রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে বার্সেলোনার গোল উৎসব

সংগৃহীত ছবি
কেউ রক অ্যান্ড রোল ফুটবল দেখতে চাইলে তাকে দেখতে হবে বার্সেলোনার খেলা। নতুন মৌসুমে প্রতিটি ম্যাচে প্রতিপক্ষদের ধুলোয় মিশিয়ে দিচ্ছে হান্সি ফ্লিকের দল। এটি যেন সেই বিখ্যাত উপকথা, যেখানে ভাগ্য বীরের কানে ফিসফিস করে বলেছিল, ‘তুমি এই ঝড় সহ্য করতে পারবে না’। আর বীরের জবাব,‘আমিই সেই ঝড়।’
ফল
বার্সেলোনা ৭ : ১ রেসিং
আতলেতিকো ৪ : ০ ওসাসুনা
বার্সেলোনা সেই ঝড় এবার বইয়ে দিল রেসিংয়ের উপর দিয়ে। লা লিগার ম্যাচটিতে তাদের উড়িয়ে দিল ৭-২ গোলে। রাজকীয় প্রদর্শনীতে হ্যাটট্রিক করেছেন রাফিনিয়া। একটি করে গোল জোয়াও কানসেলো, লামিন ইয়ামাল ও গাব্রিয়েল জেসুসের। অপর গোলটি আত্মঘাতী। টানা ছয় ম্যাচে ছয় জয় আর ২৮টি গোল নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল তারা। রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ১১টি বেশি গোল করেছে বার্সা।
বার্সার হয়ে ফ্লিক বিশ্রাম দেন কুবার্সি, ফের্মিন, গর্ডন ও এসপার্টকে। অন্যদিকে, রেসিংয়ের কোচ হোসে আলবের্তো বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন জাবায়রি, সালিনাস, ইনিগো ভিসেন্তে ও ইভান মার্তিনকে।
ক্যাম্প ন্যু থেকে কিক-অফের এক ঘণ্টা আগেই বজ্রপাতের গর্জন শোনা যাচ্ছিল আর আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। এমনকি ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে মাঠের সমর্থকদের ফোনে ইএস-অ্যালার্টের (জরুরি সতর্কবার্তা) শব্দও বেজে ওঠে। আর ম্যাচ শুরু হতে রেসিংয়ের ওপর ঝড় বইয়ে দেয় বার্সা। লামিন ইয়ামাল মিস করেছিলেন পেনাল্টি। তার একটি শট ফিরে পোস্টে লেগে, আরেকটি গোল বাতিল হয় অফসাইডের জন্য। রেসিংয়ের গোলরক্ষক আগিরেসাবালা কয়েকটা সেভ না করলে বার্সার জয়ের ব্যবধান বাড়তে পারত আরও। ম্যাচের প্রায় ৭০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ৩০ শট নিয়েছিল বার্সেলোনা।
অষ্টম মিনিটে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া আগুনে শটে দলকে এগিয়ে নেন কানসেলো। ২৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাফিনিয়া। বক্সে ফাউলের শিকার হয়েছিলেন তিনিই।
৩০ মিনিটে ডি-বক্সে সহজেই ঢুকে কোনাকুনি শটে এক গোল ফেরান রেসিংয়ের গেয়ি। ৩৬ মিনিটে কানসেলোর আরেকটি দূরপাল্লার শট রেসিংয়ের ভিয়ালিবরের শরীরে লেগে জড়ায় জালে।
৪২তম দানি ওলমোর পাস বক্সে পেয়ে ব্যবধান ৪-১ করেন রাফিনিয়া। বিরতির আগে ইয়ামালের পেনাল্টি বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে আটকে দেন রেসিং গোলরক্ষক।
বিরতির ঠিক আগে পিছলে পড়ে গিয়েছিলেন বার্সেলোনার গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া। বিরতির পর তার বদলি নামেন ভয়চেখ স্ট্যান্সনি। ৬৫তম মিনিটে স্ট্যান্সনির ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে বার্সেলোনা। ৬৭ মিনিটে আদেইমি বক্সে ফাউলের শিকার হলে সফল স্পট কিকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন রাফিনিয়া। এবারের লিগে তার গোল এখন ৯টি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সাত ম্যাচে করেছেন ১১ গোল।
৭২ মিনিটে ইয়ামালের দারুণ গোল বাতিল হয় অফসাইডের জন্য। ৭৯ মিনিটে ইয়ামালের থ্রু পাস ডি-বক্সে পেয়েই বাঁকানো শটে গোল করেন বদলি নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ৮৯তম মিনিটে আদেইয়েমির কাটব্যাকে জোরাল শটে বার্সার সপ্তম গোলটি করেন ইয়ামাল।
লা লিগার অপর ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদ ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ওসাসুনাকে। আর সেভিয়া ১-০ গোলে হারিয়েছে দেপোর্তিভোকে।



