জাপানে ক্রিকেটের যাত্রা
‘খেলাটা ঠিক বুঝতে পারছি না, তবে বেশ মজা লাগছে’

করোজি স্পোর্টস পার্কে ক্রিকেট উন্মাদনা। ছবি: সংগৃহীত
জাপান গোটা বিশ্বে পরিচিত তাদের উন্নত টেকনোলজি দিয়ে। আর খেলাধুলার দুনিয়ায় তাদের পরিচিতি ফুটবল আর বেসবলে। কিন্তু ক্রিকেট নিয়ে জাপানিদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের নাগোয়ায় বসতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের আসর। আর এই গেমসকে সামনে রেখে জাপানে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিকেট।
নাগোয়ার কেন্দ্র থেকে ৪০ মিনিটের ট্রেন দূরত্বে অবস্থিত করোজি স্পোর্টস পার্ক। এক সময়ের বেসবল মাঠকে রূপান্তর করা হয়েছে ক্রিকেট মাঠে। বর্তমানে এখানে ২০২৮ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইস্ট এশিয়া-প্যাসিফিক কোয়ালিফায়ার ম্যাচ চলছে। সেখানে জাপান ও ভানুয়াতুর মধ্যকার ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন অনেক স্থানীয় জাপানি দর্শক। ক্রিকেট মাঠে দর্শকদের ভিড় নতুন বার্তা দিচ্ছে দেশটির ক্রীড়াঙ্গনে।তেমনই একজন দর্শক ৩৪ বছর বয়সী ইউয়া ওকি মাসু। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে গ্যালারিতে বসে হাতে থাকা রুলবুক (ক্রিকেটবিষয়ক নিয়মকানুনের বই) দেখে বোঝার চেষ্টা করছিলেন খেলাটি। বার্তা সংস্থা এএফপিকে তিনি বলেছেন, ‘আমি খেলা দেখছি আর রুলবুকে চোখ বুলাচ্ছি। সত্যি বলতে, খেলার সবটুকু বুঝতে পারছি না, তবে এটা দেখতে বেশ মজা লাগছে।’
এএফপি জানিয়েছে, কোয়ালিফায়ার ম্যাচগুলোতে প্রায় ৩০০ দর্শক নিয়মিত উপস্থিত হচ্ছেন। তবে এশিয়ান গেমসের সময় অস্থায়ী গ্যালারি বসিয়ে এর ধারণক্ষমতা ২ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। মাঠের কিউরেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের অভিজ্ঞ কিউরেটর অসিথা উইজেসিংহে। সেখানকার উইকেট তৈরি করা হয়েছে উপমহাদেশের মতো স্পিন সহায়ক, তবে বাউন্সও থাকবে। জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (জেসিএ) প্রধান নির্বাহী নাওকি আলেক মিয়াজি জানিয়েছেন, ‘নাগোয়া এলাকাটি ক্রিকেটের জন্য একদমই নতুন। তবে এশিয়ান গেমসকে কেন্দ্র করে এখানে ক্রিকেটের একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করার চেষ্টা চলছে।’
জাপান জাতীয় দলের অধিনায়ক কেন্ডেল কাডাওয়াকি-ফ্লেমিং নতুন এই মাঠ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেছেন, ‘মাত্র কয়েক মাস আগে মাঠটির কাজ শুরু হলেও এটি এখন চমৎকার অবস্থায় আছে। এশিয়ান গেমস নিয়ে আমরা দারুণ রোমাঞ্চিত।’






