হারের পরও লড়াইয়ের তৃপ্তি

সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এটা নিছক ফলাফল, তবে মাঠের লড়াইয়ে বাংলাদেশ এঁকেছে অন্য ছবি। লড়াইয়ের ছবি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে আগের ম্যাচে যে দলটা লড়াই করতে ভুলে গিয়েছিল, তারা যেন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অন্ধকারের চাদর সরিয়ে আবার জেগে উঠেছে। গোল খেয়ে ভেঙে পড়ার বদলে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ঝাঁপিয়েছে, সুযোগ সৃষ্টি করেছে আর তাতেই খেলাটা আবার দুই দলের হয়ে উঠেছে এবং খানিকটা সৌন্দর্য ফুটেছে বৈকি।
হারা দলের সৌন্দর্য খোঁজার উপায়ওবা কী! বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি এভাবেই সান্ত্বনা খুঁজছেন, ‘দল যেভাবে আজ ফুটবল খেলেছে তাতে আমি খুশি। শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল ফুটবল খেলা এবং দেখানো যে, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি। যদিও আমরা জয় চেয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবতাও বুঝতে হবে যে আমরা কার বিপক্ষে খেলছি। লড়াইটা সহজ নয়, কিন্তু আজ আমরা সমানতালে লড়াই করেছি। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ার মতো লিগগুলোর স্তর ভিন্ন, যা তাদের খেলায় স্পষ্ট দেখা যায়।’
আমেরিকান কোচও স্বীকার করে নিচ্ছেন, আগের ম্যাচে তার দল ফুটবল খেলেনি। এর দায় অবশ্য নিতে হবে ডুলিকেই। মালয়েশিয়াকে এমন বিশ্বসেরার পর্যায়ে তুলে নিয়ে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন নিজের দলের মধ্যেই। তার ফল ছিল ৩-০ গোলে হার। এরপর সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জয়ের লক্ষ্যের কথা বলায় ফুটবল খেলতে পেরেছেন হামজা-রাকিবরা। শুরু থেকেই তাদের শরীরী ভাষা ছিল ইতিবাচক। বল দখলের লড়াই করেছে। তবে বড় খুঁত ছিল রক্ষণ সংগঠনে, যা আগের ম্যাচেও দেখা গেছে স্পষ্টভাবে। তাই সন্দেহ হচ্ছে, শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেলতে আসার আগে রক্ষণভাগ নিয়ে কি ঠিকমতো কাজ হয়েছিল! তারিক-জিদান-জায়ানের রক্ষণ ফাঁকি দিয়ে সিঙ্গাপুরের ফরোয়ার্ডরা পৌঁছে যাচ্ছিল গোলের কাছাকাছি। ৩৩ মিনিটের মধ্যেই গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ দু-দুটি দুর্দান্ত সেভ না করলে আগেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ।
৩৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে শ্রাবণের প্রতিরোধ। বাঁদিক থেকে উড়ে আসা ক্রসে লক্ষ্যভেদ করেন স্টুয়ার্ট। তিনি ছিলেন একেবারেই আনমার্কড, তিনি খানিকটা দৌড়ে হেড করেন আর তার পেছনে পড়ে থাকেন ৩৬ বছর বয়সী জামাল ভূঁইয়া। অনেক দিন পর সংবাদ সম্মেলন করার পাশাপাশি একাদশে খেলার সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। আগে ছিলেন সংবাদ সম্মেলনের অধিনায়ক। সেই দুর্নাম খানিকটা ঘুচলেও মাঠের পারফরম্যান্স কী, সেটা একটা প্রশ্ন।
বাংলাদেশের খেলার উন্নতি দেখা গেছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৬৪ মিনিটে শমিত সোমের হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে যাওয়ায় গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। বিশেষ করে বলতে হবে রাকিব হোসেনের কথা, ডানদিক দিয়ে এই উইঙ্গার কয়েকবার বল নিয়ে উঠলেও ফিনিশ করার মতো কেউ ছিলেন না বক্সে। বাংলাদেশের নাম্বার নাইনের যে অভাব সেটা প্রকট হয়ে ওঠে এ ম্যাচেও। এর মধ্যে অনেক বিদেশি নিয়ে এলেও সেন্টার ফরোয়ার্ড পজিশনের কেউ নেই। ফারহান আলীকে ওই পজিশনের জন্য চিন্তা করা হলেও গতকাল তাকে একাদশেই রাখেননি কোচ।
এরপরও থমাস ডুলির তৃপ্ত, ‘সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে আমরা ফুটবল খেলতে পেরেছি এবং শেষ ২০ মিনিটে গোল করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে হয়তো ফল আমাদের পক্ষে আরও ইতিবাচক হতো। শমিতের চমৎকার একটি সুযোগ ছিল, সে হেড মিস করেছে, তবে খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা খুব ভালো ছিল। তাই যেমনটা বলেছিলাম, গত ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের এমন প্রতিক্রিয়ায় আমি খুশি। আমরা ১১ জন খেলোয়াড় নিয়েই লড়েছি, আগের ম্যাচের মতো নয়। সবাই বুঝতে পেরেছে যে, লড়াই করলে এবং প্রতিপক্ষকে বেশি জায়গা না দিলে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি।’
এ লড়াইয়ের গল্পে বড় অভাব একজন অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের। এ অভাব রাতারাতি পূরণ হওয়ারও নয়। এরপরও বাংলাদেশের এ আমেরিকান কোচের স্বপ্নে সাফ শিরোপা, ‘শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষেও আমরা কিছু শিখতে পারব, যা সাফ শিরোপা জয়ে ভূমিকা রাখবে।’ আগামী নভেম্বরে ঢাকায় হবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ।



