আফ্রিকার বিশ্বকাপে থাকবে বাংলাদেশও

জমকালো আয়োজনে ঘোষণা করা হলো ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোর নাম, প্রকাশ করা হলো লোগো। জোহানেসবার্গে গ্রায়েম স্মিথ, হাশিম আমলা, হ্যামিলটন মাসাকাদজাদের নিয়ে আইসিসির শীর্ষ কর্তা ও নির্বাহীদের উপস্থিতিতে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে তিন দেশ— দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার ১২টি ভেন্যুর নাম। আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভায় ঠিক হয়েছে, ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচ কাঠামোয় আনা হবে পরিবর্তন। অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১৪-ই থাকবে, তবে র্যাংকিংয়ের নিচের দিকে থাকা দলের জন্য কমে আসবে ম্যাচের সংখ্যা। আফ্রিকা মহাদেশে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফিরবে ২৪ বছর পর। র্যাংকিংয়ের হিসাব বলছে, এই আয়োজনে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণ অনেকটাই নিশ্চিত।
১৪ দলের বিশ্বকাপে তিন স্বাগতিকের ভেতর আইসিসির পূর্ণ সদস্য দুই দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে খেলবে সরাসরি। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের ভেতর আইসিসির ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের স্বাগতিক বাদে শীর্ষ আট দল সরাসরি খেলার সুযোগ পাবে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা শাহরিয়ার নাফীস।
অন্যদের পার করে আসতে হবে বাছাই পর্ব। জুলাই মাস শেষে আইসিসির ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ৯, দক্ষিণ আফ্রিকা চতুর্থ ও জিম্বাবুয়ে ১১তম। আগামী দুই মাসে এই অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে স্বাগতিক হিসেবেই সরাসরি খেলবে, সঙ্গে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দল; সেই হিসেবে একদম শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার টিকিট পেয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। তখন প্রথম দুই আসরের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে খেলতে হবে বাছাই পর্ব, যেমনটা তারা খেলেছিল ২০২৩ বিশ্বকাপের জন্য এবং উতরে আসতে পারেনি। এবারও সেরকম কিছু হলে ফুটবলের ইতালির মতোই অবস্থা হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ২০২৩ বিশ্বকাপে তারা অংশ নিতে পারেনি, এবার যদি বাছাই পর্বে ফের খেলতে হয়, তাহলে খেলার সম্ভাবনা ও বাদ পড়ার আশঙ্কা দুটিই থাকছে।
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, এই তারিখের ভেতর আর মাত্র দুটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সূচি আছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের। দুটি ওয়ানডেই র্যাংকিংয়ের শীর্ষ দল ভারতের বিপক্ষে। এ সময়ের ভেতর বাংলাদেশেরও সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভারত। ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল ভারতের, তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য সে সময় সীমান্তের এপারে আসেননি বিরাট কোহলি-রোহিত শর্মারা। সেই সফর এক বছর পিছিয়ে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হবে— এমনটাই সমঝোতা হয়েছিল। এখনো এ সিরিজের ভাগ্য ঝুলে আছে দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের ওপর। বুধবার বিসিবির সবশেষ বোর্ড সভা শেষে তামিম বলেছেন, এ ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে, বিসিবির করণীয় সামান্যই। বাংলাদেশ যদি আগামী দুই মাস আর ওয়ানডে না খেলে, তাহলে বাংলাদেশের র্যাংকিং পয়েন্ট ৩২৫১ ও রেটিং ৮৩-ই থাকবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই মুহূর্তে র্যাংকিং পয়েন্ট ২৬২৪, রেটিং পয়েন্ট ৭৭। মাত্র দুই ওয়ানডের ফল দিয়ে ৬২৭ র্যাংকিং পয়েন্ট ও ৬ রেটিং পয়েন্টের পার্থক্য ঘুচবে না। ভারতকে দুটি ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানরা যদি হারিয়েও দেয়, তাহলে তাদের ২+২= ৪ রেটিং পয়েন্ট অর্জন হবে, তবুও তারা বাংলাদেশের পেছনেই থেকে যাবে। ফলে তাদের অবস্থান বদলাবে না, দশম স্থানেই থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
তবে দেশের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ যদি হয় এবং তাতে বাংলাদেশ চূড়ান্ত খারাপ ফলাফল করে, তাহলে র্যাংকিং পয়েন্ট ও রেটিং দুই-ই কমবে বাংলাদেশের। তখন বাস্তবসম্মত সুযোগ থাকবে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও।




