নিউজ
রান্না করি, গেটও পাহারা দিই

ছবি: আগামীর সময়
সাধারণ চোখে প্রতিবেদক প্রতিবেদন লেখেন, আর পত্রিকায় ছাপা হয়– বিষয়টি এমন মনে হতে পারে; কিন্তু একটি সংবাদ লেখার পর থেকে ছাপাখানায় যাওয়ার আগপর্যন্ত থাকে আরও অনেক ধাপ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সংবাদ সম্পাদনা। এ কর্মযজ্ঞ চলে সেন্ট্রাল ডেস্কে। তাই এই ডেস্ককে অনেকে তুলনা করেন রান্নাঘরের সঙ্গে। প্রতিবেদকেরা তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন, গুছিয়ে দেন, বিষয়টি অনেকটা বাজার করার মতো। আর সহসম্পাদকরা সেগুলো আরও গুছিয়ে, চমৎকার একটি শিরোনাম দিয়ে ছাপার উপযোগী করে তোলেন; যা রাঁধুনির রান্না করার সমতুল্য। আবার কোনো ভুল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ যেন ছাপা না হয়, সেটি খুব সতর্কতার সঙ্গে খেয়াল রাখার দায়িত্ব সামলানোর কারণে সেন্ট্রাল ডেস্কের কর্মীদের সংবাদের পাহারাদারও বলা হয়।
সেন্ট্রাল ডেস্কের সার্বিক নেতৃত্ব দেন বার্তা সম্পাদক। তিনি শুধু সেন্ট্রাল ডেস্কেই সীমাবদ্ধ নন; বার্তা বিভাগের কাজের সমন্বয় সাধন এবং তদারকের পাশাপাশি সংবাদ-সংক্রান্ত সব সংস্করণের পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্বও তার। ‘আগামীর সময়’-এ এই দায়িত্বে আছেন জুয়েল মোস্তাফিজ। অবশ্য তার দাবি, সেন্ট্রাল ডেস্কের সবাই বার্তা সম্পাদক। তার চাওয়া– সব ধরনের কাজেই সবার সংশ্লিষ্টতা থাকুক; প্রতিফলিত হোক সব মাত্রার মতামত।
যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আবু নোমান সজীব অনলাইন আর কাগজ– দুই জায়গায়ই সমানতালে সামলে চলেছেন দায়িত্ব। আরেক যুগ্ম বার্তা সম্পাদক শামীম জোয়ার্দার আন্তর্জাতিক খবরাখবর করেন এবং করান। তিনি অবশ্য সহকর্মীদের কাছে নাম পেয়েছেন শামীম জমিদার! আছেন খালিদ হাসান নিয়াজ। তিনিও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক। এতই কম কথা বলেন, ফলে তিনি অফিসে আছেন কি না, মাঝেমধ্যে বোঝা মুশকিল।
উপবার্তা সম্পাদক রাকিব হাসান একই সঙ্গে অভিজ্ঞ, দক্ষ আর ষোলোআনা পেশাদার। আছেন সহকারী বার্তা সম্পাদক শেখ ইফফাত হোসেন। চেষ্টা করেন সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখার। তবে সেটা যে সহজ নয়, সেই উপলব্ধির পরে মাঝেমধ্যেই তার কাঁধে ভর করে হতাশার ভূত! সিরাজুম মুনিরা নীরা এই ডেস্কের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক। কাজকে যে তিনি ভয় পান না, সে প্রমাণ মাঝেমধ্যেই দেন। তবে অহেতুক ছোটখাটো ঝামেলাকে ভয় পান ভীষণ রকমের। বিষয়টি কুমির শিকারির টিকটিকিকে ভয় পাওয়ার মতোই!
জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক লায়লা নওশীন সবার চেয়ে আলাদা। ছোট-বড় সবার প্রতি তার অসীম শ্রদ্ধাবোধ। আছে নতুন করে কোনো কিছু বোঝার আর শেখার তাগিদ। আরেক জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, যেকোনো সংবাদ খুব দ্রুত প্রকাশযোগ্য করার ক্ষেত্রে যার জুড়ি মেলা ভার। সহসম্পাদক জুয়েল হাসান জনি। কথা বলেন মেপে মেপে। এক সহকর্মী তার নাম দিয়েছেন ‘কথা কৃপণ’। কাজের ক্ষেত্রে অবশ্য উদার। সহসম্পাদক ফারহানা চৈতি, অনলাইন ও প্রিন্ট– দুই জায়গাতেই কাজ করেন। সারাক্ষণ আছেন ছোটাছুটির মধ্যে। সিনিয়ররা তার নাম দিয়েছেন ‘চড়ুইপাখি’। আফিয়া মাসউদা, শিক্ষানবিশ সহসম্পাদক। এখনো শিক্ষার্থী-শিক্ষার্থী ভাব যায়নি। বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছাড়া ওঠেন না আসন থেকে। ডেস্কের সবচেয়ে সিনিয়র ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি মোতাহার বুলবুল। জ্যেষ্ঠ কপি সম্পাদক। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতার ছাপ যেমন তার সম্পাদনায় পড়ে, তেমনি কর্মপরিবেশেও।




