ক্লাব ক্যাটাগরিতেই হবে নির্বাচন

বিসিবি নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি নেই। চূড়ান্ত হয়েছে পরিচালক প্রার্থীর সংখ্যাও। অনেকে বিনা ভোটে নির্বাচিত, অনেকে অপেক্ষায় আছেন ৭ জুন ভোটাভুটির জন্য। বিসিবি নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরির লড়াই নিয়েই ক্রিকেটপাড়ায় আগ্রহ বেশি। এ ক্যাটাগরিতে ১৬ প্রার্থী থেকে আসবেন ১২ পরিচালক। মন্ত্রীপুত্র, রাজনৈতিক ব্যক্তি, ক্রীড়া সংগঠক, চিকিৎসক, সাবেক সেনা কর্মকর্তারা লড়বেন।
ক্লাব ক্যাটাগরিতেই ভোটাভুটি
এ ক্যাটাগরিতেই তামিম ইকবাল নির্বাচন করছেন ওল্ড ডিওএইচএস ক্লাবের প্রতিনিধি হয়ে। এখানে ১২ পরিচালক পদের জন্য লড়ছেন ১৬ জন। এর মধ্যে ক্রীড়া সংগঠক ধরলে সাতজন। আবাহনীর ফাহিম সিনহা, মোহামেডানের মাসুদুজ্জামান, উত্তরা ক্রিকেট ক্লাবের ফৈয়াজুর রহমান মিতু, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্সের আমজাদ হোসেন, ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের রফিকুল ইসলাম বাবু, মেরিনার্সের শানিয়ান তানিম ও তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমির সৈয়দ বোরহানুল হোসেন। তারা আগে থেকেই জড়িত আছেন ক্লাবের সঙ্গে।
মন্ত্রীপুত্র দুজন হলেন ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ। প্রথমজন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ছেলে ও দ্বিতীয়জন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে। এ ছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাসও আছেন প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এ তিনজন অবশ্য বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সদস্য।
এ ছাড়া ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল আশিক ও শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের আসিফ সিরাজ রাব্বানী (সানভি) বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাবের সাকিফ আহমেদ সালাম ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ঢাকা ওয়ান্ডারার্সের প্রতিনিধি হয়ে এসেছেন প্রফেসর ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ।
খুলনা ও বরিশালে নির্বাচন
ক্লাব নির্বাচনের পাশাপাশি খুলনা ও বরিশাল বিভাগেও নির্বাচন হচ্ছে। খুলনার দুই পদের জন্য তিন প্রার্থী হলেন— খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর শফিকুল আলম, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর শান্তনু ইসলাম ও চুয়াডাঙ্গা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর আব্দুছ ছালাম। তাদের মধ্যে শান্তনু ইসলাম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র। বরিশাল বিভাগে মিজানুর রহমান ও মুনতাসির আলম চৌধুরীর মধ্যে লড়াই হবে।
বিসিবি নির্বাচন হয় যেভাবে
বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বোর্ডে পরিচালক সংখ্যা ২৫। নির্বাচন হয় তিন ক্যাটাগরিতে। ক্যাটাগরি-১ থেকে ১০, ক্যাটাগরি-২ থেকে ১২ এবং ক্যাটাগরি-৩ থেকে ১ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এই হলো ২৩ জন, বাকি দুজন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক মনোনীত হন।
বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে আকর্ষণীয় হলো ক্লাব ক্যাটাগরি, যা ক্যাটাগরি-২ হিসেবে পরিচিত। যেখানে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ দেশের শীর্ষ ৭৬ ক্লাবের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রতিটি ক্লাব বা সংস্থা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী একজন কাউন্সিলর মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনের মাধ্যমে ১২ পরিচালক নির্বাচিত হন। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী, এবার ১২টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ প্রার্থী।
ক্লাব থেকে নির্বাচনে জয়ী পরিচালকদের মধ্য থেকেই পরে বিসিবির সভাপতি, সহসভাপতি ও বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত বা মনোনীত হন।
এ ছাড়া ক্যাটাগরি-১-এ দেশব্যাপী আঞ্চলিক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার মনোনীত প্রার্থী পরিচালক নির্বাচন করেন। এ অংশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা থেকে নির্বাচিত হন দুজন করে পরিচালক। আর সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর থেকে নির্বাচিত হন একজন করে। এ ক্যাটাগরি থেকে আসেন ১০ জন।
ক্যাটাগরি-৩-এ বিভিন্ন সংস্থা, বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র একজন পরিচালক নির্বাচিত হন।






