ক্ষুধা থেকে ক্ষমতায়নের পথে বাংলাদেশের যাত্রা

ক্ষুধার ভূেগালে ঘুরপাক খাওয়া বাংলাদেশের অনিবার্য বিধিলিপি নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশও দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামের মতো ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে তার আগে চাই রাজনৈতিক সদিচ্ছা, মানবসম্পদের উন্নয়ন
২০৫০ সালের কোনো এক বিকালে পাবনার চাটমোহর উপজেলার একটি হাটে দাঁড়িয়ে বোঝা কঠিন এটি শুধু কৃষিপণ্যের বাজার, নাকি একটি বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক কেন্দ্র। বাজারের পাশ ঘেঁষে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ, দূষণমুক্ত বড়াল নদী দিয়ে দেশে তৈরি ছোট ছোট ইঞ্জিনচালিত কার্গো নৌকায় আসছে সবজি, ফল আর প্রক্রিয়াজাত পণ্য; ঘাটে নেমেই সেগুলো চলে যাচ্ছে স্থানীয় গুদাম ও ডিজিটাল লজিস্টিক নেটওয়ার্কে। কাছেই ছোট একটি কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা, যেখানে আশপাশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নদীপথে ছোট কার্গো নৌকায় আসছে কাঁচামাল। আর একটু দূরে গড়ে উঠেছে একটি ডিজিটাল ওয়ার্কিং হাব; যেখানে তরুণ-তরুণীরা (তরুণীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ) ল্যাপটপে বসে বৈশ্বিক সেবা খাতে যুক্ত। কেউ করছে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কেউ ডেটা অ্যানালাইসিস বা বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছে, আবার কেউ অনলাইন শিক্ষা ও কনসালট্যান্সি সেবার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সংযুক্ত। গ্রামের এক পাশে আছে আধুনিক একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, যেখানে টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, জরুরি সেবার জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি আর স্থানীয় মানুষের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা। সড়ক, নদীপথ ও ডিজিটাল সংযোগ এমনভাবে একীভূত হয়েছে যে, শহর-গ্রামের পার্থক্য আর স্পষ্ট নয়। এখানে কৃষি, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত একসঙ্গে মিলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে উন্নয়ন মানে সবার জন্য সুযোগ, সবার জন্য সক্ষমতা।
২০৫০ সালে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে কল্পনা করলে এ রকম একটি আত্মবিশ্বাসী, সক্ষমতানির্ভর এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির রাষ্ট্রের ছবি ভেসে ওঠে, যেখানে উন্নয়ন শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের জীবনমান, উৎপাদনশীলতা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার মধ্যে একটি সুষম সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। এই ভবিষ্যৎ কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়ার ফল, যার ভিত্তি গড়ে উঠেছিল ক্ষুধা, দুর্ভিক্ষ এবং বেঁচে থাকার মৌলিক প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের একটি গভীর বাস্তববাদী উপলব্ধির মাধ্যমে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের এই পথচলার শুরু ছিল গত শতাব্দীর ৭০-এর দশকের মাঝামাঝিতে। যখন মানুষ মৌলিক অস্তিত্ব রক্ষায় খাদ্যনিরাপত্তা, পুষ্টি, টিকাদান, স্যানিটেশন এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিস্তার এমন একটি সামাজিক বাস্তবতা তৈরি করে, যেখানে মানুষ আর প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ধীরে ধীরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করে। এই ভিত্তি তৈরির গুরুত্ব বোঝা যায়, যখন আমরা দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাথমিক উন্নয়ন পর্যায় বা ভিয়েতনামের কৃষিভিত্তিক পুনর্গঠন দেখি, যেখানে খাদ্য ও মানবসম্পদের মৌলিক উন্নয়ন ছাড়া শিল্পায়নের পথ সুগম হয়নি। বাংলাদেশও একই শিক্ষা থেকে বুঝেছিল, ক্ষুধার্ত ও অক্ষম জনগোষ্ঠী কোনো উন্নয়ন কৌশলের অংশ হতে পারে না; তাই প্রথমে মানুষের ন্যূনতম সক্ষমতা নিশ্চিত করাই ছিল রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা।
ইতিবাচক ২০৫০ অনিবার্য গন্তব্য নয়; এটি নির্ভর করবে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। যদি অবকাঠামো উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, শিল্পনীতি শর্তহীন পৃষ্ঠপোষকতায় পরিণত হয়, তাহলে এই সম্ভাবনা ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে
