আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেরা গোল করা কাবরালের প্রেমিকা এখন আলোচনায়

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুর্দান্ত এক গোল করে আলোচনায় এসেছেন কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার সিডনি লোপেস কাবরাল। তবে গোলের চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে তাঁর ব্যতিক্রমী উদযাপন। এরইমধ্যেই টুর্নামেন্টের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্তে পরিণত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে সেই দৃশ্য।
রাউন্ড অব ৩২-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে আটকে রেখে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক দেখায় কেপ ভার্দে। পরে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ে ২-২ সমতা ফেরানোর পর উচ্ছ্বাসে আত্মহারা হয়ে কাবরাল সরাসরি গ্যালারিতে ছুটে যান তাঁর প্রেমিকা জেইলি দা ক্রুজকে খুঁজতে। কিন্তু তখন তিনি সেখানে ছিলেন না। নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ, ম্যাচ কর্মকর্তা, এমনকি রেফারিও তাঁকে মাঠে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরাও বিস্মিত হয়ে পুরো ঘটনাটি দেখছিলেন। কারণ এত দীর্ঘ সময় উদযাপন করার পরও কাবরাল কোনো কার্ড দেখেননি।
বেশকিছু সময় ধরে চলা এই নাটকীয় উদযাপনের পর অবশেষে জেইলি দা ক্রুজ সেখানে পৌঁছান। এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এই আবেগঘন দৃশ্য মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কাবরালের গোল শেষ পর্যন্ত কেপ ভার্দেকে জয় এনে দিতে পারেনি। ম্যাচের ফল তাদের পক্ষে না গেলেও নিজের গোল ও ব্যতিক্রমী উদযাপনের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন।
ম্যাচ শেষে জেইলি দা ক্রুজ নিজের সামাজিক মাধ্যমে কাবরালের গোলের ভিডিও শেয়ার করে লেখেন, আমি জীবনে কখনও এতটা গর্ব অনুভব করিনি।
জেইলি দা ক্রুজ পেশায় একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তিনি কমিউনিকেশন অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্সেস বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং কাবরালের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন। এই ঘটনার পর দুজনেরই সামাজিক মাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ছে। জেইলির অনুসারী বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই লাখ। আর কাবরালের অনুসারী সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ লাখ ছাড়িয়েছে।
ম্যাচ শেষে কাবরাল বললেন, আমি তখন কী করছিলাম, নিজেই জানতাম না। এমন একটি টুর্নামেন্টে এমন গোল করব, কখনও কল্পনাও করিনি। আমরা আরও ভালো ফল পাওয়ার যোগ্য ছিলাম। দুঃখজনকভাবে সেটা হয়নি। তবে আমরা চার বছর পর আবার ফিরে আসব।
কেপ ভার্দের হয়ে খেললেও সিডনি লোপেস কাবরালের জন্ম নেদারল্যান্ডসে। গোলের পর প্রেমিকাকে খুঁজে গ্যালারিতে ছুটে যাওয়ার এই ব্যতিক্রমী উদযাপনের কারণে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই তাঁকে ‘দ্য লাস্ট রোমান্টিক’ নামে আখ্যায়িত করছেন।





