সংকটকালেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দিয়েছেন আতাউস সামাদ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
১৯৫৬ সালে সচিত্র সন্ধানীতে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হয় আতাউস সামাদের। ১৯৫৯ সালে তিনি দৈনিক আজাদ পত্রিকায় সাব-এডিটর নিযুক্ত হন, ১৯৬১ সালে একই পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন। পাকিস্তান অবজারভার পত্রিকায় যোগদান করেন ১৯৬২ সালে। প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন ১৯৬৯ সালে। পূর্ব পাকিস্তান ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টের (ইপিইউজে) সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
১৯৭০-৭১ সময়কালে করাচির ‘দ্য সান’ পত্রিকার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ব্যুরো চিফের দায়িত্ব পালন করেন আতাউস সামাদ। স্বাধীনতার পর তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় (বাসস) যোগ দিয়ে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি (১৯৭২-১৯৭৬) নিযুক্ত হন। আতাউস সামাদ ‘বাংলাদেশ টাইমস’-এর বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৭৮ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
বঙ্গবন্ধু ও ভাসানীর মধ্যে বিভিন্ন সময় যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন
এরপর ১৯৮২ সাল থেকে টানা ১২ বছর বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস নিউজের বাংলাদেশ সংবাদদাতা ছিলেন আতাউস সামাদ। এ ছাড়া সাপ্তাহিক এখন পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে আতাউস সামাদ দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় উপদেষ্টা-সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং আমৃত্যু এ পদে বহাল ছিলেন। উপদেষ্টা-সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০৭ সালে বেসরকারি টেলিভিশন ‘এনটিভি’র নির্বাহী প্রধান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষকের দায়িত্বও পালন করেন।
আতাউস সামাদ রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন না করলেও রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী ছিলেন। তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম প্রতিবেদক আতাউস সামাদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মধ্যে বিভিন্ন সময় যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে সাংবাদিক হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ভারত থেকে দেশে ফেরার পথে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিমান-সঙ্গী ছিলেন। সে সেময় তিনি বঙ্গবন্ধুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি আতাউস সামাদ সাংবাদিকদের দাবি আদায়ের সংগ্রামেও নিজেকে যুক্ত করেছেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আজীবন লড়াই করে গেছেন। বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক আতাউস সামাদ স্বৈরাচার আইয়ুব খানের সামরিক শাসন, স্বৈরাচার ইয়াহিয়া খানের গণহত্যা, ১৯৭৫-এ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা জরুরি অবস্থাসহ সব রকম সংকটময় পরিস্থিতিতে নিরলসভাবে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করেছেন।
১৯৯২ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি।