এই মৌলিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে একটি নীরব কিন্তু গভীর সামাজিক বিপ্লব ঘটে নারীর শিক্ষা বিস্তার, কর্মসংস্থানে প্রবেশ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ একসঙ্গে সমাজের ক্ষমতার কাঠামোকে পুনর্গঠন করে। মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি বৃদ্ধি, মাধ্যমিক স্তরে উপবৃত্তি, তৈরি পোশাক খাতে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং ক্ষুদ্রঋণ ও এনজিওভিত্তিক কার্যক্রম নারীদের ঘরের ভেতর থেকে অর্থনৈতিক পরিসরে নিয়ে আসে। এর ফলে শুধু শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বাড়েনি; পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য— এমনকি প্রজন্মান্তরের সামাজিক মানসিকতাতেও পরিবর্তন এসেছে। অমর্ত্য সেনের Capability Approach অনুযায়ী, এই পরিবর্তনকে শুধু আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় না; এটি মানুষের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এবং নিজের জীবনপথ নির্ধারণের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে। একই সঙ্গে Feminist Economics দেখায় যে, নারীর অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি একটি Multiplier Effect তৈরি করে, যেখানে নারীর আয় সরাসরি শিশুদের পুষ্টি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ হয়। এই অভিজ্ঞতা ভিয়েতনাম এবং চীনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, যেখানে গ্রামীণ ও শিল্প খাতে নারীর অংশগ্রহণ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক আধুনিকায়নকে ত্বরান্বিত করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়াটি একটি গভীর ‘Social Transformation’ তৈরি করেছে, যা ২০৫০ সালের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি।
নারীর এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে সমান্তরালে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে ওঠে, যা উন্নয়নের একটি স্থিতিশীল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। ৮০-এর দশকের শুরুতে কৃষিতে উচ্চফলনশীল বীজ, সেচব্যবস্থা, বাজার সংযোগ এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে ও গ্রামীণ আয়ের একটি ধারাবাহিক প্রবাহ নিশ্চিত করে। এই প্রক্রিয়া চীনের প্রাথমিক গ্রামীণ সংস্কার বা ভিয়েতনামের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির অভিজ্ঞতার সঙ্গে তুলনীয়, যেখানে কৃষি খাত শুধু খাদ্য নিরাপত্তাই নিশ্চিত করেনি, বরং শিল্পায়নের জন্য উদ্বৃত্ত শ্রম ও পুঁজি তৈরি করেছে। বাংলাদেশেও কৃষি খাত একটি ‘shock absorber’ হিসেবে কাজ করেছে অর্থনৈতিক সংকট, মহামারী বা বৈশ্বিক মন্দার সময় এটি গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে। একই সঙ্গে কৃষির সঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোগ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, গ্রামীণ বাজার এবং নারীর অংশগ্রহণ মিলিয়ে একটি বহুমুখী গ্রামীণ অর্থনীতি তৈরি হয়েছে, যেটি ২০৫০ সালের বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে শক্তিশালী করবে।
পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হয় সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎ, বন্দর এবং ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে সংযুক্ত করে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায়। এই প্রক্রিয়া চীনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে অবকাঠামোকে শিল্পায়নের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং মালয়েশিয়া, ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও একইভাবে বৈশ্বিক উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই অবকাঠামো উন্নয়ন উৎপাদন ব্যয় কমিয়েছে, রপ্তানি সক্ষমতা বাড়িয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে অর্থনৈতিক সংযোগ জোরদার করেছে, যার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশে ২০৫০ সালের মধ্যে ইতিবাচক অর্থনৈতিক চিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সংযুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। তৈরি পোশাক