মেহেদীর ‘পাঁচ মাসের’ আক্ষেপ

সংগৃহীত ছবি
শেখ মেহেদী হাসানের দুঃখটা সবসময়ের। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটা ফরম্যাটে খেলতে হয় তাকে। মেনে নেওয়া ছাড়াও উপায় নেই। কম্বিনেশনের জন্য ওয়ানডে ও টেস্টে সুযোগ হয় না মেহেদীর। শুধু টি-টোয়েন্টি দলেই নাম আসে বলে জাতীয় দলে এই ক্রিকেটারের খেলার বিরতিটা বেশি। সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন পাঁচ মাস আগে। মঙ্গলবার সেই আক্ষেপ শোনা গেল মেহেদীর কণ্ঠে।
ক্রিকেটার হিসেবে মেহেদীর ভূমিকা মেহেদী হাসান মিরাজের মতোই, অফস্পিনিং অলরাউন্ডার। দুজনের তাই একসঙ্গে একাদশে থাকা কঠিন। ধরন এক হলেও পারফরম্যান্সে ভিন্নতা আছে। মিরাজ স্লো ও ফ্লাইটেড অফস্পিন করেন, একটু পুরনো ধাঁচের। কিন্তু মেহেদী জোরের ওপর বল করেন বলে ইয়র্কার দিতে পারেন বেশি, যা টি-টোয়েন্টিতে কার্যকরী। তা ছাড়া ব্যাটিংয়েও মিরাজের চেয়ে তার রান তোলার গতিা টি-টোয়েন্টি সুলভ। তাই ই ফরম্যাটে মিরাজের চেয়ে মেহেদী এগিয়ে। কিন্তু ৫০ ওভারের ফরম্যাটে আবার টিম ম্যানেজমেন্টের পছন্দটা উল্টো।
এ কারণে মেহেদীর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ সংখ্যা মিরাজের চেয়ে বেশি। কুড়ি-বিশে ৭১ ম্যাচের পরিবর্তে তার ওয়ানডের সংখ্যা মাত্র ১১টি। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালে ওয়ানডে দলে সুযোগ হয়নি মিরাজের। ওই সময় মেহেদী ছিলেন ওয়ানডে দলে নিয়মিত চয়েজ। কিন্তু ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর তার আর ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলা হয়নি।
ওয়ানডে হাতছাড়া হওয়ায় মেহেদীর জাতীয় দলে খেলাও কমে যায়। এর ওপর ২০২৬ বিশ্বকাপ মিস হওয়ায় নিয়মিত খেলা থেকে অনেকটাই দূরে চলে যেতে হয়েছে এই অফস্পিনিং অলরাউন্ডারকে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে মেহেদীর সবশেষ টি-টোয়েন্টি খেলা ছিল আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত বছর ডিসেম্বরে। আর সবশেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচও খেলেছেন তিন মাস আগে। বিশ্বকাপ মিস হওয়ায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জন্য তিন দলের সিরিজ আয়োজন করে বিসিবি। ওই সিরিজেই সবশেষ খেলা হয়েছিল মেহেদীর।
লম্বা বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেমে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া খুব কঠিন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন কাজে সফল হয়েছেন, তবুও আক্ষেপ ছিল মেহেদীর, ‘আমার জন্য ভালো করা কঠিন ছিল। আমার সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল পাঁচ মাস আগে। আর সবশেষ প্রতিযোগিমূলক ম্যাচও খেলেছি তিন মাস আগে। মাঝে শুধু অনুশীলন করে যেতে হয়েছে। এই অবস্থা থেকে ম্যাচে নেমেই ভালো করা কঠিন। তবুও আমি খুশি যে বোলিংয়ে আমি শেষদিকে দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি।’



