দাবি কাদেরের
অনলাইনে নোংরামির জন্য শিবির ফোর্স আকারে এদের মাঠে নামায়

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম DU insider পেইজের অ্যাডমিনকে দিয়ে ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে নোংরামি শুরু করেছেন বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। সামাজিক মাধ্যমে এই দাবির পক্ষে বেশকিছু প্রমাণ হাজির করেছেন আব্দুল কাদের।
আব্দুল কাদের নিজের ফেসবুক পেইজে লিখেছেন, ‘এই অমানুষটার নাম ফয়সাল, ঢাবি ১৮-১৯ সেশন। DU insider পেইজ এর মূল কারিগর। ৫ আগস্টের পরে সর্বপ্রথম এই পেইজ থেকে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনলাইনে নোংরামি আর মিথ্যা সব তথ্য ছড়ানো হয়। ফয়সাল শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত, আরো জড়িত ছিল ক্যাম্পাসে নারী কেলেঙ্কারির সাথেও। যেটা তার পরিচিত সবাই কম-বেশি জানে।’
কাদের বলছেন, ‘মূল বিষয় হচ্ছে শিবির পরিকল্পিতভাবে এই ফয়সালদেরকে দিয়ে রাজনীতিতে নোংরা সংস্কৃতি চালু করেছিল। অনলাইনে সংঘবদ্ধ ফোর্স আকারে এদেরকে মাঠে নামিয়ে দিয়েছিল। কার্য হাসিলের জন্য সব ধরনের পৃষ্ঠপোষকতা করেছিল অমানুষের দল শিবির। সরাসরি সাদিক কায়েমের যোগসাজশে এই ফয়সাল এসব কাজ করেছে পূর্ণোদ্যমে। নিচের ছবিতে সাদিকের সাথে ফয়সালের কথোপকথন দেখলেই বুঝতে পারবেন।’
অসংখ্য ব্যাক্তির চরিত্র হনন করেছে এভাবে। এমনই অভিযোগ সাবেক এই সমন্বয়কের। কাদেরের দাবি, ‘আমরা বারবার করে অভিযোগ করে আসছিলাম, শিবির অনলাইনে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ব্যক্তির ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, নারীদের অনলাইনে বুলিং, স্লাট-শেমিং এর মতো ভয়ংকর নোংরা স্ট্র্যাটিজি নিয়ে ৫ আগস্টের পরে মাঠে নেমেছে। আবিদ ভাই, বাকের, উমামা, মানছুরা আপা, মেঘ'দা, শামীমসহ অসংখ্য অগণিত মানুষের চরিত্র হনন করে তাঁদের ব্যক্তি এবং সামাজিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।’
কাদেরের জীবনকেও দুর্বিষহ করে তুলেছিল এই চক্র। এমনটাই জানিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন কাদের, ‘এই ফয়সালরা আমাকে নিয়ে কী না করছে! আমার পরিবার, আমার মা পর্যন্ত এদের নোংরামি থেকে রেহাই পায়নি। তখনকার কথা মনে পড়লে আমি এখনো আঁতকে উঠি। আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারতাম না, রাতে হুটহাট জেগে যেতাম, লিটারেলি কাঁপতে শুরু করতাম। আমার ব্যক্তি-সামাজিক জীবন এই অমানুষের দলেরা অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। কিন্তু আমার অপরাধটা কি ছিল? আমি কেবল ওদের কৃত অন্যায়ের বিরুদ্ধে বলেছিলাম, তথ্যপ্রমাণ সহকারে। আমি চাই নাই, আবার দেশ-দেশের রাজনীতি জুলাইয়ের আগের কালচারে ব্যাক করুক। কিন্তু ওরা সেসবের যুক্তিখণ্ডন না করে সংঘবদ্ধভাবে চরিত্র হনন করে আমাকে দমানোর বৃথা চেষ্টা করেছিল। অথচ আমি এই অমানুষদের প্রতি ইনসাফ কায়েম করতে গেছিলাম। এদেরকে সামনে এনে জায়গা করে দিছিলাম!’
ফয়সালের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা। বললেন, ‘কথাগুলা খুব কষ্টের জায়গা থেকে বলা, আমরা কী চেয়েছিলাম আর ওরা কি করলো! এই ফয়সালকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনতে হবে, সাথে ফয়সালের পৃষ্ঠপোষকদেরকেও, অমানুষের দলের নেতৃস্থানীয়দেরকেও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যাতে করে অন্যরা শিক্ষা নেয়, সুষ্ঠু রাজনীতির কালচার বিনির্মাণে বাঁধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে।’
ফয়সালের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে পেইজটি যুক্ত। সে প্রমাণও কাদের দেখিয়েছেন।



