ব্রিটিশ নাগরিকত্বে এলপিএলে আমির, আইপিএল খেলা নিয়েও গুঞ্জন

সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক দশকের ক্যারিয়ার। এরপর জাতীয় দল থেকে বিদায়। তবে মোহাম্মদ আমিরের ক্রিকেট যাত্রা এখনো থেমে নেই। বরং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে ৩৪ বছর বয়সী এই পেসারের সামনে। বিশেষ করে আইপিএলে খেলার সুযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
আসন্ন আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) খেলোয়াড় ড্রাফটে নাম লিখিয়েছেন আমির। সেখানে তার নিবন্ধন যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে। আগামীকাল ৩ নভেম্বর দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই ড্রাফট। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরি প্লাটিনামে রাখা হয়েছে বাঁহাতি এই পেসারকে।
২০২৬ সালের মে মাসে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান আমির। তবে ড্রাফটের তালিকায় তার বসবাসের দেশ যুক্তরাজ্য উল্লেখ থাকলেও ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে দেখানো হয়েছে পাকিস্তানকে। ফলে ব্রিটিশ পাসপোর্টের সুবাদে আইপিএলে খেলার সুযোগ তৈরি হবে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
এক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারেন আজহার মাহমুদ। পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া এই অলরাউন্ডার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আইপিএলে খেলেছেন। কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। আমিরের ক্ষেত্রেও একই পথ খোলা আছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে আগামী ১৬ ডিসেম্বর গোয়ায় অনুষ্ঠিত আইপিএলের মিনি নিলামে।
পাকিস্তানের হয়ে ৩৬ টেস্ট, ৬১ ওয়ানডে ও ৬২ টি-টুয়েন্টি খেলেছেন আমির। ২০২৪ সালের জুনে লডারহিলে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচটিই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শেষ উপস্থিতি।
ব্রিটিশ নাগরিকত্বের কারণে এপিএলে খেলার ক্ষেত্রে আরেকটি সুবিধাও পেতে পারেন আমির। তার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনাপত্তিপত্রের প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে পাকিস্তানের অন্য ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়তে পারে টুর্নামেন্টে।
ফখর জামান, সাইম আইয়ুব, হাসান আলী, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শফিক, ফাহিম আশরাফ ও ইমাদ ওয়াসিমসহ ৩০ জনের বেশি পাকিস্তানি ক্রিকেটার ড্রাফটে নাম দিয়েছেন। তবে তাদের এনওসি পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী নয় পিসিবি। ক্রিকবাজকে বোর্ডটির এক মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমার তা মনে হয় না।’ এপিএলের ড্রাফট তালিকাতেও পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ পিসিবির এনওসির ওপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আমিরের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সুযোগ আইপিএল পর্যন্ত গড়াবে কি না, সেটি নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট নিয়ম ও নিলামের পরিস্থিতির ওপর।



