বেসিক বোলিং-ই হাসানের সাফল্যের রহস্য

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি হাসান মাহমুদের। ছবি: ক্রিকইনফো
যেন হাসান মাহমুদ এমন কিছু ভেবেই রেখেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নামবেন আর ইতিহাস গড়বেন। ডারউইনে তেমন কিছু করেই লাল বল হাতে কীর্তিমানের মুখে গর্বের হাসি।
ডারউইনের মারারা ওভাল মাঠ থেকে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস ধসিয়ে এভাবেই হাসিমুখে ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন এই পেসার। পেছনে একাদশের বাকি সদস্যরা। তখনো ডেভিড ওয়ার্নার, মার্ক ওয়াহ, ম্যাথিউ হেইডেন, অ্যালিসা হিলি, রিকি পন্টিং, ব্রেন্ডন জুলিয়ানরা প্রশংসা বাক্যে ভাসিয়ে চলেছেন হাসানকে।
অ্যাডাম গিলক্রিস্টের দায়িত্ব ছিল ইনিংস শেষে সেরা ক্রিকেটারের কমেন্ট নেওয়া। এদিন আর কাউকে সেরার তালিকায় ঘেঁষতেও দিলেন না হাসান। ইনিংস শেষে গিলক্রিস্টকে বলেছেন এতটা ভালো করার রহস্য, ‘অস্ট্রেলিয়ায় খেলব এটা ভেবে খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম। এত বড় দল, সেরা সব ক্রিকেটারদের বিপক্ষে খেলা অবিশ্বাস্য। আমি চেষ্টা করেছি যেন নিজের সেরাটা দিতে পারি। তাই যেটা বলা হয়েছিল, বোলিং পরিকল্পনা মেনে সেই বেসিকে থেকেছি। সঠিক জায়গায় বল করা, গুড লেন্থ থেকে বাউন্স আদায় করার চেষ্টা করেছি। ভালো যে সব কাজে দিয়েছে।’
টেস্টে তৃতীয়বার ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার পথে সত্যিই নিখুঁত ছিলেন হাসান। ১৭ ওভারের বোলিংয়ে ৪৪ শতাংশ ফেলেছিলেন গুড লেন্থে। সেখান থেকেই তার ৫ উইকেট এসেছে। আর শেষে শর্ট লেন্থে বল করেও পরাস্ত করেন স্টিভেন স্মিথকে। মোট ৫৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট। হাসানের এই সাফল্যের পেছনে ইংলিশ কাউন্টির অবদানও আছে। এমন কন্ডিশনে বল করার কিছুটা হলেও শিখে এসেছেন গত মাসে ইংলিশ কাউন্টিতে কেন্টের হয়ে খেলতে গিয়ে।
হাসান বলেছেন, ‘কেন্টের হয়ে খেলা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। সেখান থেকেও বেশ কিছু শিখেছি। আশা করি সামনেও কেন্টের হয়ে খেলা চালিয়ে যেতে পারব।’ ভুল বলেননি এই পেসার। সেপ্টেম্বরে কেন্টের হয়ে আরও চারটি লম্বা ফরম্যাটের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন।
লাল বল হাতে হাসান দুর্দান্ত এ নিয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। সাবলীল ও সহজ বোলিং অ্যাকশনের কারণে সহজেই বল দুই দিকে সুইং করাতে পারেন। সেই পারদর্শিতা কাজে দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ায় নিজের কৃতিত্ব দেখানোর আগে ভারত ও পাকিস্তানে টেস্টে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান। নাহিদ রানার অভাব ভুলিয়ে এখন অস্ট্রেলিয়ানদের মনে নিজের নামে ভয়ের সঞ্চার করেছেন হাসান।
তার কৃতিত্বে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার ২০০ করার আগেই মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট অস্ট্রেলিয়া। লাল-সবুজদের সঙ্গে টেস্টে তাদের দলীয় সর্বনিম্ন রানের কীর্তি। এর আগেরটি ছিল ২০১৭ সালের ২১৭।




