ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্ট

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিসিবি সভাপতি ঘোষণা দিয়েছিলেন, বিপিএল হচ্ছে না এ বছর। তবে টিকে আছে বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল। এই মডেলে চলবে ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় একটা অংশ। ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি দল থাকবে, যারা খেলবে লঙ্গার ভার্সন (বিসিএল চার দিনের ম্যাচ), বিসিএল ওয়ানডে ও এনসিএল টি-টেয়েন্টি টুর্নামেন্ট। এ সরকারের স্লোগান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’-এর ব্যানারে হবে টুর্নামেন্ট তিনটি।
এ নিয়ে বিসিবি বেশ কিছু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং কমবেশি আগ্রহ দেখিয়েছে তারাও। এ ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচিত ওয়ালটন ও বসুন্ধরা গ্রুপ। এ ছাড়া নতুন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে টিকে গ্রুপ (পুষ্টি), আনোয়ার গ্রুপ, সিটিজেন ব্যাংক, আকিজ গ্রুপ, প্রাইম ব্যাংক দল নেওয়ার দৌড়ে এগিয়ে। এগুলো ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে বিসিবির। ক্রিকেটে আগ্রহী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি শেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবে বিসিবি।
ছয় দলের জন্য ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব বিক্রি করা হবে। প্রত্যেক দলের জন্য খরচ হবে বছরে ৫ কোটি টাকা। ফ্র্যাঞ্চাইজি কেনা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ৫ কোটির মধ্যে ২ কোটি ৫০ লাখ বা ৩ কোটি টাকা দেবে। দল পরিচালনার বাকি অর্থ দেবে বিসিবি। এতে করে যদি পাঁচ মৌসুমের চুক্তি হয়, সে হিসাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের খরচ হতে পারে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এমন আর্থিক মডেলে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ দেখিয়েছে বলেই বিসিবির একটি সূত্র দাবি করেছে।
দল নিতে আগ্রহী দেশের ক্রিকেটে পরিচিত প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম মিলটন স্বাগত জানিয়েছেন বিসিবির এমন উদ্যোগকে, ‘আমরা জাতীয় লিগে ৯ বছর ছিলাম। বিসিএলেও লম্বা সময় থেকেছি। তামিম ভাই জানতে চেয়েছেন গত কয়েক মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে আমরা নেই কেন। এই চিন্তা থেকেই আমাদের আলোচনা এবং তাদের নতুন যে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের চিন্তা শেয়ার করা। আমরা খুবই সন্তুষ্ট যে, নতুন করে ক্রিকেটে এই উদ্যোগ হচ্ছে। ওয়ালটন সবসময় ক্রিকেটের সঙ্গে ছিল, নতুন করে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আনন্দিত।’
বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করা সিটিজেন ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শামস হাকিম বলেছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে বিসিবির সঙ্গে তাদের ‘হ্যান্ডশেক’ নতুন করে হবে, ‘আমরা নতুন না। আমরা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে আগেও স্পন্সর করেছি। সেখান থেকেই বিসিবির নতুন এ প্রজেক্টে দল নেওয়ার ব্যাপারে আমাদের অনুপ্রাণিত হওয়া। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আসতে পারব।’
নতুন কাঠামোয় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে তিন বছরের চুক্তি হতে যাচ্ছে বলে আগামীর সময় নিশ্চিত হয়েছে। সূত্র থেকে আরও জানা গেছে, প্রথম টুর্নামেন্ট হতে যাচ্ছে এনসিএল টি-টোয়েন্টি।
ফ্র্যাঞ্চাইজির অধিকারে কী কী থাকবে আর কতটুকু বিসিবি করবে, এসব নিয়েও দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো ড্রাফট থেকে ক্রিকেটারদের দলে নেবে। ২৫ জন ক্রিকেটারের মধ্যে কাদের কোন ফরম্যাটে খেলানো হবে সেই সিদ্ধান্ত তারা নেবে। এ ছাড়া বিসিবিরও দায়িত্ব থাকবে অনেকখানি।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির প্রধান সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেছেন, শিগগিরই ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে, ‘আমরা খুব গোছানোভাবে এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাচ্ছি। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ৯০ ভাগ সম্পন্ন। এখন আমরা বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর যারা আবেদন করবে তাদের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করব।’
২০১২-১৩ মৌসুমে চারটি অঞ্চলভিত্তিক দল নিয়ে বিসিএলের যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুরুতে প্রাইম ব্যাংক, ওয়ালটন ও ইসলামী ব্যাংক ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত ছিল। তারা সরে গেলে শেষদিকে বিসিবির অর্থায়নেই চলছিল টুর্নামেন্টটি। আবারও ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল ফিরছে ৩টি জাতীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে।







