চরিত্র
আঁতোয়ান যখন ত্রুফোর দ্বিতীয় সত্তা

দ্য ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ। চলচ্চিত্রকার: ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো
অল্টার ইগো বা ‘দ্বিতীয় সত্তা’। চলচ্চিত্রে কোনো চরিত্রের দ্বিতীয় সত্তা কিংবা বিকল্প পরিচয় গ্রহণ অর্থে ব্যবহৃত হয়। আত্মজৈবনিক চলচ্চিত্রে অনেক সময় চলচ্চিত্রকাররা নিজেকেই কাল্পনিক চরিত্রের আদলে অল্টার ইগো হিসেবে ব্যবহার করেন। বিশ্ব চলচ্চিত্রে এর দুর্দান্ত উদাহরণ আঁতোয়ান দোয়ানেল। ফ্রেঞ্চ নিউ ওয়েভের অন্যতম অগ্রদূত ফ্রাঁসোয়া ত্রুফোর বিখ্যাত আত্মজৈবনিক অল্টার ইগো চরিত্র এটি।
‘আঁতোয়ান দোয়ানেল’ সার্কেলে চারটি পূর্ণদৈর্ঘ্য ও একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র বানিয়েছেন ত্রুফো। প্রতিটিতেই এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যঁ-পিয়েরে লিও। মজার ব্যাপার হলো, তাকে ত্রুফো বেছে নিয়েছিলেন রাস্তা থেকে। লিও দেখতেও ত্রুফোর মতো। প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ফিল্ম ‘দ্য ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ’-এ (১৯৫৯) অভিনয়ের সময় তার বয়স ছিল ১৪ বছর। এখানে আঁতোয়ান চরিত্রটি ত্রুফোর ১২ বছর বয়সকে ফুটিয়ে তুলেছে। এরপর ৩২ মিনিট সময়ব্যাপ্তির ‘আঁতোয়ান অ্যান্ড কোলেতি’ (১৯৬২) এবং বাকি তিন পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘স্টোলেন কিসেস’ (১৯৬৮), ‘বেড অ্যান্ড বোর্ড’ (১৯৭০) ও ‘লাভ অন দ্য রান’ (১৯৭৯)-এর সময় লিওর বয়স ছিল যথাক্রমে ১৮, ২৪, ২৬ ও ৩৫ বছর।
শুরুতে শুধু নিজের জীবনের ওপর আলোকপাত করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আঁতোয়ান চরিত্রে লিওর জীবনকেও জুড়ে দিতে শুরু করেছিলেন ত্রুফো। সিনেমার দুনিয়া অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছিল কৈশোর থেকে যৌবনে পৌঁছানো এই চরিত্রের আরও বয়স বাড়ার। ১৯৮৪ সালে ত্রুফোর অকালপ্রয়াণে সেই সম্ভাবনার যবনিকা ঘটলেও আঁতোয়ান এখনো বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম দাপুটে অল্টার ইগো হিসেবে বিবেচিত হয়।




