আশার প্রয়াণে ‘মাতৃহারা’ টেন্ডুলকার

আশা ভোঁসলেকে ‘আই’ বা মা ডাকতেন টেন্ডুলকার। ছবি: সংগৃহীত
একজন মুগ্ধ করেন সুরের জাদুতে। অন্যজন ব্যাটিংয়ে। দুই ভুবনের হলেও মুম্বাইয়ের বিশ্বখ্যাত দুই তারকা আশা ভোঁসলে ও শচীন টেন্ডুলকার একে অপরের পরিবারের সদস্যই হয়ে উঠেছিলেন।
তাদের সম্পর্কের শিকড়ও লুকিয়ে অনেক গভীরে। সুরকার শচীন দেব বর্মণের নামে নামকরণ করা হয়েছিল শচীন টেন্ডুলকারের। আর শচীন দেব বর্মণের পুত্রবধূ ছিলেন আশা। সেখান থেকেই তৈরি হয়েছিল এক মা-ছেলের গল্প।
সেই আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন টেন্ডুলকার। ‘এক্সে’ তাকে ‘তাই’ সম্বোধন করে লিখেছেন, ‘ভারতের জন্য গভীর শোকের দিন। … আমরা তোমাকে ভাষায় প্রকাশ করার চেয়েও বেশি মিস করব। আশা তাই।’
আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে ‘এক্সে’ শচীন টেন্ডুলকারের শোক। ছবি: সংগৃহীত
ক্রিকেটের ভক্ত ছিলেন আশা ভোঁসলে। নিয়মিত মাঠে গিয়ে খেলা দেখতেন। সেখান থেকেই পুত্রসম শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে পরিচয়। কিংবদন্তি গায়িকা বারবার বলেছেন, নিজের ছেলের মতোই তিনি স্নেহ করেন টেন্ডুলকারকে।
গত মাসেই বিয়ে করেছিলেন শচীনপুত্র অর্জুন। 'নাতি'র জীবনের বিশেষ দিনে আশীর্বাদ করতে বিবাহবাসরে এসেছিলেন আশা। সেদিনই শেষবার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছিল কিংবদন্তি গায়িকাকে।
কিংবদন্তি সেই সংগীতশিল্পীর প্রয়াণে শোকে মুহ্যমান পুরো ভারত। একই সঙ্গে 'মা' হারানোর যন্ত্রণা পেয়েছেন শচীন টেন্ডুলকারও।
এই গায়িকা একবার বলেছিলেন, টেন্ডুলকার তাকে 'আই' বলে ডেকেছেন। মারাঠি ভাষায় 'আই' শব্দের অর্থ মা। নিজের মায়ের পাশাপাশি কিংবদন্তি গায়িকাকেও সব সময় 'মা' সম্বোধন করে এসেছেন তিনি। এমন শ্রদ্ধা-ভালোবাসা পেয়ে আপ্লুত হয়ে ছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা।
যেদিন প্রথমবার 'মা' ডাক শুনেছিলেন ক্রিকেট কিংবদন্তির মুখ থেকে, সেই দিনটা ভুলবেন না বলে জানিয়েছিলেন আশা। কিংবদন্তি গায়িকা আরও জানিয়েছিলেন, শচীনের মতো ছেলে থাকলে তার গর্ব হতো।
সংগীত ক্যারিয়ারের একের পর এক মাইলফলক পেরিয়েছেন আশা। দেশে-বিদেশে পেয়েছেন সম্মান। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও জায়গা করে নিয়েছেন। তবে পাননি ভারতের সর্বোচ্চ সম্মান ভারতরত্ন।
নিজে না পেলেও 'ছেলে' শচীন যেন ভারতরত্ন পান, সেই দাবিতে বারবার সোচ্চার হয়েছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা। ২০১৩ সালে টেন্ডুলকার ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হন। 'ছেলে'র সাফল্যে গর্বিত হয়েছিলেন আশা ভোঁসলে।
অঞ্জলি ও টেন্ডুলকারের সঙ্গে আশা ভোঁসলে। ছবি: সংগৃহীত
টেন্ডুলকারের স্ত্রী অঞ্জলিও মায়ের মতো সম্মান করেছেন কিংবদন্তি গায়িকাকে। অঞ্জলি ও টেন্ডুলকারের জন্য নিজের বিখ্যাত গান 'ইন আঁখো কি মস্তি ম্যায়' গেয়েছিলেন আশা।
অস্ট্রেলিয়ার পেসার ব্রেট লি'র সঙ্গেও একটি গান করেছিলেন আশা। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ইউ আর দ্য ওয়ান ফর মি’ হয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়।
টেন্ডুলকার প্রতি জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতেন আশাকে। অনেক অনুষ্ঠানেও 'মা-ছেলে'কে দেখা গেছে একসঙ্গে। বয়সের ভারে অশক্ত শরীর নিয়েও ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়েছিলেন আশা। তারপর দুই কিংবদন্তিকে একসঙ্গে দেখা যায় একটি চ্যাট শো'য়ে। আর সবশেষ দেখা যায় টেন্ডুলকারেরই ছেলের বিয়েতে।

