প্রস্তুতি ম্যাচে অপ্রস্তুত বাংলাদেশ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ বছর পর টেস্ট সিরিজ খেলতে গিয়ে লজ্জায় পড়েছে বাংলাদেশ দল। প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়েছেন ব্যাটাররা।
প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম ইনিংসে এক অফস্পিনারের বলে আউট হলেন ছয় ব্যাটার। মনে হতেই পারে, তাহলে ব্যাটাররা পেসারদের ভালো সামলেছেন? কিন্তু না। পরের ইনিংসেই এই ধারণা পাল্টে এক পেসারের গতিঝড়ে উড়ে গেলেন আট ব্যাটার। বাংলাদেশ ব্যাটারদের দুর্বলতা যে ঠিক কোথায়, তা আগে থেকে বলার কোনো উপায় নেই, যা ধারণা করা হবে সেটাই ভুল প্রমাণ হয়েছে এই প্রস্তুতি ম্যাচে।
অথচ এতদিনে ব্যাটারদের সাফল্যগুলো দেখে তাদের নিয়ে আশা ছিল। বোলিং শক্তি খর্ব হওয়ায় এবার তাদের দিকে তাকিয়ে ছিলেন সমর্থকরা। গত কয়েক সিরিজে বিশেষ করে পাকিস্তানের মাঠে, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড এবং ঘরের মাঠে আবারও পাকিস্তানের বিপক্ষে একাধিক সেঞ্চুরি পেয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিমরা।
গত পাঁচ সিরিজ হিসাব করলে নাজমুল হোসেন শান্ত চারটি, মুশফিকুর রহিম তিনটি ও লিটন দুটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন। অথচ অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে নেমে শান্ত-মুশফিকরা প্রস্তুতি ম্যাচেই হতাশ করলেন।
ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রান করেছিল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া তাদের ইনিংসে করেছে ৩৫৫ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ৩৮ রানের হার দেখেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইন গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন কোরে রোচচিলি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ উইকেট নিয়ে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন বাঁহাতি পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন। রোচচিলি এই ইনিংসে নিয়েছেন ২ উইকেট।
বাংলাদেশের সাবেক নির্বাচক ও বর্তমানে বিসিবি পরিচালক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু এমন হারে বলেই দিলেন, ‘একটা প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৪ রানে অলআউট হওয়া একদমই ভালো লক্ষণ নয়। কন্ডিশন, বিপক্ষ বোলার, যেকোনো বিষয়কেই সামনে আনা হোক না কেন, সেটা অবাঞ্ছিত। প্রস্তুতি ম্যাচ আপনাকে খেলতে দেওয়া হয় যেন নিজেকে তৈরি করতে পারেন। বাংলাদেশের এই ইনিংস দেখে স্পষ্ট বলা যায়, ব্যাটারদের কোনো প্রস্তুতিই হয়নি।’
ব্যাটিং ব্যর্থতাই যে ডুবিয়েছে, তা অকপটে স্বীকার করেছেন হেড কোচ ফিল সিমন্স। বাংলাদেশ কোচের ভাষায়, ‘এটা স্বীকার করতে বাধা নেই যে, ব্যাটিং
বিভাগ দিয়েই আমরা নিজেদের ডুবিয়েছি। যেভাবে ব্যাটাররা আউট হয়েছে, তা দৃষ্টিকটু। এখন টেস্টের আগে কী নিয়ে কাজ করতে হবে, সে ব্যাপারে আমরা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। এটা খুবই হতাশাজনক পারফরম্যান্স ছিল।’
অস্ট্রেলিয়া টেস্টের দল ঘোষণার সময় হাবিবুল বাশার জানিয়েছিলেন, ডারউইনের উইকেট বাংলাদেশের মতোই। অনেক বেশি পার্থক্য নেই। সেদিক থেকে নিজেদের মাঠে আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর ব্যাটারদের এমন মুখ থুবড়ে পড়া মেনে নেওয়া কঠিন।