খাত দিয়ে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংযুক্তি বহুমুখী রূপের পথে অগ্রসর হচ্ছে। লাইট ম্যানুফ্যাকচারিং, ইলেকট্রনিকস অ্যাসেম্বলি, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং আউটসোর্সিং খাত বিস্তৃত হচ্ছে। এই রূপান্তর মালয়েশিয়া এবং তাইওয়ানের পথের সঙ্গে মিল রাখে, যেখানে দেশটি নিম্নমূল্যের শ্রমনির্ভর উৎপাদন থেকে ধীরে ধীরে উচ্চমূল্যের শিল্পে অগ্রসর হয়েছে। বাংলাদেশের প্রাথমিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা ছিল স্বল্প মজুরির শ্রম ও বৃহৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী; কিন্তু ২০৫০ সালের সফল বাংলাদেশ এই সুবিধাকে নিশ্চিতভাবেই দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনে রূপান্তর করতে পারবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার উন্নয়ন অভিজ্ঞতার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য তৈরি করে।
বাংলাদেশের উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা হলো দুর্যোগ মোকাবিলায় তার সক্ষমতা। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজ একটি অভিযোজনক্ষম কাঠামো তৈরি করেছে, যা ২০৫০ সালের বাংলাদেশে এসে একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হবে। জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শুধু প্রাণহানি কমায়নি, বরং একটি নতুন ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও তৈরি করেছে, যেখানে বাংলাদেশ জলবায়ু অভিযোজন ও সহনশীলতার ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতৃত্ব দিতে সক্ষম।
এই ধারাবাহিক উন্নয়নের ফলে ২০৫০ সালের বাংলাদেশে সার্ভিস সেক্টর একটি নতুন অগ্রযাত্রার পথ তৈরি করবে, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা রপ্তানি— এসব খাতে বাংলাদেশের মানবসম্পদ একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদে পরিণত হবে বলে আশা করা যেতেই পারে। এখানে ভারতের অভিজ্ঞতা একটি তুলনামূলক দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করে, যেখানে মানবসম্পদকে ব্যবহার করে একটি শক্তিশালী সার্ভিস অর্থনীতি গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ এই পথকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে গ্রহণ করে, যেখানে শহর-গ্রাম বিভাজন ধীরে ধীরে কমে আসে এবং ডিজিটাল সংযোগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ বিদ্যমান।
এই পুরো রূপান্তরের কেন্দ্রে ছিল একটি কার্যকর রাষ্ট্র, যা একদিকে স্বায়ত্তশাসিত, অন্যদিকে সমাজ ও বাজারের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। পিটার ইভান্সের Embedded Autonomy ধারণার আলোকে বলা যায়, বাংলাদেশ এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে আছে, যা বাজারকে নিয়ন্ত্রণ না করে পরিচালনা করে, এলিটদের দ্বারা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত না হয়ে নীতি নির্ধারণ করে এবং একই সঙ্গে সমাজের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। একই সঙ্গে অমর্ত্য সেনের Capability Approach এখানে বাস্তব রূপ পায়, যেখানে মানুষ শুধু জীবিত থাকে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সুযোগের মাধ্যমে নিজের জীবনকে উন্নত করার সক্ষমতা অর্জন করে।
তবে এই ইতিবাচক ২০৫০ কোনো অনিবার্য গন্তব্য নয়; বরং এটি নির্ভর করবে রাষ্ট্রের নীতিগত ধারাবাহিকতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর। যদি রাষ্ট্র তার স্বায়ত্তশাসন হারায়, যদি অবকাঠামো উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, যদি শিল্পনীতি শর্তহীন পৃষ্ঠপোষকতায় পরিণত হয় এবং ক্রোনি ক্যাপিটালিজম শক্তিশালী হয়ে ওঠে, তাহলে এই সম্ভাবনা ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। একইভাবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং দক্ষতা উন্নয়নে ব্যর্থতা নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ২০৫০ সালের এই ইতিবাচক বাংলাদেশ অর্জনের জন্য প্রয়োজন হবে একটি নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক চুক্তি, যেখানে উন্নয়ন মানে শুধু ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং মানুষের উচ্চতর সক্ষমতা, উৎপাদনশীলতা এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা।
লেখক: প্রাবন্ধিক





