সাফল্যের গল্প
২১ বছরেই অবসর, ডাচ ফুটবলার এখন জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী

ফুটবল মাঠের কড়া অনুশাসন, প্রেসার কুকার খ্যাত আয়াক্সের যুব একাডেমির কঠোর প্রশিক্ষণ—সবকিছু পেছনে ফেলে মাত্র ২১ বছর বয়সে বুটজোড়া চিরতরে তুলে রেখেছিলেন এক তরুণ। স্বপ্ন দেখেছিলেন ভিন্ন এক জগতে নিজের নাম লেখানোর। তিনি উদীয়মান আফ্রোবিটস শিল্পী এলিকিয়া এমবিঙ্গা। ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে সংগীতে মজেছেন তিনি, আর আজ তার সেই সাহসী সিদ্ধান্তই তাকে এনে দিয়েছে দারুণ সাফল্য।
ডাচ ক্লাব পিইসি জোলের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন কঙ্গো বংশোদ্ভুত ডাচ ফুটবলার এলিকিয়া। একসময় তিনি বিশ্বখ্যাত আয়াক্স একাডেমির অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অধিনায়ক ছিলেন। সে সময় তার সঙ্গে একই দলে খেলেছেন জুরিয়েন, রায়ান গ্রাভেনবার্চ এবং ব্রায়ান ব্রোবির মতো প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়েরা। পারফর্ম্যান্স ভালো করলেও তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে ১৭ বছর বয়সে আয়াক্স ছাড়তে হয় তাকে। ২০২০-২১ মৌসুমে ‘পিইসি জোল’ ক্লাবের হয়ে পেশাদার ফুটবলে এলিকিয়ার অভিষেক হয়। কিন্তু মনের ভেতর বেড়ে উঠছিল অন্য এক সুপ্ত বাসনা—গান। ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতের প্রতি যে টান ছিল, তা একসময় মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়। ২০২১ সালের দিকে এসে পেশাদার ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নেন এলিকিয়া। ২০২৩ সালের শুরুতে পিইসি জুলের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করে নিজের শেষ সম্বলটুকু দিয়ে একটি স্টুডিও তৈরি করেন এবং পুরোপুরি মনোযোগ দেন আফ্রোবিটস সংগীতে। মাত্র আড়াই থেকে তিন বছরের মাথায় তার এই মিউজিক ক্যারিয়ারে যোগ হয়েছে দারুণ এক মাইলফলক। এখন পর্যন্ত তার গানগুলো স্ট্রিমিং হয়েছে ৩ কোটিরও বেশি বার এবং মাসিক শ্রোতার সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ লাখ ৩০ হাজার। ‘মেন্টালি’ এবং ‘ব্রিন নো ওয়াহালা’-র মতো একক গান দিয়ে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। এছাড়া আগামী নভেম্বরে মুক্তি পেতে যাওয়া তার প্রথম অ্যালবামে ১১টি গান রাখা হয়েছে, যা অনেকটা ফুটবল ম্যাচের শুরুর একাদশের আদলে তৈরি করা। পেশাদার ফুটবল ছাড়লেও এলিকিয়ার মন থেকে ফুটবল মোটেও মুছে যায়নি। তার গেমপ্লের অভিজ্ঞতা, আয়াক্স একাডেমির কঠিন মানসিকতা এবং শৃঙ্খলা তাকে সংগীতের দুনিয়ায় টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। তার গানে যেমন উঠে এসেছে ফুটবলের নানা রেফারেন্স, তেমনি বর্তমানের তারকা ফুটবলার বন্ধুদের সঙ্গেও তার রয়েছে গভীর সখ্য। জুরিয়েন ও কুইন্টেন টিম্বারদের সঙ্গে লন্ডনে দেখা করা কিংবা তাদের খেলা দেখতে যাওয়া—ফুটবল পৃথিবীর সঙ্গেই তার মেলবন্ধন এখনও অটুট।
অতীতে কোচের ভুল সিদ্ধান্ত বা নিজের ব্যর্থতা নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই এলিকিয়ার। বরং দৃঢ়তার সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, তার জীবনে যা ঘটেছে, তা সঠিক সময়েই ঘটেছে। নিজের অনন্য এই যাত্রাকে গল্প বানিয়ে সংগীতের মঞ্চে বড় কিছু অর্জনের লক্ষ্যেই এখন ছুটে চলেছেন এই সাবেক ডাচ ফুটবলার।
-গোল ডট কম








