সাংবাদিকের প্রশ্নে চটে গেলেন গ্লেন ফিলিপস

সংগৃহীত ছবি
আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ারে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে বড় ব্যবধানে হেরে গেছে গুজরাট টাইটান্স। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে যখন গ্লেন ফিলিপস এলেন, তখন অনেক সাংবাদিকই কিছুটা অবাক হয়েছিলেন। কারণ এই ম্যাচের মূল একাদশেই ছিলেন না নিউজিল্যান্ডের এই ব্যাটার। তবে সংবাদ সম্মেলন যত গড়িয়েছে, ফিলিপসকে তত বেশি কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
একপর্যায়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন— আরসিবি যখন বোর্ডে ২৫৪ রানের বিশাল পাহাড় গড়েছিল, তখন কি গুজরাট টাইটান্স ম্যাচ শুরুর আগেই মানসিকভাবে পরাজয় মেনে নিয়েছিল?
সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে রীতিমতো স্তব্ধ হয়ে যান ফিলিপস। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই সাংবাদিককে কড়া ভাষায় ধুয়ে দেন। ফিলিপস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পেশাদার ক্রিকেটাররা মাঠে নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেন এবং সেখানে হাল ছেড়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
ফিলিপস বলেছেন, “এটা একটা বোকার মতো প্রশ্ন। সত্যিই খুব ফালতু প্রশ্ন। কোনো ক্রিকেটারই মাঠে নামার আগে এমনটা ভাবে না যে— ‘আচ্ছা, এই ম্যাচটা আমরা এমনিই ছেড়ে দিই।’ পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমরা কেন এমনটা করব? এটা অত্যন্ত বাজে একটি প্রশ্ন। আমরা মাঠে গিয়েছিলাম এবং আমাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি। দুর্ভাগ্যবশত, যখন আপনি ২৫০ রান তাড়া করতে যাবেন, তখন আপনার সবকিছু নিখুঁত হতে হবে। আমরাও সবকিছু ঠিকঠাক করার চেষ্টাই করেছিলাম, কিন্তু আজ তা হয়নি।”
২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাট টাইটান্স শেষ পর্যন্ত ১৬২ রানে অলআউট হয়, ফলে ৯২ রানের বড় ব্যবধানে হারতে হয় তাদের। শুবমান গিল, সাই সুদর্শন এবং জস বাটলারের মতো টপ-অর্ডার ব্যাটাররা দ্রুত বিদায় নেওয়ায় গুজরাটের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। ফিলিপস স্বীকার করেছেন যে, স্কোরবোর্ডের বিশাল চাপই এই ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল কারণ।
তিনি বলেছেন, 'যখন আপনি ২৫০ রান তাড়া করেন, তখন স্কোরবোর্ডের একটা বিশাল চাপ থাকে। খুব কম দলই এই রান তাড়া করে জিততে পেরেছে। পাঞ্জাব কিংস অবশ্য কয়েকবার এটি করে দেখিয়েছে, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তারা হয়তো বিষয়টিকে যতটা সহজ মনে হয়, তার চেয়েও সহজ বানিয়ে ফেলেছে। আমি নিজে এখনো এমন কোনো দলের অংশ হতে পারিনি যারা ২৫০ রানের কাছাকাছি যেতে পেরেছে। তাই মাঝেমধ্যে পরিস্থিতি যেমন থাকে, তেমনই মেনে নিতে হয়।'
ম্যাচে না খেলেও সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে আসাটা কোনো অদ্ভুত অনুভূতি তৈরি করছে কি না— আরেক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে বেশ পরিপক্বতার পরিচয় দেন ফিলিপস, 'না, এতে কোনো সমস্যা নেই। আমরা সবাই একটা দলের অংশ এবং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবারই সমান। আমি মনে করি, যে ক্রিকেটাররা মাঠে খেলেনি, তাদের বাইরের দৃষ্টিভঙ্গিটা দলের জন্য এখন বেশি সাহায্য করবে। কারণ যারা খেলেছে, তাদের এখন এলিমিনেটর ম্যাচের জন্য মনোযোগ ধরে রাখতে হবে, মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে।'
দলের কোচ আশিস নেহরার একটি চিরচেনা ডায়ালগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ফিলিপস হাসিমুখে যোগ করেন, 'আমরা এই পর্যন্ত আসার আগে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছি। তাই এখন মাঠের খেলোয়াড়দের পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। আমাদের আশিস ভাই (আশিস নেহরা) যেমনটা বলেন— সব ভুলে শান্ত থাক, ছেলেদের এখন সেটাই করতে হবে, যেন পরের ম্যাচের জন্য সবাই পুরোপুরি তৈরি থাকতে পারে।'







