স্প্যানিশ ফুটবলারের মৃত্যু
শাস্তির মুখে সেই গোলরক্ষক, হতে পারে ফৌজদারি মামলাও

সংগৃহীত ছবি
স্প্যানিশ ফুটবলে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে হেসুস দে মিগেলের মৃত্যু। টেনেরিফের এই স্ট্রাইকারের মৃত্যুর ঘটনায় আলোচনায় উঠে এসেছেন আন্দোরার গোলরক্ষক হেসুস ওনোও। ম্যাচে বলের দখল নিতে গিয়ে তার সঙ্গে সংঘর্ষেই গুরুতর আহত হয়েছিলেন দে মিগেল। শেষ পর্যন্ত মাঠেই লুটিয়ে পড়া এই ফুটবলারের মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওনোও নিজেও।
সোমবার বিকেল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পুরো ঘটনায় চরম ধাক্কা খেয়েছেন এই গোলরক্ষক। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগতভাবে দে মিগেলের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের দুঃখ প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে স্ট্রাইকারের মৃত্যুর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র আক্রমণের শিকার হচ্ছেন ওনোও। এমনকি কিছু সমর্থক তাকে খুনি বলেও আক্রমণ করেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে মন্তব্য করার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে মাঠের ঘটনার জন্য ক্রীড়াগত শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি দায়ের বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের সঙ্গে খেলাকালীন সহিংস আচরণ করে গুরুতর চোটের কারণ হলে চার থেকে ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা হতে পারে।
ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধির ১০২ নম্বর ধারায় এমন শাস্তির কথা বলা হয়েছে। ওনোওর ঘটনাটি এই ধারার আওতায় পড়ে কি না, তা নির্ধারণ করবে শৃঙ্খলা কমিটি। তবে আট, ১০ কিংবা ১২ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এই ধারার আওতায় রয়েছে। খেলোয়াড়ের মৃত্যু হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। ঘটনার ধরন ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ক্রীড়াগত শাস্তির বাইরে ওনোওর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। স্পেনের আইনে খেলার মাঠে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনায় মৃত্যু হলে সেটি ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়ার বাইরে থাকে না। তবে শুধু কোনো খেলোয়াড়ের সঙ্গে সংঘর্ষের পর প্রতিপক্ষের মৃত্যু হয়েছে, এতেই অপরাধ প্রমাণিত হয় না। প্রমাণ করতে হবে যে গোলরক্ষকের আচরণে আইনগতভাবে শাস্তিযোগ্য অবহেলা ছিল।
স্পেনের ফৌজদারি আইনের ১৪২ নম্বর ধারায় গুরুতর অবহেলায় মৃত্যু এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অবহেলায় মৃত্যুর জন্য আলাদা শাস্তির বিধান রয়েছে। গুরুতর অবহেলায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে এক থেকে চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
তবে এসব আইনি বিধান থাকলেও ওনোওর বিরুদ্ধে মামলা হবে বা তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন এমনটা নিশ্চিত নয়। এ ক্ষেত্রে দেখতে হবে খেলোয়াড় হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে গুরুতর অবহেলা ছিল কি না, দুর্ঘটনাটি আগে থেকে অনুমান করা ও এড়ানো সম্ভব ছিল কি না এবং তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি আইনি সম্পর্ক রয়েছে কি না।
ফেডারেশনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং সম্ভাব্য ফৌজদারি তদন্ত দুটি আলাদা প্রক্রিয়া। ফেডারেশন তাদের শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনা করবে। অন্যদিকে ফৌজদারি দায় নির্ধারণ হবে সংশ্লিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের নিয়মেও ক্রীড়াগত ও ফৌজদারি দায়কে আলাদা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোনো ঘটনায় অপরাধের ইঙ্গিত পাওয়া গেলে সেটি সরকারি দপ্তরে পাঠানোর সুযোগও রয়েছে।
সবকিছুর বাইরে ব্যক্তিগতভাবে কঠিন সময় পার করছেন ওনোও। টেনেরিফের আক্রমণ ঠেকাতে গোলপোস্ট ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু বলের দখল নিতে গিয়ে ঘটে যায় মর্মান্তিক সংঘর্ষ। যার পরিণতি হয়েছে এক ফুটবলারের মৃত্যু।



