সাফের শুরুতেই উত্তাপহীন ‘মহারণ’

আইসিসি বা এসিসির দেখাদেখি সাফও বেছে নিয়েছে একই পথ। গ্রুপ পর্বে রেখেছে ভারত ও পাকিস্তানকে। আসরের শুরুতেই মুখোমুখি করিয়ে দিয়েছে দুই বৈরী প্রতিবেশীকে। আসর জমিয়ে দেওয়ার জন্য মোক্ষম উপায়। তবে সমস্যাটা হলো, ক্রিকেট বা হকি ম্যাচে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হলে যে উত্তেজনা তৈরি হয়, ফুটবলে তার প্রবল ঘাটতি। তার ওপর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ভারত পাঠিয়েছে দ্বিতীয় সারির দল, শীর্ষ ফুটবলাররা যাবেন নিউজিল্যান্ডে। এই দ্বিতীয় সারির দলেও প্রথম ম্যাচে থাকবেন না ১০ জন, ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ম্যাচের জন্য ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের ছাড়েনি। দলের সেরা ফরোয়ার্ড লিস্টন কোলাসো কিংবা এক নম্বর গোলরক্ষক আর্শ আনোয়ার শেখ— কেউই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেননি। তারা আসবেন ৫ তারিখের পর। তাই সাফের উদ্বোধনী ম্যাচে ওয়াঘা সীমান্তের আঁচ আশা করাই বৃথা।
আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে সার্ক যেমন ব্যর্থ এবং প্রায় অস্তিত্বহীন, আঞ্চলিক ফুটবল সংস্থা হিসেবে সাফ (দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন) অনেকটাই গুরুত্বহীন। আফগানিস্তান সাফে যোগ দিয়েছিল, তারাও এই জোট থেকে বেরিয়ে গিয়ে মধ্য এশিয়ার সংগঠনে যোগ দিয়েছে। ফিফা র্যাংকিংয়ের ১৩৮তম স্থানে থাকা ভারতই এই আসরে সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ের দল, বাকিরা ১৭৩-এর নিচে। ভারত সম্প্রতি ব্রাজিল, উরুগুয়ে ও পানামার সঙ্গে খেলেছে; তারা চাইছে র্যাংকিংয়ের ওপরের দিকে থাকা দলের সঙ্গে খেলে উন্নতি করতে। তাই তো আসন্ন ফিফা উইন্ডোতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলতে তাদের মূল দল যাচ্ছে সেখানে। বাংলাদেশে সাফ খেলতে আসা দ্বিতীয় সারির দলেরও ১০ জন খেলোয়াড় থাকবেন না প্রথম ম্যাচে, পাকিস্তানের বিপক্ষে। আইএসএলের ম্যাচ থাকায় তাদের ছাড়েনি ক্লাবগুলো। ভারতের এই উদাসীনতাই বুঝিয়ে দিচ্ছে, প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান হলেও সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ে অকল্যান্ডে দুটি প্রীতি ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি।
আসিয়ান কাপে পাকিস্তান খেলেছে তিন ম্যাচ। থাইল্যান্ডের সঙ্গে ৪-০ এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে ২-০ তে এগিয়ে যাওয়ার পরও ৪ গোল করে হজম করলেও ফিলিপাইনের সঙ্গে তারা ২-২ গোলে ড্র করেছিল। বাংলাদেশের আসিয়ান কাপের অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনা করলে দল হিসেবে পাকিস্তান একেবারে ফেলনা নয়। যদিও তাদের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় খেলেন বাংলাদেশেই, ব্রাদার্স ইউনিয়ন ও সিটি ক্লাবে। পেরুর সাবেক ফুটবলার নলবার্তো সোলানো পাকিস্তান দলের কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে সোলানো দল সাজান মূলত ৫-৩-২ ছকে, রিকার্দো গারেকার সাবেক এই সহকারী গুরুত্ব দেন দলীয় সংহতি ও মানসিক দৃঢ়তার ওপর।
অন্যদিকে ভারতের কোচ হয়ে আসছেন নওশাদ মুসা, যার দায়িত্ব মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ দলের। পাকিস্তানের বিপক্ষে অবশ্য লিস্টন কোলাসোকে পাচ্ছেন না মুসা। অনুশীলনেও পাননি অনেক খেলোয়াড়কে। বাংলাদেশে পা রাখার আগে মাত্র ১৫ জন ফুটবলারকে মুসা পেয়েছেন কলকাতার অনুশীলনে। মুম্বাই থেকে তিনজন যোগ দিয়েছেন রাতে, আর পরদিন তো তারা উড়ালই দিলেন। অপ্রস্তুত, অগোছালো এই ভারতকে হারানোর সুবর্ণ সুযোগ পাকিস্তানের সামনে। তাতে যদি ক্রিকেটে একপেশে হারের কিছুটা ঝাল মেটানো যায়!



