সাবেক এনসিপি নেতা মুনতাসির মাহমুদ
এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ৭০ শতাংশের জুলাইয়ে অবদান নেই

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব মুনতাসির মাহমুদ দাবি করেছেন, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির ৭০ শতাংশ সদস্যের জুলাই আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য কোনো অবদান ছিল না। তাসনিম জারাকে ঘিরে দলটির কিছু নেতাকর্মীর সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে মুনতাসির মাহমুদ এনসিপির নেতৃত্ব, জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন নেতার ভূমিকা এবং তাসনিম জারাকে ঘিরে চলমান বিতর্ক নিয়ে কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, এনসিপির কিছু নেতাকর্মী প্রশ্ন তুলছেন, জুলাই আন্দোলনের সময় তাসনিম জারা কোথায় ছিলেন এবং তার কী অবদান ছিল। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হচ্ছে, এনসিপি তাকে সারা দেশে পরিচিত করেছে, কিন্তু ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল না হওয়ায় তিনি দলটির সঙ্গে বেঈমানি করেছেন।
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, এনসিপিতে ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাকর্মী রয়েছেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা পরিষদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তাসনিম জারার পক্ষে অবস্থান নিয়ে মুনতাসির মাহমুদ বললেন, তিনি আগে থেকেই পরিচিত একটি মুখ। একজন অক্সফোর্ড গ্র্যাজুয়েট, চিকিৎসক এবং জনপ্রিয় নারী হিসেবে তার নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতা ছিল। তাই তার রাজনৈতিক পরিচিতিকে কেবল এনসিপির অবদান হিসেবে দেখাটা সঠিক নয়।
তার মতে, জুলাই আন্দোলনে সরাসরি মাঠে না থাকলেও কেউ রাজনীতি করার অধিকার হারান না। বরং ওই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল শিক্ষিত ও যোগ্য মানুষদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা।
মুনতাসির মাহমুদ উল্লেখ করেন, এনসিপির হয়ে তাসনিম জারা সারা দেশে প্রচারণা চালিয়েছেন, দলকে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রেখেছেন এবং রাজনৈতিক আক্রমণ ও ব্যক্তিগত অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন। ফলে দলটির প্রতি জনআকর্ষণ তৈরিতে তার অবদান অস্বীকার করা উচিত নয়।
এনসিপির বর্তমান নেতৃত্বেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার অভিযোগ, দল সম্প্রসারণের পরিবর্তে কিছু নেতা নিজেদের ঘনিষ্ঠদের নিয়ে বলয় তৈরি করেছেন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কোণঠাসা করেছেন।
নির্বাচনী ফলাফল প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন মুনতাসির মাহমুদ। তার দাবি, বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থনের বাইরে থেকে নির্বাচন করে তাসনিম জারা যে ভোট পেয়েছেন, তা মূলত তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রতিফলন।
মুনতাসির মাহমুদ বলছেন, তাসনিম জারার সঙ্গে তার আদর্শগত মিল না থাকলেও তিনি তার নৈতিক অবস্থানকে সমর্থন করেন। তার মতে, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য অবস্থান পরিবর্তনের চেয়ে নিজের অবস্থানে অটল থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।






