লালবাগ দুর্গ, ১৬৭৮ খ্রিস্টাব্দ

বাংলার চার মোগল রাজধানীর মধ্যে ঢাকা তৃতীয়। কোনো কোনো শহরের একটি প্রতীক থাকে, যার উল্লেখ করলে চোখের সামনে ভেসে ওঠে সে শহর। বুড়িগঙ্গার তীরে লালবাগ দুর্গ এ ধরনেরই একটি স্থাপনা, যা মোগল সম্রাটদের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার চিহ্ন বহন করে। ১৬৭৮ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মুহাম্মদ আযম বাংলায় সুবাদার হিসেবে ঢাকা শহরে আসেন। ঢাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে এই দুর্গ নির্মাণ শুরু করেন, যার নাম রাখেন পিতার নামে ‘কেল্লা আওরঙ্গবাদ’। তবে সবাই লালবাগ এলাকার নামেই এটিকে ‘লালবাগ দুর্গ’ নামে জানে। কিন্তু পিতার ডাকে যুবরাজ আযম কাজ অসমাপ্ত রেখে দিল্লি ফিরে যান। তার পরিবর্তে ১৬৭৯ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলার সুবাদার হয়ে রাজধানী ঢাকায় আসেন শায়েস্তা খান। তিনি ১৬৮৮ সাল পর্যন্ত এ কেল্লায় অবস্থান করলেও এটির নির্মাণ সমাপ্ত করেননি। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই কেল্লার সর্বমোট ফটক রয়েছে তিনটি, যার মধ্যে দুটিই অনেক কাল ধরে বন্ধ। বাকি একটি ফটকই দর্শনার্থীর জন্য ব্যবহার উপযোগী। দুর্গের ভেতরে একটি মসজিদ, একটি হাম্মাম এবং শায়েস্তা খানের কন্যা বিবি পরীর কবরসহ আরও কিছু কবর আছে। দক্ষিণ দিকের বিশালাকার ফটকটিই ছিল প্রধান প্রবেশদ্বার। এর নিকটেই ছিল বুড়িগঙ্গা নদী। তখন নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠত সভ্যতা এবং যাতায়াত ব্যবস্থা। চার দশক ধরে ক্যামেরায় যা ধারণ করা গেছে, তা শুধুই ধ্বংসযজ্ঞ। কারণ, ক্যামেরার লেন্স শুধু ক্ষয়ক্ষতি আর ধ্বংসের সংবাদেই ভরপুর।
তথ্য ও ছবি: বাবু আহমেদ


