বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অগ্রনায়ক আকরম খাঁ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বছর দশেক আগে মুস্তাফা নূরউল ইসলাম বলেছিলেন, আমাদের দেশে আজ সাংবাদিকতার যে বিস্ফোরণ, তার যাত্রা শুরু ঢাকার ঢাকেশ্বরী রোডের দৈনিক আজাদ অফিস থেকে। পত্রিকাটির সম্পাদক বাংলাদেশের সাংবাদিকতার অগ্রনায়ক মোহাম্মদ আকরম খাঁ শুধু সাংবাদিকতা নয়; জনমত সংগঠনে, মুসলিম বাংলার রেনেসাঁ আন্দোলনে, সাহিত্য রচনায়, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে, ধর্ম ভাবনায় নতুন প্রাণপ্রবাহ সঞ্চারে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছিলেন।
সাংবাদিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন ‘আহল-ই-হাদিস’ ও ‘মোহাম্মদী আখবার’ পত্রিকায়। ১৯০৮ থেকে ১৯২১ সালের মধ্যে পত্রিকা দুটির সম্পাদকও হন তিনি। ১৯২০ থেকে ১৯২২ সালের মধ্যে তিনি কলকাতা থেকে ‘জামানা’ ও ‘সেবক’ নামে দুটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। ‘সেবক’ অসহযোগ ও স্বদেশী আন্দোলনকে সমর্থন জোগায়। সে সময় ‘সেবক’ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং সরকারবিরোধী সম্পাদকীয় লেখার জন্য আকরম খাঁ গ্রেপ্তার হন। ১৯৩৬ সালের অক্টোবরে তিনি ওই সময়ের একমাত্র বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘আজাদ’ প্রকাশ করেন, কলকাতা থেকে। ১৯৪৮ সালের পর নিয়মিত প্রকাশ হয়েছে ঢাকা থেকেই। ভাষা আন্দোলনে ও মুক্তিযুেদ্ধ আজাদ বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল।
তার অক্লান্ত পরিশ্রমের সুবাদে বাংলার মুসলিমদের ঘরে ঘরে আজাদের কদর বেড়েছে
শুরুতে আজাদ বাংলার মুসলিম সমাজের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরির দিকে মনোযোগী ছিল। সংবাদের মান ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন এনে আজাদকে একটি প্রথম শ্রেণির দৈনিকে পরিণত করতে তার অক্লান্ত পরিশ্রমের সুবাদেই বাংলার মুসলিমদের ঘরে ঘরে তখন আজাদের কদর বেড়েছে।
আকরম খাঁ তার রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের একজন সমর্থক হিসেবে। বাঙালি মুসলমানদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করা ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৯১৮ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত তিনি খিলাফত ও অসহযোগ আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯২০ সালে খিলাফত কমিটির সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী আকরম খাঁ ১৯২২ সালে কলকাতায় দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের স্বরাজ পার্টি এবং ১৯২৩ সালে ‘বেঙ্গল প্যাক্ট’-এর প্রতি সমর্থন জানান। একসময় স্বরাজ পার্টি ও কংগ্রেস উভয় দলে আস্থা হারিয়ে ১৯২৯ সালে কৃষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৩৫ সালে বঙ্গীয় প্রজা সমিতিতে অনৈক্য দেখা দিলে কৃষক রাজনীতি ত্যাগ করে মুসলিম লীগে যোগ দেন। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত মুসলিম লীগের সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ভারত বিভাগের পর আকরম খাঁ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান চলে আসেন এবং মুসলিম লীগের রাজনীতি চালিয়ে নিতে থাকেন। ১৯৫২ সালে মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর গুলিবর্ষণের প্রতিবাদে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যপদ ত্যাগ করেন। এবং প্রথম শহীদ মিনার আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করেন। ১৯৫৪ সালের ২৪ অক্টোবর পাকিস্তানের গভর্নর-জেনারেল মালিক গোলাম মুহাম্মদ প্রথম গণপরিষদ ভেঙে দিলে আকরম খাঁ প্রত্যক্ষ রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান।




