তদন্ত কমিটির ডাকে যাননি আসিফ, ফেসবুকে দিলেন সাফাই

সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। আজ রবিবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে সেই তদন্ত রিপোর্ট জমাও পড়েছে। তবে সেই কমিটি তদন্তের স্বার্থে ডাকলেও সাড়া দেননি তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুইয়া। এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি ফেসবুকে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান একেএম আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘আসলে ডেকেছিলাম বলতে, উনি কিছু বলতে চান কিনা সেই জন্য। উনাকে অভিযুক্ত করার জন্য না। আমরা জাস্টিফিকেশনের জন্য কিছু বলি নাই। উনাকে সময় দিয়ে ডাকা হয়েছিল, উনি আমাদের কাছে আসেননি।’
তদন্তের প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘সশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা চেষ্টা করেছি নিয়ে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। উনারা উত্তর দেন নাই, আমাদের লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। যা পেয়েছি তাইতো… এইটা বলতে গেলে তো অন্যরকম ইয়েতে টাচ করে যাচ্ছে। আর বলতে চাচ্ছি না আমি। যা পেয়েছি, পেয়েছি।’গত বছরের ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিসিবির নির্বাচনে বেশ আলোচনায় ছিলেন আসিফ মাহমুদ। সরাসরি উপদেষ্টার ক্ষমতা ব্যবহার করে জেলা ও বিভাগে কাউন্সিলর তালিকা বদলানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। বেশকিছু অভিযোগ তুলে তখন থেকেই ঘরোয়া ক্রিকেট বয়কট করে আসছে ঢাকার শীর্ষ ক্লাবগুলো। স্থবির হয়ে পড়েছে ঘরোয়া ক্রিকেট। এ অবস্থায় আসিফ মাহমুদ তদন্ত কমিটির ডাকে না গেলেও নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সাফাই দিতে ভোলেননি।
আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, ‘অবৈধভাবে বোর্ড ভাঙার প্রক্রিয়ায় আইসিসি যেন কোনো ব্যবস্থা না নেয় তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একজন স্বনামধন্য ক্রিকেটার লবিংয়ে ব্যস্ত। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি তিনি সাবেক বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে লন্ডনে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তিনি আইসিসি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ পুত্র জয় শাহের সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিতে নাজমুল হাসান পাপনকে অনুরোধ জানান।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘এর আগেও বিসিবি নির্বাচনের সময় তাঁর বিরাট কোহলির মাধ্যমে জয় শাহকে রিচ করার চেষ্টার বিষয়ে বলেছিলাম। অবৈধভাবে বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি থেকে সম্ভাব্য ফাইনান্সিয়াল ব্যান কিংবা অন্য কোনো ধরনের ব্যবস্থা যেন গ্রহণ না করা হয় সেটা নিশ্চিত করতে জয় শাহকে অনুরোধ জানাতেই এসব লবিং। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আইসিসির কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নজির আছে।’
শেষে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘আমি জাতীয়ভাবে গণভোট, জুলাই সনদ, অধ্যাদেশ বাতিলসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিসিবির ব্যাপারে কিছু বলব না ভেবেছিলাম। কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আবারও পার্শ্ববর্তী দেশ এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের অন্তর্ভুক্তির পাঁয়তারার খবর শুনে মনে হলো দেশবাসীর এসব জানা থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার কি এসব বিষয়ে অবগত? নাকি সবাই মিলেই হচ্ছে সবকিছু।’



