এটাই মরিনহোর রিয়াল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
উড়ছিল বার্সেলোনা। লা লিগায় টানা ৯ জয় পেয়েছিল ৩৯ গোল করে। সেখানে রিয়াল মাদ্রিদের শুরুটা বেশ নড়বড়ে। প্রথম ৯ ম্যাচের দুটিই হার, গোল শুধু ২৩টি। কিন্তু দলটির নাম তো রিয়াল, যারা বড় মঞ্চে সবসময় ভয়ংকর। জোসে মরিনহোর মাস্টারক্লাসে বার্সাকে তাদের ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ২-১ গোলে হারিয়ে, সেই মানসিকতার প্রমাণ দিল আরও একবার। জোড়া গোল করে রিয়ালের জয়ের নায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ক্যাম্প ন্যুতে লিগে টানা ২৩ ম্যাচ জয়ের পর বার্সার প্রথম হার এটি। তাদের অহংকার গুঁড়িয়ে ২০২১ সালের পর ক্যাম্প ন্যুতে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল রিয়াল। জোসে মরিনহো রিয়ালের ডাগআউটে প্রথম মেয়াদে এল ক্লাসিকোয় হারেননি টানা পাঁচ ম্যাচ। সেই সংখ্যাটি নিয়ে গেলেন ছয়ে। তবে বার্সাকে মাটিতে নামিয়েও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন না মরিনহো, ‘এটা দারুণ জয়, কিন্তু আমি কাউকে অতিরিক্ত আত্মতুষ্ট হতে দেব না। এখানে জিতে যদি এল সারদিনেরোয় গিয়ে হেরে যাই, তাহলে এ জয়ের গুরুত্ব একই থাকবে না। রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাম্প ন্যুতে জেতার জন্য খেলে না। রিয়াল মাদ্রিদ খেলে শিরোপা জিততে।’
৬২ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৮টি শট নিয়ে ছয়টি লক্ষ্যে রেখেছিল বার্সেলোনা। রিয়ালের ১০ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল। এমবাপ্পে দুই গোল করেছেন ৪১ ও ৮৭ মিনিটে। রিয়ালের হয়ে গোলের সেঞ্চুরি পূর্ণ হয় তার। সব মিলিয়ে ১১৬ ম্যাচে শততম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। বার্সার হয়ে ৬১ মিনিটে এক গোল ফেরান রাফিনিয়া। পিএসজির পর রিয়ালের কাছে হেরে বাস্তবতা বুঝল বার্সা। নিজেদের হার নিয়ে বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিক বললেন, ‘দুটি হার হতাশার হলেও এটিকে রিয়্যালিটি চেক বলব না। প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলিনি, কিন্তু সমতা ফেরানোর পর উন্নতি হয়েছিল। আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। রিয়াল আমাদের খুব বেশি জায়গা দেয়নি। সেভিয়ার পথে তিন ঘণ্টা বিমানে থাকা, হোটেলে ফেরা, এরপর প্যারিসে যাওয়া— এগুলো অনেক কিছু। জেতার সময় এগুলো বলা ভালো, হারের পর বলতে চাই না।’
গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ায় হঠাৎ সুযোগ পান আন্দ্রে লুনিন। ৬৫ মিনিটে জেরার্দ মার্তিনের হেড থেকে বার্সাকে নিশ্চিত গোলবঞ্চিত করেন ইউক্রেনের এ গোলরক্ষক। ডানদিকে ঝাঁপিয়ে করেন অসাধারণ সেভ। বিরতির আগেও এক হাতে দারুণ একটি সেভ করেছিলেন তিনি।
পিএসজি ও রিয়ালের হয়ে বার্সেলোনার বিপক্ষে ১১ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন এমবাপ্পে। এর ১১টিই ক্যাম্প ন্যুতে। ম্যাচে শেষে ‘মুভিস্টার’-এ এমবাপ্পেকে আসল নেতা বলে প্রশংসায় ভাসালেন রিয়াল ও আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা হোর্হে ভালদানো, ‘প্রযুক্তিগত নেতা, আবেগপ্রবণ নেতা, সামাজিক নেতা— সবারই নেতৃত্ব দেওয়ার নিজস্ব ধরন আছে। যিনি (এমবাপ্পে) প্রতি ম্যাচে একটি করে গোল করেন, তিনি কীভাবে নেতা না হয়ে পারেন।’



