জাস্টিন গ্রিভস
ব্র্যাডম্যানের পাশে নিজের নাম দেখা খুবই স্পেশাল

টেস্ট ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকেই ক্যারেবিয়ান অল-রাউন্ডার জাস্টিন গ্রিভস নিজের কঠিন মানসিকতা ও চাপের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর অদ্ভুত ক্ষমতার প্রদর্শনী দেখিয়ে যাচ্ছেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মহাকাব্যিক ২০১* কিংবা গত জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৮০ রানের ইনিংস—বিপদের মুখে প্রতিরোধ গড়াই যেন তার অভ্যাস। বাংলাদেশ সফরের মাঝপথে এক সাক্ষাৎকারে শুনিয়েছেন নিজের গল্প।
ইতোমধ্যে ঢাকা টেস্ট জিতে সিরিজে এগিয়ে গেছে উইন্ডিজ। ‘ইএসপিএনক্রিকইনফো’-কে সেই জয়ের অনুভূতি নিয়ে গ্রিভস জানান, ‘বাংলাদেশের মাটিতে জয় দিয়ে সফর শুরু করতে পারাটা দুর্দান্ত বিষয়। বিদেশের যেকোনো দলের জন্যই এখানকার কন্ডিশনে মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন। প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়াটা আমাদের জন্য অনেক বড় ইতিবাচক দিক, যা পরবর্তী ম্যাচের আগে দলকে ছন্দ ধরে রাখতে সাহায্য করবে।’
চাপের মুখে বড় রান করা এবং অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজের ফিটনেস ও খেলায় পরিবর্তন আনা নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘মাঠে নামার পর আমার মূল লক্ষ্য থাকে নিজের পরিকল্পনার বিষয়ে পরিষ্কার থাকা। কেমার রোচ আমাকে সবসময় বড় রান করার তাড়না দেন। বার্বাডোজের হয়ে খেলার সময় থেকেই কেমার বলতেন—কখনোই মাঝারিমানের স্কোরে সন্তুষ্ট হওয়া যাবে না, প্রতিটি সুযোগেই সেরাটা দিতে হবে। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে আমি বুঝেছি, ডিসিপ্লিন কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা কিংবা জিমে বাড়তি সময় দেওয়া নিয়ে আমার কোনো দ্বিধা ছিল না। কারণ আমি সবসময়ই নিজেকে পবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে চাই।’ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে সেই অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি এবং কেমার রোচের সঙ্গে জুটি গড়ার স্মৃতি স্মরণ করে এই ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটার বলেন, ‘সেই ম্যাচে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সারাদিন ব্যাটিং করে যাওয়া। শাই হোপের সঙ্গে ব্যাট করা সবসময়ই সহজ, আমরা চ্যালেঞ্জটা দারুণভাবে উপভোগ করেছিলাম। যখন দ্রুত উইকেট পড়ে গেল এবং কেমার রোচ ব্যাটিংয়ে নামল, ও আমাকে শান্ত থাকতে বলেছিল। রোচ বলেছিল প্রতিটা বল ধরে ধরে এগোতে এবং দিনের শেষের কথা না ভেবে খেলায় মনোযোগ দিতে। কেমারের মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যাটার অন্য প্রান্তে থাকাটা আমার জন্য কাজটা সহজ করে দিয়েছিল। দল হিসেবে ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরে আমরা দারুণ খুশি ছিলাম।’
টেস্টের ৬ নম্বর বা তার নিচে ব্যাটিং করতে নেমে দুবার ১৮০ বা তার বেশি রান করার কীর্তিতে জাস্টিন গ্রিভসের পাশে আছেন শুধু কিংবদন্তি ডন ব্র্যাডম্যান। পরিসংখ্যানে স্যার ডনের পাশে নিজের নাম দেখাটা গ্রিভসের কাছে বিশেষ কিছু, ‘পরিসংখ্যান নিয়ে আমি কখনোই খুব বেশি ভাবি না। তবে ইতিহাস ঘেঁটে ডন ব্র্যাডম্যানের পাশে নিজের নাম দেখতে পাওয়াটা সত্যিই বিশেষ একটি অনুভূতি। একজন পেশাদার হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, ক্রিকেটে ভালো দিনের চেয়ে খারাপ দিনই বেশি আসবে। আপনি হয়তো প্রতিদিন সেঞ্চুরি কিংবা ৫ উইকেট নিতে চাইবেন, কিন্তু প্রতিদিন সেটা হবে না। সে কারণেই সাফল্য কিংবা ব্যর্থতায় খুব বেশি ভেসে যাওয়া যাবে না, একটা সঠিক মধ্যমপন্থা ধরে রাখতে হবে। দল যখন জিতবে, ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে সেটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেবে।’
কোচ ড্যারেন স্যামির অধীনে তার চিন্তার রূপান্তর এবং নেটে পেসাদের সামলানো নিয়ে গ্রিভসের ভাষ্য, ‘আমাদের দলে আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলসের মতো গতিশীল ও আগ্রাসী পেসাররা রয়েছে। নেটে তাদের মুখোমুখি হওয়া এবং নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা করাটা দারুণ। কারণ আপনি অনুশীলনকে যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচের সমপর্যায়ের কঠিন করে তুলবেন, মূল ম্যাচে গিয়ে মানিয়ে নেওয়া ততটাই সহজ হবে। গত ১২ মাসে আমার মধ্যে বেশ বড় পরিবর্তন এসেছে। আমি আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিপক্ব হয়েছি এবং নিজের ভালো-খারাপ সময়ের মানসিক ভারসাম্য ধরে রাখতে শিখছি।’






