আমাদের ফুটবলের প্রথম সুপারস্টার সালাউদ্দিন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
মাঠের মাঝখান থেকে বল কেড়ে নিয়ে যখন তিনি বিপক্ষের রক্ষণভাগ চিরে বিদ্যুৎগতিতে এগিয়ে যেতেন, গ্যালারিতে হাজার হাজার দর্শক সমস্বরে চিৎকার করে উঠতেন ‘সালাউদ্দিন সালাউদ্দিন’।
বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে কিছু নাম সময়ের সঙ্গে মিশে গেছে। কাজী সালাউদ্দিন সেরকমই একটি নাম। বাংলাদেশের ফুটবলে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি।
১৯৫৩ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার একটি প্রজন্মের স্বপ্নদ্রষ্টা। সালাউদ্দিনকে অনেকেই বাংলাদেশের প্রথম ‘সুপারস্টার’ ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করেন।
জাতীয় দলের হয়ে তার অভিষেক ১৯৭৩ সালে। স্ট্রাইকার হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। দীর্ঘ সময় তিনি ছিলেন দেশের আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে খেলার পর তিনি আবাহনী ক্রীড়া চক্রে যোগ দেন। সেখানেই গড়েন এক স্মরণীয় ক্যারিয়ার।
লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় নিয়মিত ছিলেন সালাউদ্দিন
গোল করার ক্ষেত্রে সালাউদ্দিনের ধারাবাহিকতা তাকে আলাদা পরিচিতি দেয়। তার সময়ে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় থাকতেন নিয়মিত। তার আরেকটি বড় অর্জন হলো, বিদেশের ক্লাবে খেলা। তিনি হংকংয়ের ক্যারোলিন হিল এফসি ক্লাবে খেলেছেন। দেশের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিদেশি লিগে খেলার কীর্তি গড়েন সালাউদ্দিন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি প্রশাসনে আসেন। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং টানা ১৬ বছর এ পদে থাকেন। তার সময়ে দেশের ফুটবল কাঠামো কিছুটা গুছিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। নিয়মিত লিগ আয়োজনের পাশাপাশি নারী ফুটবলের উন্নয়নে কিছু উদ্যোগও নেন তিনি। তার সময়েই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ ফিফা র্যাংকিংয়ে পৌঁছায়।
২০০১ সালে তিনি স্বাধীনতা পুরস্কার লাভ করেন। কাজী সালাউদ্দিন মানেই বাংলাদেশের ফুটবলের সেই সোনালি দিন, যেখানে মাঠভরা দর্শক আর উত্তেজনার পারদ ছিল তুঙ্গে।
এ সবকিছুর মধ্যেই সালাউদ্দিন বাফুফেতে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব ধরে রাখেন। তবে ২০২৪ সালে তিনি আর পঞ্চম মেয়াদের জন্য নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর মাধ্যমে শেষ হয় তার দীর্ঘ প্রশাসনিক অধ্যায়।
সব মিলিয়ে সালাউদ্দিন বাংলাদেশের ফুটবলে এক গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে আলোচিত চরিত্র। মাঠের নায়ক থেকে প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা তার এই যাত্রা, দেশের ফুটবল ইতিহাসের এক বড় অংশ হয়ে থাকবে।




