বিশ্বকাপের বেদনা ভুলে এগিয়ে যাওয়ার শুরু

টি-টোয়েন্টি সিরিজের ট্রফি নিয়ে দুই অধিনায়ক। ছবি: বিসিবি
বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার যে স্বপ্নটা মনের ভেতর পুষে রেখেছিলেন লিটন দাস, সেই স্বপ্নটা সত্যি হতে হতে হলো না। অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু মানুষের একগুঁয়েমির কারণে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ থেকে দেশের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পেছনের মানুষগুলো ফিরে গেছেন যার যার ব্যক্তিগত পেশায়, ক্ষতিটা হলো ক্রিকেটারদের।
পরের আসর পর্যন্ত তাদের ফর্ম থাকবে কি না, দলে জায়গা হবে কি না, সেই অনিশ্চিত যাত্রার শুরুটা হচ্ছে আজ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হচ্ছে চট্টগ্রামে। বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে দুপুর ২টায় শুরু হবে সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে বিশ্বকাপ সামনে রেখে দলটা গুছিয়ে নিয়েছিলেন লিটন, সেজন্য শামীম হোসেন পাটোয়ারীকে আয়ারল্যান্ড সিরিজে না রাখা নিয়ে সে সময়কার প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর সঙ্গে বাহাসে জড়াতেও পিছপা হননি অধিনায়ক। দলের কনিষ্ঠ সদস্যকেও ঢাল হয়ে আড়াল করার এ মানসিকতাই টি-টোয়েন্টি দলের ক্রিকেটারদের আস্থা অর্জনে সাহায্য করেছে লিটনকে। ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত তার নেতৃত্বের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, লিটন সেই গোছানো দলটাকেই আরও প্রস্তুত করতে চান সামনের দুইটা বছর, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য ২০২৮ বিশ্বকাপ, যেটা এশিয়ার বাইরে হবে। সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করছি। গত বিশ্বকাপে আমাদের দলীয় বোঝাপড়া ও প্রস্তুতি ভালো ছিল; সেটা ধরে রাখতে চাই।’
বিশ্বকাপে না খেলার সান্ত্বনা হিসেবে দেশে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট হয়েছে, এরপর ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক কিছু ম্যাচও হয়েছে। খেলতে না পারার সেই ‘ট্রমা’ থেকে বের হয়ে এসেছেন ক্রিকেটাররা, জানালেন লিটন, ‘এরপর আমরা আরও টুর্নামেন্ট খেলেছি। যেখানে খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে ভালো ক্রিকেট খেলার। সবচেয়ে বড় জিনিস কি, যেহেতু আন্তর্জাতিক ম্যাচ, প্রত্যেকটা ম্যাচই আপনার জন্য, প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় তারা ওভাবেই চিন্তা করবে এবং বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য যা যা করণীয় দরকার, জয়ের যে মানসিকতা আছে, সেটা নিয়ে মাঠে নামবে।’
ওয়ানডে সিরিজে ভালো করা দুই পেসার, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান নেই টি-টোয়েন্টি দলে। তাদের বদলে সুযোগ হয়েছে রিপন মন্ডল ও আব্দুল গাফফার সাকলায়েনের। লিটন মনে করছেন, এতে করে অভিজ্ঞদের বিশ্রাম আর নতুনদের পরখ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে, ‘বোলারদের ক্ষেত্রে জিনিসটা খুবই সহজ যে রোটেট করে খেলানো। যে দুজন নেই, তারা বাংলাদেশের জন্য বড় সম্পদ। আমি চাই না তারা ধারাবাহিক ক্রিকেট খেলে ইনজুরিতে শেষ হয়ে যাক। সামনে আমাদের ওয়ানডে ফরম্যাটে অনেক ম্যাচ আছে। টেস্টও আছে। এদিক থেকে চিন্তা করেই আমরা কিছু কিছু জিনিসের পরিবর্তন করা শুরু করেছি। যেহেতু বিশ্বকাপ অনেক দেরি, এখনো পর্যাপ্ত সময় আছে নিজেদের উন্নতি করার। ম্যাচ খেলানোর একটা ভালো সুযোগ এই মুহূর্তে।’
লিটন ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আরও বললেন, ‘আমার সব বোলারই খুব ভালো। যদি দেখেন মোস্তাফিজ তো মোস্তাফিজই, তার জায়গা পূরণ করাটা খুবই কঠিন। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে, যেদিন মোস্তাফিজ খেলবে না, কোনো কারণে চোটগ্রস্ত হয়ে গেলে কোনো না কোনো ক্রিকেটারকে তো খেলতে হবে। ওই চেষ্টাটা করেই আমরা কিন্তু এই দলটা তৈরি করার চেষ্টা করছি। এই ছেলেরা যত গেম টাইম পাবে, তারাও একটা সময়ে উন্নতি করে মোস্তাফিজের মতো না হলেও হয়তো কাছাকাছি যেতে পারবে।’
ওয়ানডের পর টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জ লিটনদের। ছবি: বিসিবি
চট্টগ্রামের সাগরিকা স্টেডিয়ামে হয়েছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডে। ম্যাচে লিটন করেছেন হাফসেঞ্চুরি, উইকেট সম্পর্কে তার পর্যবেক্ষণ, ‘উইকেট দেখেছি। উইকেট দুই দলের জন্যই সমান থাকবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না বল খেলা হচ্ছে, বলতে পারছি না কিন্তু দেখে মনে হয়েছে ভালো উইকেট হবে। নতুন যে কিউরেটর আমাদের প্রোভাইড করছে, খুব ভালো ভালো উইকেট পাচ্ছি অনেক দিন ধরে। আশা করছি এটাও ভালো উইকেট হবে।’
যে বিশ্বকাপটা বাংলাদেশ খেলেনি, সেই আসরে নিউজিল্যান্ড রানার্সআপ। তবে সেই দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটারই ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে খেলতে, তাদের বদলে যারা এসেছেন, তাদের ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতার ওপরই আস্থা রেখেছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম, ‘আমার মনে হয় এই দলটাও অনেকটা ওয়ানডের দলের মতোই। আমাদের দলের ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা হয়তো কম। তবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তাদের অভিজ্ঞতা অনেক। তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিজ্ঞতা কম হলেও, ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে তারা যে অভিজ্ঞতা পেয়েছে, সেটি কাজে লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রতিপক্ষকে খানিকটা হালকাভাবে নিয়ে আর ধীরগতির ব্যাটিংয়ে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচটা হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ফলে হয়নি হোয়াইটওয়াশ করে রেটিং পয়েন্ট বাড়িয়ে নেওয়া। টি-টোয়েন্টিতেও যদি একই ভুল হয়, তাহলে বিশ্বকাপের ‘ট্রমা’ কাটতে না কাটতেই আরেকটা ‘ট্রমা’র শিকার হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। কারণ, টি-টোয়েন্টি দলে আফিফ হোসেন না থাকলেও সাইফ হাসান যে আছেন, তাও আবার সহঅধিনায়ক হিসেবে। পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্স যাকে দলে নিয়ে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলিয়েছিল, সেই সাইফকে একাদশে রাখার জন্য নামিয়ে দেওয়া হয়েছে মিডল অর্ডারে!




