স্টাের্কর বোলিং দেখেই দুর্ধর্ষ শরিফুল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শরিফুল ইসলামের বোলিং রানআপ ফলো করেছিলেন কি? অনেকটা মিচেল স্টার্কের মতো। মোস্তাফিজুর রহমানকে বোলিং আইডল হিসেবে দেখা শরিফুলের দেশের বাইরে পছন্দের বোলার স্টার্ক। চেষ্টা করেন অজি পেসারের মতো সুইং করাতে।
দেশের বাইরে যাকে ‘গুরু’ মানেন সেই বোলারের মুখোমুখি হয়েছিলেন প্রথমবার। আর প্রথমবারেই শরিফুলের ‘গুরু-মারা বিদ্যায়’ কুপোকাত স্টার্কের অস্ট্রেলিয়া। স্টার্কের ৬ উইকেটের সঙ্গে মিল রেখে নিজেও নিয়ে নিলেন ৬ উইকেট। যেন গুরুকে দেখিয়ে দেওয়া— আপনার পদাঙ্ক অনুসরণ করছি! ৩৫ রানে ৬, টেস্টে যা শরিফুলের সেরা বোলিং, প্রথমবার ইনিংসে ৫ উইকেট বা তারও বেশি নিয়েছেন।
দেশে অনেকেই শরিফুলকে ‘বাংলাদেশের স্টার্ক’ বলেন। এ পেসারের ভালোই লাগে উপাধিটা। কারণ বলেছেন নিজেই, ‘একেকজনের তো একেকরকম বোলিং অ্যাকশন। আমার তাকে (স্টার্ক) খুব ভালো লাগে। দেশে মোস্তাফিজ ভাই তো আইডল আর বাইরে তাকে (স্টার্ক) ভালো লাগে। বিশেষ করে সুইং ও পেসের দিক থেকে তাকে অনুসরণ করি। আজকে (গতকাল) তার সঙ্গে (বিপক্ষে) খেলতে পেরেছি। এটা ভালো লেগেছে।’
ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিন অজি পেসারের প্রায় সব বল ফলো করছিলেন। স্টার্ক কোন লেন্থে বল ফেলছেন, কোন জায়গায় বাউন্স বেশি পাচ্ছেন, কোন এন্ড থেকে বল করে বাতাস কাজে লাগিয়ে সুইং পাচ্ছেন— সব কিছু। ‘গুরু’ থেকে সেসব শিক্ষা কাজে লাগিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে সফল হয়েছেন শরিফুল।
ইনজুরি থেকে ফিরেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের সেরা বোলিংয়ের রহস্য শরিফুল বলেছেন এভাবে, ‘অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পেসাররা সবসময় ভালো করে, এটা জানা ছিল। স্টার্ক যখন সকাল থেকেই ভালো করছিলেন, আমি তা লক্ষ করেছি। বিশেষ করে কোন লেন্থে বল ফেলছেন। কোন জায়গা থেকে বাউন্স আদায় করছেন, এই দিকগুলো নজরে রেখেছিলাম।’
দেখেই শিখেছেন শরিফুল। গত বছর এপ্রিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে দলে ফিরেছিলেন ৪৯৩ দিন পর। সুযোগটাও পেয়েছিলেন কাকতালীয়ভাবে। খেলার কথা ছিল মোস্তাফিজুর রহমানের। অথচ ম্যাচের দিন সকালেই ইনজুরিতে পড়েন ফিজ। কপাল খুলে যায় শরিফুলের।
ওই সুযোগের আগে শুধু টি-টোয়েন্টি দলেই শরিফুলকে দেখা যেত। ফেরার সিরিজে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন দলের বাইরে থাকা সময়ে কাজ করেছেন বোলিং নিয়ে। সিম পজিশন কাজে লাগানো, বাতাস কাজে লাগিয়ে সুইং আদায় করার কৌশল শিখেছেন।
সেসব শিক্ষা কাজে লাগিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সিরিজে তিন ম্যাচে পেয়েছিলেন ৫ উইকেট। এ ছাড়া পরের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুরে এক ম্যাচেই তুলে নেন ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট। ওই ম্যাচের পর আবারও অস্ট্রেলিয়াকে পেয়ে ৬ উইকেট তুলে নিলেন শরিফুল।
দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াই করা বাকি বাংলাদেশের। শরিফুল জানালেন, ৬৪ রানে অলআউট হওয়াকে বাজে দিন ধরে নিয়ে সামনে তাকাচ্ছে দল। দ্বিতীয় ইনিংস পুরোটাই নিজেদের করে নিতে চান শরিফুলরা।
সংবাদ সম্মেলনে বারবার ওই বার্তাই দিচ্ছিলেন বাংলাদেশ পেসার। নিজেদের প্রথম ইনিংসের পরও ড্রেসিংরুমে ‘ম্যাচ এখনো শেষ হয়ে যায়নি’ বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। সেই বার্তাকে ধারণ করেই শরিফুল দ্বিতীয় ইনিংসে সেরা পারফর্ম করে ম্যাচে ফিরিয়েছেন দলকে। এবার পারফরম্যান্সের ব্যাটন ব্যাটারদের হাতে দিতে চান।
শরিফুল বলেছেন, ‘এটা শুধু আমাদের একটা খারাপ দিন ছিল না। ওরাও সংগ্রাম করছে। দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়াব। এখনো গেমের ভেতরে আছি। চেষ্টা করব সেকেন্ড ইনিংসের সুযোগটা ব্যবহার করতে।’
শরিফুলের মন্ত্রে জেগে উঠলে সফল হওয়া সম্ভব। ব্যাটাররা ম্যাকাইতে দ্বিতীয় ইনিংসে ফিরিয়ে আনতে পারবেন ডারউইনকে। লিটন দাস অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এখনো টেস্ট রান পাননি, দুই ইনিংসেই শূন্য। দলকে কিছু দেওয়ার দায় আছে তার। সঙ্গে আরও দু-একটি ভালো ইনিংস হলে আবারও ম্যাচ জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করতে পারবে বাংলাদেশ।
তার আগে দ্বিতীয় দিন সকালে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার দুই উইকেট তুলে নিতে হবে। সেই কাজটা না হয় শরিফুলের জন্যই তোলা থাকল।






