবে আগামী রবিবার ফুলহামের বিপক্ষে প্রিমিয়ার লিগের অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—এখনো ভিএআর-এর প্রতি তার কোনো আস্থা আছে কি না। জবাবে ক্যারিক বলেন, “মাঝে মাঝে এমন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ওই সময়ে ঘটনাটি বেশ বড় ছিল, আমরা সবাই তা জানি। আমি আর বিষয়টি নিয়ে বেশিদূর এগোতে চাই না। তবে হ্যাঁ, সিস্টেমটির প্রতি আমার আস্থা আছে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যার অধীনে আমরা কাজ করি এবং যা আমরা ব্যবহার করে থাকি।”
রেফারিজ প্রধান হাওয়ার্ড ওয়েব এই ঘটনার পর তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ‘ম্যাচ অফিশিয়ালস মাইকড আপ’ অনুষ্ঠানে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ওয়েব জানান, তিনি এই ফলাফলে “সত্যিই অত্যন্ত হতাশ”। অফিশিয়ালরা শুধুমাত্র আর্লিং হল্যান্ডের অফসাইড পজিশন নিয়ে বেশি মনোযোগী ছিলেন এবং এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থান মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন তিনি। পরিস্থিতি আরও স্বচ্ছ করতে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ওয়েব ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেছেন।
তবে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিকে খুব একটা বড় করে দেখছেন না ইউনাইটেড কোচ। এ প্রসঙ্গে কারিক বলেন, “ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টি খুব বেশি অর্থ বহন করে না।”
তিনি যোগ করেন, “তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে হাত উঁচিয়ে ক্ষমা চেয়েছে—বিষয়টি আমি বুঝতে পারি এবং সম্মানও করি, ভুল হতেই পারে। আমাদের কেবল এটি মেনে নিয়ে সামনে এগোতে হবে। হয়তো আইন বা গড়ের বিচারে আমরা এক বা দুটি সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে পাব, তবে ওই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তটি ম্যাচের ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছিল এবং সে কারণেই বিষয়টি মেনে নেওয়া বেশ কঠিন ছিল।”



