দুষ্টচক্র হারলেই টিভিতে বিশ্বকাপ

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা দূর স্বপ্ন। তবে বিশ্বকাপের দর্শকপ্রিয়তায় এগিয়ে এই দেশ। ২০২২ বিশ্বকাপে বাংলাদেশি দর্শকদের উন্মাদনা ঠাঁই পেয়েছিল বিশ্ব সংবাদমাধ্যমে। অথচ আরেকটি ফুটবলযজ্ঞ যখন দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন ব্ল্যাকআউটের শঙ্কায় সেই দর্শকরা। এ দেশে এখনো কেউ কেনেনি বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব। কিনবে কি না, তাও বড় প্রশ্ন।
বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব নিয়ে একদল সুবিধাভোগী ভয়ংকর চক্রান্তে নেমেছে দেশে। ১৯৮৬ থেকে ৯টি বিশ্বকাপ বিনা পয়সায় দেখিয়েছে বিটিভি। সম্প্রচার স্বত্ব যারা কিনত, তারা নামমাত্র টাকায় বিটিভির চাঙ্ক কিনে ব্যবসা করত। তবে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ দেখাতে গিয়ে বিটিভি পড়ে এক ভয়ংকর চক্রের ফাঁদে। বাফুফের শীর্ষ কয়েকজন কর্তা ও তৎকালীন এক শীর্ষ আমলার খপ্পরে পড়ে বিটিভি শতকোটি টাকায় (৯৮ কোটি) কেনে বিশ্বকাপ স্বত্ব। বিটিভির টাকায় কিনে ব্যবসা করেছে ওই চক্রটিই। গতবার ৯৮ কোটি টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে ফিফাও বাংলাদেশকে বড় মার্কেট ভেবে বসে।
তাই তারা হাঁকিয়ে বসে বিশাল অঙ্ক। আগেরবার বাণিজ্যে সফল চক্রের কয়েকজন এবারও সক্রিয় হয়। অভিযোগ আছে, মিডিয়া স্বত্ব কেনা সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবকের সঙ্গে মিলে বাফুফের এক শীর্ষ কর্তা এবারও চাইছেন আখের গোছাতে। ৭.২ মিলিয়ন ডলারে কিনে স্প্রিংবক বিটিভির কাছে ১০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেয়। এ ছাড়া দুটি স্যাটেলাইট চ্যানেল টি-স্পোর্টস ও স্টার নিউজের কাছেও দেয় ওই প্রস্তাব। তবে গতবারের মতো এবার আর ভুল পথে পা ফেলতে চাইছে না বিটিভি।
জানা গেছে, ফিফার মূল অর্থের ৬০ শতাংশ পরিশোধে ব্যর্থ স্প্রিংবক চুক্তির বরখেলাপ করায় ফিফা কাটিং এজ নামে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে ৫.৫ মিলিয়ন ডলারে স্বত্ব বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি নথি আগামীর সময়ের হাতে এসেছে। স্প্রিংবকের শীর্ষ কর্তা গোপাল পাদিয়া অবশ্য দাবি করেন, তাদের কাছেই আছে মূল স্বত্ব, ‘আমাদের বড় অঙ্কে এবার লাইসেন্স নিতে হচ্ছে। তাই নিরুপায় হয়ে বিটিভি ও টি-স্পোর্টসের কাছে বড় প্রস্তাব দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত কেউ রাজি না হলে বাংলাদেশের মানুষ খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হবে।’
সমস্যা নিরসনে কাজ করছে তথ্য মন্ত্রণালয় গঠিত তিন সদস্যের কমিটি। তারই একজন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল দিচ্ছেন আশ্বাস, ‘বিশ্বকাপ কোনো না কোনোভাবে অবশ্যই দেখার ব্যবস্থা করবে সরকার। গতবারের অবিশ্বাস্য ঘটনার জেরে অবাস্তব মূল্য চাওয়া হচ্ছে। এই প্রস্তাব সহনীয় পর্যায়ে এনে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছি।’
টি-স্পোর্টসের নির্বাহী পরিচালক তাসভীর উল ইসলাম চীনের উদাহরণ টেনে শোনাচ্ছেন আশার কথা, ‘চীনের কাছে দিয়েছিল ৩০০ কোটি টাকার প্রস্তাব। পরিস্থিতি বুঝে পরে ফিফা ৬৫ কোটি টাকায় রফা করেছে। একটি দুষ্টচক্র নিজেদের স্বার্থে বাংলাদেশকে ব্ল্যাকআউটের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।’এই দুষ্টচক্র হারলেই বিশ্বকাপ দেখা যাবে দেশের টিভিতে।






