এবার সেই মৃৃত হাতির মাংস চুরির চেষ্টা মাটি খুঁড়ে

মাটিচাপা দেওয়ার পরেও রেহাই পায়নি লংগদুর মৃত হাতিটি। এর মাংস চুরির জন্য মাটি খুঁড়েছে দুর্বৃত্তরা। এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) ধাওয়ায় অবশ্য সফল হয়নি তারা। এ ঘটনা সোমবার মধ্যরাতের। নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান শাহ।
এর আগে রবিবার রাতে মৃত পুরুষ হাতিটির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নেয় দুর্বৃত্তরা। রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় ভাসান্যাদম এলাকার ঘটনাটি সমালোচিত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
‘হাতিটির প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ শেষে খাওয়ার অনুপযোগী করার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় মৃতদেহে ব্লিচিং পাউডার ও কেরোসিন ছড়িয়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। মাটি খোঁড়া ঠেকাতে ইআরটি সদস্যদের দিয়ে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু মধ্যরাতে একদল দুর্বৃত্ত মাটি খুঁড়ে মাংস নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইআরটির সদস্যরা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়’, বললেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা।
তিনি জানালেন, হাতির মাংসে পচন না ধরা পর্যন্ত ইআরটির সদস্যরা সেখানে পাহারা দেবেন।
এর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মৃত পুরুষ হাতিটির পাশে থাকা তার সঙ্গী হাতিটিকে তাড়ানোর জন্য স্থানীয়রা পাথর ছুড়ছে। একপর্যায়ে রাতে বৃষ্টি নামলে সরে যায় সঙ্গী হাতি। সেই সুযোগে মৃত হাতির শুঁড় ও পায়ের মাংস কেটে নেয় দুর্বৃত্তরা।
বন বিভাগ জানিয়েছে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা ও দীর্ঘদিনের সংক্রমণ নিয়ে রবিবার মারা যায় ৬০ বছরের হাতিটি। দাঁতবিহীন হাতিটিকে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের চিকিৎসকরা গত ১০ এপ্রিল পর্যন্ত নিয়মিত চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি।
‘হাতি মারা যাওয়ায় আমরা লংগদু থানায় জিডি করেছি। এর মাংস চুরির ঘটনায় আরেকটি জিডি হবে। যারা এ কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, বললেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান।



