রাশেদ খাঁন
সচিবালয় ঘেরাও কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ইতিবাচক নয়

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা— ইনসেটে রাশেদ খাঁন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন দাবি করেছেন, সচিবালয় ঘেরাওয়ের মাধ্যমে জামায়াত ও এনসিপির নেতৃত্বাধীন ৯ দলীয় জোট প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের একটি ‘র্যাডিক্যাল ফোর্স’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। তার মতে, ক্ষমতায় যাওয়ার লক্ষ্য থাকা কোনো প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিতে যায় না।
আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, সচিবালয় রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এটিকে নিরাপদ রাখা দেশ ও জাতির স্বার্থে প্রয়োজন। সরকারি কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি দেখানোর উদ্দেশ্যে সচিবালয় ঘেরাও কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে না।
তিনি দাবি করেন, জামায়াত ও এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যই নেতিবাচক হয়েছে। এর ফলে প্রশাসন ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে, এই জোট ক্ষমতায় এলে সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের একযোগে চাকরি থেকে সরিয়ে দিতে পারে।
রাশেদ খাঁন আরও দাবি করেন, পুলিশ ও প্রশাসন কঠোর অবস্থান না নিলে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সচিবালয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারতেন। তার আশঙ্কা, দেশকে অস্থিতিশীল করতে ভবিষ্যতেও জামায়াত-শিবির আরও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি নিতে পারে।
ভবিষ্যতে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগেরও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে— মনে করেন রাশেদ খাঁন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সতর্ক ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা হন। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার পরই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। পরে সেখানেই সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান।







