গোলের হিসাব বোঝায় দুদলের পার্থক্য

ছবি: আগামীর সময়
সবার মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কার হাতে? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করা ভীষণ কঠিন। আমরা দুটি দলের খেলার শৈলী সম্পর্কে জানি। স্পেন বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে খেলার চেষ্টা করে। সবসময় বলের একচ্ছত্র অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সেটাই তাদের প্রধান অস্ত্র। তারা সেটাই করতে চাইবে আর্জেন্টিনার সঙ্গে। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণটা স্পেন যেমন নিতে চাইবে, আবার একই সময়ে আর্জেন্টিনাও চাইবে মাঝমাঠ নিজেদের দখলে রাখতে। তাই এই নিয়ন্ত্রণটা কাদের হাতে থাকবে, তা আসলে ম্যাচের আগে বলা খুব মুশকিল।
আমরা জানি যে, আর্জেন্টিনা বেশি গোল করেছে আবার বেশি গোল হজমও করেছে। স্পেন কম গোল দিয়েছে আবার কম গোল হজম করেছে। তারা মাত্র এক গোল হজম করেছে। সুতরাং এটা দিয়ে বোঝা যায় তাদের রক্ষণভাগ অনেক বেশি শক্তিশালী এবং ডিফেন্ডাররা দক্ষতায় এগিয়ে। আবার আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে, যেহেতু তারা গোল দিচ্ছেও বেশি আবার খাচ্ছেও বেশি সুতরাং তাদের রক্ষণভাগের যা দুর্বলতা রয়েছে, সেটা মোটামুটি সবাই জানে। দুই দলের মধ্যে এটা একটা বড় পার্থক্য।
আমরা দেখেছি, আর্জেন্টিনা তিন নকআউট ম্যাচে ৫১টি ক্রস করেছে প্রতিপক্ষের বক্সে, যেটা গ্রুপের তিন ম্যাচে ছিল মাত্র ১৩টি। নকআউট পর্ব যখন এসেছে তাদের খেলতে হয়েছে এমন দলগুলোর সঙ্গে যারা নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলানোতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। সুতরাং রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা দলের বিপক্ষে যখন আপনি খেলবেন, আপনার সেখানে দুটি কৌশল ব্যবহার করতে হবে। একটি হচ্ছে, মাঠের দুই প্রান্ত থেকে ক্রস করা অথবা ক্রসের চেষ্টা করা। আরেকটি হচ্ছে রক্ষণভাগকে ফাঁকি দেওয়ার কৌশল বের করা। এ কারণেই আর্জেন্টিনার ক্রসের সংখ্যা মূলত নকআউট পর্বে এসে বেড়ে গিয়েছে। নকআউট পর্বে গোল বের করতে কষ্ট করতেই হয়। কারণ, অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষরা নিচে নেমে রক্ষণভাগ সামলানোর কৌশলে খেলে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ক্রস ফেলার দিকে মনোযোগ দিতে হয়।




