বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থবার ঘটল এমন ঘটনা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টের স্মৃতি বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য খুব একটা সুখকর হলো না। স্বাগতিকদের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দুই দিনেই ম্যাচ হেরে গেছে টাইগাররা। সিরিজ ১-১ ড্র হলেও দুই দিনের মধ্যে ম্যাচ শেষ হয়ে যাওয়ায় টেস্ট ইতিহাসের এক বিরল রেকর্ডে নাম উঠেছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার। দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে এটি চতুর্থ সংক্ষিপ্ততম ম্যাচ।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুই দিনে টেস্ট শেষ হওয়ার ঘটনা এটি মাত্র পঞ্চম, যার মধ্যে চারটিই ঘটেছে গত পাঁচ বছরের মধ্যে। ম্যাকাই টেস্টে পুরো ম্যাচে বল গড়িয়েছে মাত্র ৭৫০টি। টেস্ট ইতিহাসের সংক্ষিপ্ততম ম্যাচের তালিকায় এটি চতুর্থ স্থানে রয়েছে। এর আগে ২০২৩/২৪ মৌসুমে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতের মধ্যকার ৬৪২ বলের ম্যাচটি ইতিহাসের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম টেস্টের রেকর্ড ধরে রেখেছে। ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের করুণ দশা ফুটে উঠেছে পরিসংখ্যানে। দুই ইনিংসে যথাক্রমে মাত্র ৬৪ ও ৯৫ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। ১৯৬০ সালের পর থেকে টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এটি মাত্র চতুর্থ ঘটনা, যেখানে কোনো দল উভয় ইনিংসে একশ রানের নিচে অলআউট হলো। এর আগে ১৯৮৪ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ড, ২০০২ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাকিস্তান এবং ২০০৫ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে এই বিব্রতকর রেকর্ডের মুখে পড়েছিল।
এই টেস্টে বাংলাদেশের মোট ম্যাচ সংগ্রহ মাত্র ১৫৯ রান, যা টেস্ট ক্রিকেটে তাদের সর্বনিম্ন ম্যাচ টোটালের রেকর্ড। এর আগে ২০১৮ সালে নর্থ সাউন্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৮৭ রান ছিল তাদের সর্বনিম্ন ম্যাচ সংগ্রহের রেকর্ড। এছাড়া প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার করা ২১০ রান ইনিংস ব্যবধানে জয় পাওয়া দলগুলোর মধ্যে চতুর্থ সর্বনিম্ন প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের রেকর্ড গড়েছে। অজি পেসার মিচেল স্টার্ক এই ম্যাচে বল হাতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছেন। টেস্টের প্রথম বল থেকেই উইকেট শিকারের বিশ্বরেকর্ড সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থবারের মতো প্রথম বলে উইকেট নিয়ে তিনি ভেঙে দিয়েছেন পেড্রো কলিন্সের (৩ বার) রেকর্ড। সব মিলিয়ে টেস্টের প্রথম ওভারে এটি তার নবম উইকেট, যা ইংলিশ কিংবদন্তি জেমস অ্যান্ডারসনের (৮টি) চেয়েও বেশি।
ম্যাচে মোট ১০ উইকেট শিকার করেছেন স্টার্ক। বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে টেস্টে এটি তাঁর চতুর্থ দশ উইকেট। পাঁচবার ১০ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ডের চূড়ায় আছেন ‘সুলতান অব সুইং’ ওয়াসিম আকরাম। অন্যদিকে দলের হার সত্ত্বেও পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল ছিলেন টাইগার পেসার শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম ইনিংসে ৪৮ রান খরচায় ৭ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।
টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে এটি তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার এবং পেসারদের মধ্যে সেরা। এর আগে ২০০৮ সালে মিরপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শাহাদাত হোসেন রাজীবের ৬/২৭ ছিল পেসারদের সেরা ফিগার। এছাড়া টেস্টের উদ্বোধনী দিনে মিচেল স্টার্ক এবং শরিফুল ইসলাম দুজনেই ৬টি করে উইকেট শিকার করেছেন, যা রীতিমতো বিরল।








