মানিক পশারীর লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানালেন নাহিদ

সংগৃহীত ছবি
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সব নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ সোমবার রাতে ফেসবুক পোস্টে এই আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম।
যেকোনো মানুষের জানাজা পড়া ও লাশ দাফনের অধিকার ন্যূনতম মানবিক ও ধর্মীয় অধিকার উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ করা যাবে না; বরং ফ্যাসিবাদের বিপরীতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অতীতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এই ন্যূনতম অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছিল। মুজিববাদী ফ্যাসিস্টরা শহিদ মিনারে পিয়াস করিম ও আল মাহমুদের লাশ আনতে দেয়নি এবং সাধারণ জনগণকে শ্রদ্ধা জানাতে দেয়নি। বিরোধী দলের অনেক নেতার জানাজাও ঢাকায় করতে দেওয়া হয়নি। অথচ গণঅভ্যুত্থানের পরে ঢাকায় তোফায়েল আহমেদ এবং একেএম রহমতুল্লাহর মতো আওয়ামী লীগ নেতাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সংসদীয় রীতি অনুযায়ী শোক প্রকাশও করা হয়েছে।
সাঈদীর মামলার সাক্ষী মানিক পশারীর কবর খুঁড়লেন স্ত্রী-কন্যা, দাফন প্রশাসনের সহায়তায়
২৫ অক্টোবর ২০২৬
নাহিদ লিখেছেন, ‘মানবাধিকার নিয়ে যারা আজ সোচ্চার, তাদের অনেকেই দীর্ঘ ষোল বছর নীরব ছিলেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়ের পর দেশজুড়ে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের সময় ঢাকার বহু মানবাধিকারকর্মী চুপ ছিলেন। মানবাধিকারের প্রশ্ন এলে সেই সব হত্যারও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে লাশের ওপর নৃত্যউল্লাস, কবর ভাঙচুর এবং জানাজা পড়তে না দেওয়াকে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত করার সংস্কৃতি দেখা গেছে। এমনকি এখনও শহিদ ওসমান হাদীর কবর উৎখাত করার সম্মতি উৎপাদনের মতো ঘটনাও ঘটছে।
এতকিছুর পরেও ফ্যাসিবাদের পথ অনুসরণ না করার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির নেতা লিখেছেন, ফ্যাসিবাদের বিপরীতে প্রকৃত ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং সব মানুষের মানবিক অধিকার রক্ষায় অবিচল থাকতে হবে।




