কষ্ট নিয়েই জাতীয় দল ছাড়ছেন সালাউদ্দিন!

ছিলেন জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ। সেখান থেকে এইচপি ইউনিটের প্রধান কোচ। মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের জন্য যা একরকম ডিমোশনই হয়ে গেল। নতুন দায়িত্ব নিয়ে এই কোচের বক্তব্য প্রকাশ্যে ইতিবাচক মনে হলেও ভেতরে লুকিয়ে ছিল জাতীয় দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার আক্ষেপ ও ক্ষোভ।
পাকিস্তান সিরিজের সাফল্য গায়ে মেখে বৃহস্পতিবার মিরপুরে এসেছিলেন সালাউদ্দিন। এদিনই জাতীয় দলের সঙ্গে পথচলা আপাতত শেষ হলো তার। বিসিবি থেকে ফেরার পথে নতুন দায়িত্ব নেওয়ার অভিব্যক্তি জানাচ্ছিলেন এভাবে, ‘আমি কোনোদিন বলিনি আমাকে (বিসিবির) কোচ বানাতেই হবে। আপনারাই (বিসিবি) বানাচ্ছেন, আপনারাই দিয়েছেন, আপনারাই বাদ দিচ্ছেন, কোনো সমস্যা নেই। দিন শেষে আমি কোচ, যেখানে সুযোগ হয়, কাজ করে মজা পাব, সেখানেই কাজ করব।’
২০২৪ সালের নভেম্বরে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সালাউদ্দিন। ফারুক আহমেদ তখন বিসিবিপ্রধান। এর আগে জাতীয় দলের ব্যর্থতায় প্রায়ই নাজমুল হাসান পাপনের ক্রিকেট বোর্ডকে তুলাধুনা করতে শোনা গিয়েছিল সালাউদ্দিনকে। বিশেষ করে ব্যাটিং ব্যর্থতা ও ক্রিকেট পরিচালনায় পরিকল্পনার অভাব নিয়ে সোচ্চার ছিলেন প্রকাশ্যে।
জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর সালাউদ্দিনকে নিয়ে নতুন আশা শুরু হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন ২০১১ সালের মতোই হবে যখন জাতীয় দলে ফিল্ডিং কোচ হয়ে ভালো করেছিলেন। দলে থাকা তরুণদের মধ্য থেকে নতুন সাকিব-তামিম তুলে আনবেন। কিন্তু বছর না ঘুরতেই সেই মধুচন্দ্রিমা শেষ। পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। ২০২৩-২৪ সালের দিকে বিসিবির সমালোচনা করা সালাউদ্দিন নিজে যখন ব্যর্থ হচ্ছিলেন, বিশ্লেষকরা তখন তাকে ‘পরিকল্পনাহীন কোচ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন।
পাশাপাশি গত নভেম্বরে মোহাম্মদ আশরাফুলকে ব্যাটিং কোচ করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। ওই সময়ই দায়িত্ব উপভোগ করছেন না জানিয়ে বিসিবির কাছে পদত্যাগপত্রও পাঠিয়েছিলেন সালাউদ্দিন। যদিও পরে বোর্ড তাকে বুঝিয়ে জাতীয় দলের সঙ্গেই রাখে। তবে এবার তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এইচপি দলের হেড কোচের দায়িত্ব দিয়ে।
নতুন দায়িত্ব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইতিবাচক দেখা গেল সালাউদ্দিনকে, ‘দেখুন, জীবনে বেঁচে থাকলে আপনাকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। আমি বলব, এইচপি একটা রোমাঞ্চকর জায়গা, যেখানে আরেকটু ভালো কাজ করতে পারব। দেশের আরেকটা প্রজন্ম যদি আরেকটু ভালো হয়, তাহলে এ কাজ মনে হয় আরও বেশি মহৎ। এ কারণেই এখানে আসা।’
তবে জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম ছেড়ে গেলেও ক্রিকেটারদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন না সালাউদ্দিন, ‘আমি তো স্টেডিয়াম থেকে দূরে চলে যাচ্ছি না। স্টেডিয়ামের কাছাকাছিই আছি। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদেরই কোচিং করাব। তাই মিস করার কিছু নেই। হয়তো ড্রেসিংরুমের ভেতরটা মিস করব। সেই সময়গুলো ভালো ছিল। এ ছাড়া মিস করার কিছু নেই। কোচিং তো আমাকে করতেই হবে। ক্রিকেটাররা আমার কাছেই আসবে।’
সালাউদ্দিনের কথায় নতুন দায়িত্ব নেওয়ার দৃঢ়তা থাকলেও জাতীয় দলের ড্রেসিংরুম ছাড়ার কষ্টটাও স্পষ্টভাবেই ধরা পড়েছে।




